কন্যাশিশুর জন্য আট মাসের বিপর্যয়! চিন্তার মুক্তি আসবে কীভাবে?

আপডেট: অক্টোবর ২, ২০২২, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

দেশে গত আট মাসে দুই হাজারের বেশি কন্যাশিশু বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতিমাসে বিয়ে হয়েছে ৩০৯ শিশুর। শুধু তাই নয়, একই সময়ে ৭৬ জন কন্যাশিশু যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। এসব হয়রানি অধিকাংশই হয়েছে রাস্তা ও বাসায়। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হচ্ছে ধর্ষণের। কারণ এই আট মাসে মোট ৫৭৪ কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। কন্যাশিশুদের নিয়ে করা এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে।
প্রতিবেদনটি করেছে ‘জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম’। ৩০ সেপ্টেম্বর বিশ্ব কন্যা দিবসের পূর্বেই বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) উদ্বেগজনক এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত তথ্য দেওয়া হয়।
প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে যেসব সমস্যা বা প্রতিবন্ধকতার কথা বলা হয়েছে সেগুলো নিরসনের মধ্যেই প্রতিকার পাওয়া যেতে পারে। বলা হচ্ছে-কন্যাশিশু ও নারীর প্রতি নির্যাতনের বিষয়ে অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রে পারিবারিক এবং সামাজিকভাবে নানা ধরনের ভুল ধারণা, শঙ্কা ও কুসংস্কার রয়েছে। এরমধ্যে আবার নির্যাতিত শিশু বা তার পরিবার বিচার চাইতে গেলে হয়রানির শিকার হচ্ছে। যদি সব বাধা উপেক্ষা করে তারা আইনি ব্যবস্থা নিতেও যান, সেখানে আবার দেখা গেছে উল্টো চিত্র। অভিযুক্তদের আটক করা, তাদের শাস্তি প্রদান তথা ন্যায়বিচার পাওয়ার ঘটনা অনেক কম। কখনো তো বিচারই পান না ভুক্তভোগীরা।
প্রতিবেদনে মেয়ে শিশুদের সুরক্ষা দিতে সমাজ প্রতিবন্ধকতার মূল সারংশ হলো- বিচারহীনতার সংস্কৃতির জন্য অপরাধী নির্ভয়ে অন্যায় করতে উৎসাহিত হচ্ছে। ফলে নির্যাতন ও সহিংসতা বেড়েই চলেছে। নারী ও শিশুদের সুরক্ষার ব্যাপারে কম কথা হয় না দেশে। সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে সচেতনতামূলক অনেক কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। সরকার নতুনরূপে শিশু আইন প্রণয়ন করেছে। নারী নির্যাতন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনও প্রণীত হয়েছে। কিন্তু নারী শিশুর সুরক্ষায় কতদূর এগোন গেছে তা প্রশ্নবিদ্ধ। বরং এটা বলা যেতে পারে আইনের ভ্রুকুটিকে এ সমাজ আমলেই নিচ্ছে না। বলার অপেক্ষা রাখে না যে সমাজের মধ্যেই নারী ও শিশুর বঞ্চনা ও অবহেলার গল্পটা প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি যোগ হয়ে সমস্যাটা আরো প্রকট করে তোলা হয়েছে। ঠিক ওই জায়গাটিতে কাজ করার হয়নি বললেই চলে। সমস্যার এই জায়গাটি বিনির্মাণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকেও থমকে দাঁড়াতে হয়। সমাজ-সংস্কার যা অমানবিক আচরণ-বৈশিষ্ট্যের সাথে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত- সেই সম্পৃক্তি কোনোভাবেই পৃথক তো দূরের কথা শ্লথ করাও যাচ্ছে না। পরিবারের মধ্যেই যে সর্ষেয় ভূতের বাস সেখান থেকে মুক্তির লড়াইটা খুবই কঠিন। তবে অবশ্যই তা অসম্ভবও কিছু নয়। যা আপোস ও সমঝোতার যোগ্য নয়- কিন্তু সেটা অবলীলায় হাচ্ছ। ফলে মানবিক সমাজ উন্নয়নের ধারাটা এগোচ্ছে না।
সমাজে নারীকে কীভাবে দেখা হচ্ছে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নারীর অধিকার, মর্যাদা, তার শক্তি ও সক্ষমতার স্বীকৃতি না থাকলে কাঙিক্ষত অবস্থার পরিবর্তন অধরাই থেকে যাবে। যা মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াইকে ক্রমশই দুর্বল করবে। চিন্তার মুক্তি ছাড়া এ লড়াইয়ে জয়ী হওয়া অসম্ভবই থেকে যাবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ