কঠোর লকডাউন: নগরীর মোড়ে মোড়ে পুলিশি তৎপরতা

আপডেট: জুন ১৪, ২০২১, ১০:১০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীতে করোনার ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ রোধে চলমান কঠোর লকডাউনের চতুর্থ দিন পালিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের ঘোষণাকৃত ৭ দিনের লকডাউন বাস্তবায়নে নগরীর মোড়ে মোড়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা দেখা গেছে। এদিনও নগরীর প্রধান সড়কগুলো প্রায় ফাঁকা ছিলো। তবে গত তিন দিনের চেয়ে এদিন নগরীতে গণপরিবহনের চলাচল কিছুটা বেশি ছিলো। আর বিকেলের পর থমথমে নিরবতা বিরাজ করছে নগরীজুড়ে।
কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে জরিমানাসহ শাস্তিমূলক বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সোমবার (১২ জুন) নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো ঘুরে দেখা যায়, প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী নগরীর সকল মার্কেট, দোকানপাট, শপিংমল বন্ধ। নির্দেশনার আওতার মধ্যে থাকা কেউ দোকান খোলার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। নগরীর সাহেব বাজার, নিউ মার্কেট, কোর্ট বাজার এলাকায় কাঁচাবাজারগুলো খোলা থাকলেও অন্যান্য দিনের চেয়ে মানুষের সমাগম কম ছিলো।
কাঁচাবাজার ও মুদি ও খুচরা আম ব্যবসায়ীরা বলছেন, নগরীতে গাড়ি চলাচল না করাই ক্রেতা-বিক্রেতা তেমন নেই। আমের হাতেগোনা দু-একটা ক্রেতা আসছেন। দাম কম থাকলেও যাতায়াতে সমস্যার কারণে ক্রেতারা আসছেন না। মুদি দোকানেও একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ক্রেতা আসছেন না বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
নগরীর সাহেববাজার এলাকার আম ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানান, আমের খুচরা বিক্রি একেবারেই কমে গেছে। অনলাইনে যে বিক্রি করছেন এটাই। আমের দাম অন্যান্য সময়ের চেয়ে কমেছে। সাহেববাজারের আশেপাশে বাড়ি এমন কিছু ক্রেতা হয়তো আসছেন। গাড়ি চলাচল না করার কারণেই মূলত ক্রেতা নেই।
নগরীর প্রতিটি মোড়ে মোড়ে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখিন হতে হয়েছে সকল পরিবহণকে। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে এসেছেন এটা প্রমাণে ব্যার্থ হলেই তাদেরকে ঘুরিয়ে দেয়া হচ্ছে এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে। গাড়ি না পেয়ে অনেকেই পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছেছেন।
চতুর্থ দিনেও নগরীর প্রবেশমুখগুলোতে প্রশাসনের তৎপরতা ছিলো বেশি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও গোদাগাড়ির পরিবহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে এই মহাসড়কের একাধিক জায়গায় চেকপোস্ট বাসানো হয়েছে। বিশেষ করে এই এলাকার মানুষের নগরীতে প্রবেশের প্রধান পয়েন্ট কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় প্রশাসনের বাড়তি তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। তবে এরমধ্যেও ভেতরের বিভিন্ন রাস্তাগুলো দিয়ে গোদাগাড়ির কিছু গাড়ি চলাচল করতে দেখা গেছে। দুপুরের দিকে পুলিশের তৎপরতা কম থাকায় মোড়ের একটু দূরে অবস্থান নিচ্ছেন সেখানকার অটো চালকরা। দুই থেকে তিনগুন ভাড়ায় এই সড়ক থেকে কয়েকটি অটো গোদাগাড়ির উদ্যেশ্যে ছেড়ে যেতে দেখা গেছে।
এখানে দাঁড়িয়ে থাকা চালকরা বলছেন, জীবিকার তাগিদেই তারা গাড়ি চালাচ্ছেন। মাঝে মাঝে পুলিশ এখান থেকে গাড়ি সরিয়ে দিচ্ছেন। আর কাশিয়াডাঙ্গা থেকে গোদাগাড়ি পর্যন্ত কয়েকটি পুলিশের চেকপোস্ট আছে। সেখানে ভেরতের রাস্তাগুলো দিয়ে ঘুরে ঘুরে যেতে হচ্ছে। একারণে তারা ভাড়া বেশি নিচ্ছেন।
কাশিয়াডাঙ্গা মোড়ে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যরা বলছেন, কঠোর নজরদারির মধ্যে দিয়ে জরুরি প্রয়োজনে নগরীতে প্রবেশ ও বাইরে বের হতে দেয়া হচ্ছে। মাঝে মাঝে গাড়ি চালকরা একটু দূরে দাঁড়িয়ে যাত্রী তুলছেন। তাদের দৃষ্টিগোচর হলেও তারা গাড়িগুলোকে সরিয়ে দিচ্ছেন। আর মাস্ক না থাকলে কাউকেই নগরীতে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।
রাজশাহী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শরিফুল হক জানান, রাজশাহীতে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ রোধে কঠোরভাবেই লকডাউন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে জরুরি সেবা ছাড়া সকলকেই ঘরে থাকতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে। মাইকিং করে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। প্রয়োজনে জেল জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ