কঠোর লকডাউন: সার্টার টেনে ব্যবসায়ীদের উঁকি, কাঁচাবাজার ও টিসিবির পণ্য নিতে ভিড়

আপডেট: এপ্রিল ১৭, ২০২১, ৯:১১ অপরাহ্ণ

মাহাবুল ইসলাম:


সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী রাজশাহীতে চলছে কঠোর লকডাউন। শনিবার (১৭ এপ্রিল) কঠোর লকডাউনের চতুর্থ দিনে কোথাও কঠোর আবার কোথাও শিথিলভাবেই পালিত। গত দিনগুলোর চেয়ে এদিন কিছুটা শিথিলতাই দেখা গেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরীর কাঁচাবাজারগুলোতে ভিড় জমতে দেখা গেছে। ভিড় ছিলো টিসিবির পণ্য বিক্রয় পয়েন্টগুলোতেও। যেখানে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিতই ছিলো। এছাড়া সার্টার টেনে এবং অর্থ সার্টারে উঁকি দিতে দেখা গেছে অনেক ব্যবসায়ীদের।
নগরীর আরডিএ মার্কেট ও নিউ মার্কেট বন্ধ থাকলেও বাইরের দোকানগুলোতে অনেককেই সার্টার টেনে বাইরে কাস্টমার জোগাড় করতে দেখা গেছে। দু-একজন ফুটপাতের দোকানিও পসরা সাজিয়ে বসার পরিকল্পনা নিচ্ছিলেন। তবে পুলিশের কারণে তা আর হয়ে উঠে নি। অন্যদিকে, বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে কোর্ট এলাকায় অর্ধেক সাটার টেনে গার্মেন্টেস এর দোকানগুলো খোলা রাখতে দেখা গেছে। রাস্তার পাশের ফুটপাতের দোকানগুলোও খোলা ছিলো। তবে এসব দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি হাতে গোনা দু-একজন।
নগরীর প্রবেশপথগুলোতে প্রথম থেকেই কড়াকড়ি রয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া নগরীর চারটি প্রবেশপথ দিয়ে কোনো পরিবহণ চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে না। নগরীর মধ্যে সীমিত পরিসরে গণপরিবহণ চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে গত তিনদিনের চেয়ে পরিবহণ বেশি ছিলো। নগরীর বেশ কয়েকটি পয়েন্টে পুলিশের চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। যেখানে যাত্রী ও চালকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বাইরে বের হওয়ার প্রয়োজনীয় কারণ দর্শাতে না পরলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপও নিচ্ছেন। এছাড়া চার্জার অটো ও অটো রিকশা চালকরা এসব চেকপোস্ট থেকে একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছেন। চেকপোস্ট এলাকা হেঁটেই পার হতে হচ্ছে যাত্রীদের। এতে অনেক যাত্রীকে ভোগান্তি পোহাতেও দেখা গেছে।
নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় ৫০ উর্ধে পথচারী আয়েশা বেগম জানান, তিনি টিসিবির পণ্য কিনতে নগরীতে এসেছিলেন। সেখানে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনেছেন। কিন্তু রোজার মধ্যে এই জিনিসপত্রগুলো নিয়ে যাতায়াতে ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। একটু পর পর গাড়ি পরিবর্তন করে হাঁটতে হচ্ছে। চালকরাও বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন।
শনিবার সকাল থেকেই শহরের প্রধান রাস্তাগুলো প্রায় ফাঁকা ছিলো। রাস্তায় দু-একটি রিকশা, মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার এবং জরুরি সেবার গাড়ি চলাচল করতে দেখা গেছে। পুলিশের ঝামেলা এড়াতে নগরীর ভেতরের সরু রাস্তা দিয়ে যান চালাচল করতে দেখা যায়। নগরীর শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান চত্বর, শিরোইল বাস টার্মিনাল, রেলওয়ে স্টেশন, নিউমার্কেট, সাহেববাজার জিরোপয়েন্টের রাস্তাগুলো একেবারেই ফাঁকা ছিল। ওষুধ এবং মুদি দোকান ছাড়া সব ধরনের দোকানপাটও বন্ধ দেখা গেছে।
তবে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মানুষের অযাচিত সমাগম দেখা গেছে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে আড্ডাও জামাচ্ছেন অনেকেই। তবে পুলিশের টহল দলকে মাইকিং করে এসব ভিড় ফাঁকা করতে দেখা গেছে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনা মো. আবু কালাম সিদ্দিক জানান, লকডাউন বাস্তবায়নে শহরের প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এছাড়া নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পুলিশের চেকপোস্ট বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আরএমপির সকল থানাগুলোর টহল দল কাজ করছে। এক্ষেত্রে বাইরে আসা জনসাধারণ সুনির্দিষ্ট কারণ দেখাতে না পারলে তাদের জরিমানা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ঘটেনি।
তিনি আরো জানান, নগরীর কোথাও দোকানপাট খোলা থাকছে না। কোথাও এ রকম কোনো তথ্য তারা পাননি। তবে কেউ যদি খুলে থাকে তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলাম বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোরভাবেই লকডাউন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ অবস্থায় কেউ অহেতুক বাইরে ঘোরাঘুরি করলে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের শাস্তির মুখেও পড়তে হতে পারে। আর লকডাউনের শিথিলতার কোনো সুযোগ নেই। মার্কেট খুললেই সেখানে ব্যবস্থা নেয়া হবে।