কপ২৬ জলবায়ু সম্মেলন শুরু পৃথিবীকে বাঁচানোর সিদ্ধান্তই প্রত্যাশিত

আপডেট: নভেম্বর ২, ২০২১, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বিশ্বনেতাদের বলিষ্ঠ সিদ্ধান্তের প্রত্যাশায় স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত কপ২৬। রোববার শুরু হওয়া এ জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলনে প্রায় ২শো দেশের প্রতিনিধিরা ২০৩০ সালের মধ্যে তারা কীভাবে কার্বন নিঃসরণ কমাবেন এবং পৃথিবী নামক গ্রহকে সাহায্য করবেন, তার ঘোষণা দেবেন বলেই প্রত্যাশা করা হয়েছে। শ্বাসে ও প্রশ্বাসে পৃুথিবী নামক গ্রহকে কতটা সুস্থ রাখা সম্ভব হবে- তা নির্ভর করছে কপ২৬- এর সাফল্যের ওপর। গ্লাসগোর এই সম্মেলনে বিশ্বের সব দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন, তারা ২০৩০ সালের মধ্যে কতখানি কার্বন নিঃসরণ কমানো যায় তার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করবেন। সম্মেলনের সিদ্ধান্তের প্রতি বিশ্বের মানুষ তাকিয়ে আছে।
মানুষের জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের কারণে নির্গত গ্রিনহাউস গ্যাসে বিশ্ব ক্রমশ উষ্ণ হয়ে উঠছে, সে কারণেই বিজ্ঞানীরা জলবায়ু সংক্রান্ত ভয়াবহ বিপর্যয়কর পরিস্থিতি এড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ চাইছেন। না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা।
কপ২৬ জলবায়ু সম্মেলনের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সংশয়ও আছে। উন্নত দেশগুলো তাদের পূর্ব-প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে নি। ২০০৯ সালে বিশ্বনেতারা ২০২০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত গরিব দেশগুলোর জন্য করা জলবায়ু তহবিলে প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন ডলার দেয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা পূরণ হয়নি। প্রতিশ্রুতিটি পূরণ হতে ২০২৩ সাল লেগে যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। সিদ্ধান্তের এতো ধীরগতির বাস্তবায়ন বিশ্ব পরিস্থিতি পরিবর্তনে মোটেও সহায়ক নয়।
পরিবেশবিদরা বলছেন, তাপমাত্রা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখাটা এখন নেতাদের ওপর নির্ভর করছে। তাদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন এবং তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখার ওই লক্ষ্য কীভাবে পূরণ করা যায় সে জন্য একযোগে একমত হওয়া দরকার।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্লাসগো যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে সবকিছু ব্যর্থ হবে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, সম্মেলন খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার মুহূর্ত। আমরা এ মুহূর্তকে কাজে লাগাতে পারব নাকি ফসকে যেতে দেব প্রত্যেকেই সে প্রশ্ন করছে। জাতিসংঘ সতর্ক করে দিয়েছে বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এখন ২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পথে আছে, যা জলবায়ু বিপর্যয় ঘটাতে পারে।
এতো সতর্কতার পরও সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হলে সেটা সত্যিই দুঃখজনক হবে। এবং এটা বলা অত্যুক্তি হবে না যে, জেনেশুনেই পৃথিবীকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেয়া হবে। নিশ্চয় বিশ্ব নেতৃবৃন্দ পৃথিবীকে প্রাণের জন্য বাসযোগ্য রাখতে তাদের পূর্ব প্রতিশ্রুতিতে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ হবেন এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিবেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ