কনটেইনার ডিপোতে যেভাবে আগুনের সূত্রপাত

আপডেট: জুন ৫, ২০২২, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ

ডিপোতে আগুন জ্বলছে

সোনার দেশ ডেস্ক :


চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বিএম কনটেইনার ডিপোতে প্রথমে একটি কনটেইনারে আগুন লেগেছিল। পরে আরও কয়েকটি কনটেইনারে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ।

প্রথমে কেমিক্যাল কনটেইনার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস। এরপর আগুন ছড়াতে থাকে। শেষ পর্যন্ত দুই শতাধিক কনটেইনারে আগুন লেগে যায়।

শনিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ পর্যন্ত চার জন নিহত হয়েছেন। দগ্ধ শতাধিক ব্যক্তিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রথমে বিএম কনটেইনার ডিপোর লোডিং পয়েন্টের ভেতরে আগুনের সূত্রপাত হয়।

খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রথমে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে এক কনটেইনার থেকে অন্য কনটেইনারে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একটি কনটেইনারে রাসায়নিক থাকায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটনা ঘটে। এতে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, স্থানীয় শ্রমিকসহ দগ্ধ হন শতাধিক।

শনিবার মধ্যরাতে বিএম কনটেইনার ডিপোর পরিচালক মুজিবুর রহমান সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন, কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে কনটেইনার থেকেই আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করছি আমরা।

তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডে হতাহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করবো আমরা। আহতরা যাতে সর্বোচ্চ চিকিৎসা পায়, সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনায় যারাই হতাহত হয়েছেন, তাদের সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি হতাহতের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়া হবে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডিপোতে আমদানি-রফতানির বিভিন্ন মালামালবাহী কনটেইনার ছিল। ডিপোর কনটেইনারে রাসায়নিক ছিল, বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। দ্রুত চারদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় আহত হয়েছেন বেশি। আহতদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক নিউটন দাশ বলেন, বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাÐের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সব ইউনিটে সেখানে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। আগুন নেভাতে আরও কয়েকটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম থেকেও ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি ইউনিট আনা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কতজন হতাহত হয়েছে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিট। ডিপোর ভেতরে অন্তত ২০০ কনটেইনারে আগুন জ্বলছিল। ডিপোর আশপাশের নালাগুলোতে রাসায়নিক পদার্থ ভাসতে দেখা যায়। ডিপোতে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে ঘটনায় দগ্ধ ও আহতদের মধ্যে চার জন নিহত হয়েছেন।

চমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক রাজিব পালিত বলেন, এখন পর্যন্ত চার জন মারা গেছেন। দগ্ধ হয়েছেন শতাধিক। তাদের চিকিৎসা চলছে।
তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন