কঙ্কালের ভয়ঙ্কর কারবার ।। নেপথ্যের অপরাধীরা যাতে রেহায় না পায়

আপডেট: অক্টোবর ২১, ২০১৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

বৃহস্পতিবার দৈনিক সোনার দেশে  ‘কঙ্কালের ভয়ঙ্কর’ কারবার শীর্ষ্ একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে এই কারবারের সাথে জড়িত বেশ কয়েকটি ধাপে জড়িতদের ব্যাপারে ধারণা দেয়া হয়েছে। বিষয়টি যেমন বেআইনি, তেমনি এটি অমানবিকও বটে। মানুষ অর্থের জন্য কিই না করে। গা শিউরে ওঠার মতই ব্যাপার। লাশের শরীর থেকে হাড়গোড় চুরি করার মত পৈশাচিক ঘটনা।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কয়েক মাস আগেই নগরীর শ্রীরামপুর এলাকায় জেলা প্রশাসকের বাংলোর সামনে থেকে ১২টি কঙ্কালসহ চারজনকে আটক করেছিল পুলিশ। এরপরেও থামেনি কঙ্কালের কারবার। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে এবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গ থেকেই পুলিশ উদ্ধার করেছে ১৫টি মাথার খুলি ও বিভিন্ন হাড়গোড়। মর্গের দোতলার একটি কক্ষ থেকে নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল কঙ্কালগুলো উদ্ধার করে। এ সময় কঙ্কাল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মর্গের দুই ডোমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন, নগরীর বাকীর মোড় লক্ষ্মীপুর এলাকার বিপন কুমার (৫৫) ও নীরেন রবিদাস (৪২)।
কঙ্কাল নিয়ে কারবার নতুন কিছু নয়Ñ দীর্ঘদিন ধরেই তা চলে আসছে। মাঝেমধ্যে এমন খবর তো সংবাদ মাধ্যমে পাওয়া যায় যে, কবর থেকে কঙ্কাল চুরি হয়ে গেছে। কঙ্কাল চুরি হলেও সেগুলো যে সাধারণত সমাজের পিছিয়ে পড়া লোকদের দেহবাশেষ তা বলাই বাহুল্য। মৃতদের পরিবার এতই দুর্বল যে, এ নিয়ে তেমন বাক-বিত-া করার অবকাশ তাদের থাকে নাÑ তাই বিষয়টি নিয়ে হইচইও হয় না। কঙ্কাল চুরির সাথে সিন্ডিকেশনের সাথে জড়িতদের একটি অংশ হল মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী। সোনার দেশে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সে তথ্যই দেয়া হয়েছে। এই ছাত্ররা অর্থের লোভে এখনই যে ভয়ঙ্কর পথ বেছে নিয়েছে- তারা যখন পূর্ণাঙ্গ ডাক্তার হবেন, তখন তাদের কাছে রোগিরা কতটুকু নিরাপদ থাকবে?
অপরদিকে কঙ্কাল কারকারের সাথে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটটি রাজশাহী মেডিকেল কলেজকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।  প্রতিবেদনের তথ্য মতে- এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন মেডিকেল  কলেজের (রামেক) কিছু শিক্ষার্থী, মর্গের ডোম, বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের কয়েকজন অসাধু মালিক আর সীমান্তের কিছু চোরকারবারী। সরকারি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে কঙ্কালের ভয়ঙ্কর কারবারি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার ঘটনাটি বেশ উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার। অবৈধ এই ব্যবসাকে নিরাপদ করতে মেডিকেল কলেজের স্থাপনা ব্যবহার করা হচ্ছে। সন্দেহ করা যেতেই পারে যে, এই সিন্ডিকেটের সাথে উচ্চ পদস্থ কারো জড়িত থাকা অসম্ভব কিছু নয়। শুধু ছাত্র আর ডোমরা মিলেই ভয়ঙ্কর কাজটি চালিয়েছে এমনটি ভাবার অবকাশ নেই। নিশ্চয় কলেজের এমন কেউ প্রভাবশালী আছেন যার ইশারায় এ ধরনের কার্যক্রম চালান সম্ভব হচ্ছে। পুরো ঘটনা আদ্যপান্ত তদন্তের দাবি রাখে। এমনও হতে পারে কেচা তুলতে সাপও বেরিয়ে আসতে পারে।
বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে নেপথ্যের অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। নিশ্চয় কঙ্কাল কারাবারে শক্তিশালী সিন্ডিকেট জড়িয়ে আছে, সমাজে তাদের প্রভাবও আছে- তারা যেনো কোনোভাবেই ছাড় পেয়ে না যায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ