কঠোর লকডাউনে রাজশাহী গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট, জরিমানা, মামলা, মাইকিং অব্যাহত

আপডেট: এপ্রিল ১৫, ২০২১, ৯:০৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


কঠোর লকডাউনে রাজশাহী। দ্বিতীয় দিনেও কঠোর অবস্থায় চলছে লকডাউন। লকডাউনকে ঘিরে সড়কে ছিলো না তেমন যানবাহন। তবে অকারণে বের হওয়া মোটরসাইকেলসহ যানবাহনগুলোর চালকদের গুনতে হয়েছে জরিমানা। এছাড়া পড়তে হয়েছে মামলায়।
এমন চিত্র ছিলো রাজশাহীজুড়ে। লকডাউনের কারণে রাজশাহী জেলা ও নগরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসানো হয় চেকপোস্ট। চেকপোস্টগুলোতে যানবাহন থামিয়ে চালকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে যথাযথ কারণ না থাকলে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করছে প্রশাসন।
এছাড়া রাজশাহী জেলা প্রশাসকের ভ্রামম্যাণ টিম জেলা ও নগরে অভিযান পরিচালনা করছে। তাদেরও কঠোর লকডাউন কার্যকরে মাঠে কাজ দেখা গেছে। দেখা গেছে- মানুষকে বোঝানোসহ মাস্ক বিতরণ করতে। এছাড়া যারা অকারণে বাড়ি থেকে বের হয়েছে তাদের জরিমানাও করা হচ্ছে।
এর আগে বুধবার (১৪ এপ্রিল) ছিলো লকডাউনের প্রথম দিন। এদিন প্রথম রমজান ও পহেলা বৈশাখ ছিলো। ছুটির দিন থাকায় সড়কে ছিলো না যানবাহন। তবে সেই তুলনায় বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) সড়কে যানবাহনের উপস্থিতি বেশ বেড়েছে।
যানবাহনগুলোর মধ্যে রিক্সা ও অটোরিক্সা, ভ্যান, মোটরসাইকেল দেখা গেছে। রিক্সা চালকরা জানান- তারা লুকিয়ে ভাড়া নিয়ে যাচ্ছে। যে সড়কে পুলিশ থাকছে, সেই সড়ক এড়িয়ে চলছেন তারা। দুজন অটোরিক্সা চালকের সাথে কথা হলে একজন জানান, ‘হাসপাতালে রোগি নিয়ে গিয়েছিলাম। রোগিকে ভর্তির পরে বাড়ি ফিরছি। অপরজন জানান, সবজি বিক্রি করে আসছি। আসার পথে কয়েকজন পেলাম তাদের নিয়েছি।
আতিকুর রহমান নামের এক যাত্রী জানান- ‘১০ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা চাচ্ছে রিক্সা চালকরা। কম হলে নিয়ে যাচ্ছে না। রিক্সা চালকরা বলছে, ঝুঁকি নিয়ে রিক্সা চালাচ্ছি। তাই ভাড়া বেশি দিতে হবে।’
এবিষয়ে নগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, ব্যাংকসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রতিষ্ঠান খোলা থাকায় সকালে যানবাহন দেখা গেছে। তারপরেও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোর চেকপোস্টে যানবাহন থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। তবে দুপুরের পরে কড়াকড়ি লকডাউন কার্যকর করা হচ্ছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নগরজুড়ে সড়কে হাতেগোনা কিছু রিক্সা দেখা গেছে। ওষুধ, কাঁচা বাজার ও নিত্যপণ্যের দোকান খোলা থাকলেও মানুষের উপস্থিতি কম ছিলো। এছাড়া ক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার কথা মাইকিং করে জানাচ্ছে পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে বাজারগুলোতে মাইকিং করা হচ্ছে কঠোর লাকডাউন মানার বিষয়ে।
আখতার হোসেন নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘গত সপ্তাহের লকডাউনের চেয়ে এবারের লকডাউনে মানুষের চলাচল কম। তবে যতটা কঠোর হবে বলে মনে হয়েছে ততটা কঠোর হয়নি লকডাউন।
মুভমেন্ট পাসের বিষয়ে তিনি বলেন, পুলিশ থামিয়ে ছিলেন। কারণ বলেছি, ছেড়ে দিয়েছে। তাই মুভমেন্ট পাসের প্রয়োজন মনে করছি না। এছাড়া মুভমেন্ট পাস পেতেও লম্বা প্রসেস। তার পরেও ওইটিংয়ে থাকতে হচ্ছে। ততক্ষণে নিজের প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে আবার বাসায় ফিরে আসা সম্ভব।’
মতিহার থানার (ওসি) সিদ্দিকুর রহমান বলেন, জনসাধারণ লকডাউন মানছে কিনা তা তদারকি করছে পুলিশ। আমাদের টহল টিম মাঠে সার্বক্ষণিক কাজ করছে। যারা থানা এলাকায় নিয়মিত টহল চলছে। জনসাধারণের চলাচল আরও সীমিত করতে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মাইকিং করা হচ্ছে, অটোরিক্সা গ্যারেজগুলোতে লকডাউনের বিষয়গুলো জানানো হয়েছে। তারা যেনো সরকারের নির্দেশনা মেনে চলে। এছাড়া থানা এলাকার মসজিদ কমিটির সভাপতি- সম্পাদকদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদের বলা হয়েছে সরকারের নির্দশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামাজ ও তারাবিহ পড়ার বিষয়ে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, রাজশাহী জেলার ৫টি প্রবেশদ্বারে চেকপোস্ট বসিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে মোহনপুর, গোদাগাড়ী, বাঘা ও পুঠিয়ার দুই স্থানে চেকপোস্টে যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করছে পুলিশ।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র ইফতে খায়ের আলম জানান, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। গ্রাম এলাকাগুলোতে মাইকিং করা হচ্ছে লকডাউনের বিষয়ে। এছাড়া সমজিদে নামাজ ও তারাবিহর বিষয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকারের নির্দেশনা পালনের বিষয়ে জানানো হয়েছে বলে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ