কওমি শিক্ষার স্বীকৃতি ও দেশের শিক্ষা

আপডেট: জুলাই ১৯, ২০১৭, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ

শাহ মো. জিয়াউদ্দিন


সম্প্রীতি সরকার কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে-ই- হাদিস ডিগ্রিকে ¯œাতকোত্তর ডিগ্রি সমমানের মর্যাদা দিয়েছেন। তাই  প্রশ্ন উদ্রেক হয় অন্য স্তরে নিয়ে অর্থাৎ দাওরায়ে-ই- হাদিসে র্ভতি হওয়ার জন্য একজন শিক্ষার্থী কী ডিগ্রি অর্জন করবেন। বাংলাদেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় সাধারণত আমরা জানি, একজন শিক্ষার্থী ¯œাতক পাসের পর ¯œাতকোত্তর ডিগ্রীতে ভর্তি হন। ¯œাতক পাসের শিক্ষা কারিকুলামের যোগ্যতানুসারে ¯œাতকোত্তর কোর্সে একজন শিক্ষাথী ভর্তি হয়ে থাকে। আর ¯œাতক পর্যায়ের অধ্যয়নের শিক্ষা  কারিকুলাম যা থাকে তা ইউজিসি কর্তৃক নির্ধারিত সুচকের ভিত্তিতে তৈরি হয়। দাওরায়ে-ই হাদিসকে যদি ¯œাতকোত্তর ডিগ্রি দেয়া হয় তাহলে এই কোর্সে ভর্তির হওয়ার জন্য যে ডিগ্রিটি অর্জন করতে হবে বা যে শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে তা কী ¯œাতক সমতুল্য বা সমমান হবে, নাকি ভিন্ন কিছু? আমাদের দেশে যারা কওমি শিক্ষা কোর্স পরিচালনা করছেন তারা বলছেন শুধু মাত্র দাওরায়ে-ই- হাদিসকে ¯œাতকোত্তরের সমমান দিলেই তাদের চলবে। কওমি মাদ্রাসার সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থায় সরকারে কী মনিটরিং থাকবে তাও পরিস্কার হওয়া দরকার। দেশের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট এবং আন্ডার গ্র্যাজুয়েট স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থার  সার্বিক দেখাশুনা করার জন্য ইউজিসি রয়েছে। দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলিও কী ইউজিসির অন্তর্ভুক্ত হবে, নাকি এখানে ভিন্নতরের উচ্চশিক্ষা স্তর হবে তা ষ্পষ্ট হওয়া দরকার। সম্প্রতি শিক্ষা বিষয়ক এক এনজিও আয়োজিত সেমিনারে শ্রোতা ছিলাম, সেমিনারটি ছিল  অপপড়ঁহঃধনরষরঃু ভড়ৎ ঝউএ৪ ধহফ পরঃরুবহ ঢ়ধৎঃঃরপরঢ়ধঃরড়হ ঝঃধহফ ঁঢ় ভড়ৎ বফঁপধঃরড়হ ; ঃরসব ঃড় ফবষরাবৎ। অনেক বিজ্ঞ ব্যক্তিই উপস্থিত ছিলেন। আমি উন্মুক্ত আলোচনায় ( যা শ্রোতাদের জন্য ) কিছু বলার সুযোগ পাই। আমি কওমি শিক্ষার দাওরায়ে-ই- হাদিসের পুর্ববর্তী শিক্ষার যে ধাপগুলি আছে তার জবাবদিহিতা কী রকম হবে সে বিষয়টি নিয়ে কর্মশালার আয়োজকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করি। কিন্তু সেমিনারটিতে উল্লিখিত বিষয়টি আলোচনায় আসে নাই। সরকারি অনুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কওমির বিষয গুলি কী পড়ানো হয় তাও আলোচনায় আসে নাই। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে যে শিক্ষা কারিকুলাম পড়ানো হয় তাতে হাদিস, আল কোরানসহ অন্যান্য ইসলামিক বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত। তাই কওমি মাদ্রাসাগুলি যে শিক্ষা, ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে দিচ্ছেন বা দিবেন তা যথারীতি চালু আছে দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায়। উচ্চ মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ¯œাতক পর্যায়েও ইসলামিক স্টাডিজ পড়ানো হয়। একজন শিক্ষার্থী দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে ¯œাতক সম্মান, ¯œাতকোত্তর এবং এমফিল, পিএইডি নিয়ে দার্শনিক, গবেষক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সম্যক ধারণা না নিয়ে যারা শিক্ষা ব্যবস্থা মান বাড়ানোর জন্য আলোচনা করছেন তাতে করে কী শিক্ষা ব্যবস্থা  মানসম্মত হয়ে যাবে। ধপপড়ঁহঃধনরষরঃু ড়ভ বফঁপধঃরড়হ বলবেন অথচ তার স্তর ভিত্তিক জবাদিহিতার বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন না তাহলে কী আদৌ মানসম্মত শিক্ষার জন্য অ্যাডভোকেসি করা হচ্ছে। তাছাড়া সেমিনারটির ধারণাপত্রে উল্লেখ করা আছে ঊহংঁৎব রহপষঁংরাব ধহফ বয়ঁরঃধনষব য়ঁধষরঃু বফঁপধঃরড়হ ধহফ ঢ়ৎড়সড়ঃব ষরভবষড়হম ষবধৎহরহম ভড়ৎ ধষষ তাহলে কওমি শিক্ষা ব্যবস্থাটাকে মূল ধারার শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন করাটা কী ঠিক, নাকি প্রচলিত শিক্ষা বোর্ড এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে আওতাধীন আনা দরকার। দেশে এনজিওরা সার্বিক শিক্ষার মান সম্পর্কে এ ধরনের সেমিনারে আয়োজন করছে তাতে কি শিক্ষার মান বাড়ছে?
কওমি শিক্ষাকে প্রাচীনতম শিক্ষা হিসাবে হেফাজতের নেতৃবৃন্দ আখ্যা দিচ্ছেন। তবে বাংলাদেশের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যে কওমি শিক্ষা কতটুকু প্রাচীন তাও বিচার্য বিষয়। উপমহাদেশে কওমি শিক্ষা কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ১৮৬৬ সালে। ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার দেওবন্দ নামক স্থানে আল জামেয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম দেওবন্দ নামে। বর্তমানে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তানে কওমি মাদ্রাসা বহুল প্রচলিত। উপমহাদেশের পাশাপাশি বিশ্বের অনেক দেশেও এখন কওমি মাদ্রাসার প্রচলন শুরু হয়েছে। দেশের কওমি মাদ্রাসার সংশ্লিষ্ট এবং শিক্ষার্থীদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনের শুরুতে ধারণা দেয়া হয়, পার্থিব সুযোগ-সুবিধার জন্য এই শিক্ষা নয়। এলমে দ্বীন অর্জন ও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আর ইসলাম প্রচারের জন্য এই শিক্ষা গ্রহণন।  কওমি মাদ্রাসায় ভর্তির কোন নিদির্ষ্ট বয়স সীমা নেই।
কওমি মাদ্রাসার শব্দের গোড়াপত্তন হয় কওম শব্দ থেকে। কওম আরবি শব্দ এর বাংলায় সমার্থক অনুবাদক শব্দ হলো, গোষ্ঠি, গোত্র, জাতি, বা সম্প্রদায়, জনগণ, আর এই অর্থ ধরে কওমি সমার্থক বাংলা শব্দ হয়. গোত্রীয়, জাতীয়, জনগণ সম্পর্কিত। কওম এবং কওমি শব্দ দুইটি উর্দু এবং ফারসি ভাষায় একই অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। মাদ্রাসাও আরবি শব্দ যার বাংলা করলে অর্থ দাঁড়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তাই কওমি মাদ্রাসার বাংলা অর্থ নানাভাবে বলা যায় যেমনÑ গোত্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা  সম্প্রদায়গত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা  জনগণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান  বা জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে। তাই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রমের উপর নির্ভর করবে তার যথার্থ বাংলা নামকরণ কি হওয়া উচিত? তবে কোনো কওমি মাদ্রাসার নাম বাংলা শব্দ দিয়ে নামকরণ করা হয়েছে বলে আমার জানা নাই। তবে উপমহাদেশে ভেতরে এবং বাইরে এ ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাধারণত দারুল উলুম বা দেওবন্দি মাদ্রাসা নামে পরিচিত। বাংলাদেশে কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার আওতাধীন সারা দেশে কি পরিমাণ মাদ্রাসা আছে, কতজন শিক্ষার্থী সেগুলোতে অধ্যয়ন করছে তার সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া কষ্ট কর। কারণ কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত হয় না। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি  পরিচালিত হয় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দান অনুদানে। সাধারণত মাদ্রাসাগুলোর আর্থিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় শিক্ষার্থীর বেতন ( তবে দরিদ্র শিক্ষার্থীর বেতন নেয়া হয় না) বিভিন্ন জনের চাঁদা, কোনো প্রতিষ্ঠানের অনুদান, দান-খয়রাত, জাকাত, ফিতরা, মানত, সাদকা, কুরবানি পশুর চামড়া সংগ্রহসহ এ জাতীয় উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করার মাধ্যমে। দেশে কিছু কিছু কওমি মাদ্রাসা বিদেশি অনুদানে পরিচালিত হয় বলে জানা যায়। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে জানা যায়, মাদ্রাসার সংখ্যার সঠিক তথ্য না থাকলেও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট ২০১৩ তে বলা হয়েছে সারা দেশে ১৫ হাজার মাদ্রাসা রয়েছে। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যন ব্যুরোর (ব্যানবেইস) এর ২০১৫ সালের তথ্য মতে সারাদেশে কওমি মাদ্রাসার সংখ্যা ১৩ হাজার ৯০২ টি তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, সারাদেশে কওমি মাদ্রাসার সংখ্যা ২০ হাজারের কম না। বেনবেইসের তথ্যানুসারে  শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৪ লাখ আর সংশ্লিষ্টদের দাবি ২০ লাখের উপরে। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যন ব্যুরো (ব্যানবেইস) ২০০৮ সালে “কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা” নামে একটি সমীক্ষা চালায়। এই সমীক্ষার জন্য তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে ব্যানবেইস বাধার মুখে পড়ে। মাদ্রাসাগুলো নিজেরা তথ্য দিতে অপরাগতা জানায়। ব্যানবেইস দেশের সবচেয়ে বড় কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ঢাকার বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ  বেফাক এর কাছ থেকে তথ্য নিয়ে তাদের সমীক্ষা রিপোর্ট তৈরি করে। ওই বোর্ডের দেয়া তথ্যানুযায়ী দেশে পাঁচ হাজার ২০০ কওমি মাদ্রাসায় আনুমানিক ১৪ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। একটি দূতাবাসের সংগৃহিত তথ্যানুযায়ী বলা হয়, দেশে কওমি মাদ্রাসার সংখ্যা ২৩ থেকে ৫৭ হাজার। মাদ্রাসাগুলোতে প্রায়  দুই লাখের মত মানুষ কর্মরত রয়েছেন। মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষকদের জন্য কোন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নাই তাছাড়া বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকও নাই। সারাদেশের কওমি মাদ্রাসার মধ্যে রয়েছে শিক্ষা সমন্বয়হীনতা। সারাদেশের সকল কওমি মাদ্রাসাগুলিতে একই ধরনের শিক্ষা সিলেবাস শ্রেণি অনুসারে এক নয়। মাদ্রাসাগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একাধিক শিক্ষা বোর্ড। দেওবন্দ মাদ্রাসার অনুকরণে চালু হওয়া কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার  প্রায় ১৫ হাজার মাদ্রাসার উপর কারো কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। নেই অনুসরণীয় পাঠক্রম। শিক্ষা বোর্ডগুলির পরস্পর সমন্বয় না থাকায় একীভুত কওমি শিক্ষার ব্যবস্থাও নেই রয়েছে পাঠ্যসুচির  ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসার শিক্ষার মাধ্যম মূলত হলো উর্দু। বাংলাদেশে দেওবন্দের অনুকরণে যে মাদ্রাসাগুলো চালু আছে তারাও উর্দু মাধ্যমে ইসলামিক শিক্ষাদান করে। কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা কারিকুলামে সাধারণত আল কোরান, হাদিস, তাফসির, ফিকাহ, কালাম, আরবি সাহিত্য, উর্দু ও ফার্সি অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসায় দেওবন্দ মাদ্রাসার সিলেবাস অনুযায়ী যে কিতাবগুলো পড়ানো হয় সে গুলো উর্দু ভাষায় রচিত। তাই কওমিতে অধ্যয়নরত সকল শিক্ষার্থীদের উর্দু শিখতে হয়। আসলে বিষয়টা কী দাঁড়ায়? যে কোনো একটি প্রক্রিয়ায় উর্দুকে এদেশের শিক্ষার মাধ্যম হিসাবে অনুপ্রবেশ ঘটানো হচ্ছে। যদি ধর্মীয় মতে অর্থাৎ ইসলাম ধর্মের বিষয় গুলো ধমর্অয় ভাষায় শেখানো প্রয়োজন হয় তাহলে আরবিতে নয় কেন। পবিত্র কোরান শরীফ নাজিল হয়েছে আরবি ভাষায় আর সকল হাদিস আরবিতে গ্রন্থিত। উর্দুতে না পড়িয়ে উল্লিখিত হাদিসের কিতাব সমুহ বাংলায় অনুদিত করে পড়ানোর ব্যবস্থা করা দরকার।
একটি গণমাধ্যমের প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, গত ১৮ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কওমি শিক্ষা সম্পর্কিত বিষয়ে সভায় সরকার কওমির নিচের স্তরগুলিকে ধারাবাহিক ভাবে স্বীকৃতি দিতে চাইলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তা মানতে নারাজ তারা শুধু দাওরায়ে-ই-হাদিসকে ¯œাতকোত্তর স্বীকৃতি চান। দাওরয়ে-ই-হাদিসকে স্বীকৃতি দিলে অন্য স্তরের শিক্ষার মনিটরিং কী হবে বা তার সেই শিক্ষা ব্যবস্থার জবাদিহিতাই বা কতটুকু থাকবে? অন্য বিষয়গুলির যদি সমমান না থাকে কোন সূচকের ভিত্তিতে বুঝা যাবে একজন শিক্ষার্থী দাওরায়ে-ই-হাদিস পড়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।
কওমির মাদ্রাসা ছাড়াও  দেশে রয়েছে আরেকটি মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা। দেশের মাদ্রাসা শিক্ষায় রয়েছে পড়ানো হয় বাংলা ইংরেজি, আরবি, পদার্থ, রসায়নসহ কিছু বিষয় যা সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়ানো হচ্ছে। তাছাড়া ইসলামিক বিষয়গুলিও সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও পড়ানো হয়। দুই ভাগে বিভক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একই বিষয়ের ( যেমন পদার্থ বিদ্যা) কারিকুলামগত শিক্ষণ বিষয়  কি ভিন্ন? সাধারণত তা ভিন্ন হওয়ার কথা না কারণ পদার্থের নিউটনের সূত্রটি এক সব প্রতিষ্ঠানের জন্য। যদি সকল বিভক্ত শিক্ষা ধারায় একই বিষয় পড়ানো হয় তাহলে তা কেন একই বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত দেশের সকল প্রতিষ্ঠানকে করা যাবে।
এখন ভাবার সময় এসেছে এই পৃথকীকরণ কি রাজনৈতি স্বার্থ হাসিলের জন্য নাকি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে দক্ষ মানব সম্পদ তৈরি করার । দেশের সকল শিক্ষা ব্যবস্থাকে একীভুত করা না গেলে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা সম্ভব না।
লেখক:- কলামিস্ট