কপ-২৮ শীর্ষ সম্মেলনের ঘোষণা

আপডেট: ডিসেম্বর ৪, ২০২৩, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

জলবায়ুতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো উপকৃত হবে

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের কপ-২৮ শীর্ষ সম্মেলন সমাপ্ত হয়েছে। কপ-২৭ শীর্ষ সম্মেলনের ঘোষণায় বিশ্বের পরিবেশবাদীরা হতাশই হয়েছিলেন। কিন্ত কপ-২৮ শীর্ষ সম্মেলনের ঘোষণায় আশার সঞ্চার হয়েছে। মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও এ ঘোষণায় প্রত্যাশাকে জাগিয়ে তুলেছে। জলবায়ু সম্মেলনের ২৮তম আসরের উদ্বোধনী দিনেই (৩০ নভেম্বর) ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪২৩ মিলিয়ন ডলার দুর্যোগ তহবিলের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ১০০ মিলিয়ন ডলার, যুক্তরাজ্য ৫১ মিলিয়ন ডলার, যুক্তরাষ্ট্র ১৭.৫ মিলিয়ন ডলার, জাপান ১০ মিলিয়ন ডলার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২৪৫.৩৯ মিলিয়ন ডলার ও জার্মানি ১০০ মিলিয়ন ডলার তহবিল দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৪২৩ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার তহবিল পাওয়ার আশা করছে জলবায়ুতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো। যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। যদিও মিশরে অনুষ্ঠিত কপ-২৭ শীর্ষ সম্মেলনে ক্ষতিপূরণ তহবিলের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ীই তা আনুষ্ঠানিকতা পেল।

অবশ্য অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, এ সময়ে তহবিলের প্রয়োজন কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার। তবে আশার কথা কপ-২৮ সম্মেলনের কয়েক সপ্তাহ আগে ধনী এবং দরিদ্র দেশগুলো তহবিলে বিদ্যমান পার্থক্য দূর করতে মূল জায়গায় ঐকমত্য হয়েছে।

গবেষণা বলছে, বিশ্বের খাদ্য উৎপাদনের এক-তৃতীয়াংশই জলবায়ু সংকটে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। কিন্তু একইসময়ে বিশ্বের খাদ্য ও কৃষি ব্যবস্থা জলবায়ু পরিবর্তনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। তাই এবারের দুবাইয়ে কপ২৮ জলবায়ু সম্মেলনে ১৩৪টি দেশের নেতারা প্রথম এ বিষয়টির ওপর গুরুত্বারোপ করে ঘোষণাপত্র সই করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও চিনসহ বিশ্বে খাদ্যের ৭০ শতাংশ উৎপাদনকারী দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তন রোধের লড়াইয়ে জাতীয় পরিকল্পনায় খাদ্য ও কৃষিকে বিবেচনায় নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বিবিসি’র খবরে বলা হয়, কপ২৮ সম্মেলনের ওই ঘোষণাপত্রকে কৃষি সংগঠনগুলো স্বাগত জানিয়েছে। তবে দেশগুলোকে তাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে বলেও তারা সতর্ক করে দিয়েছে। তবুও সমালোচকরা বলছেন, এই ঘোষণা বেশ অস্পষ্ট। কারণ, খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কীভাবে প্রতিরোধ করা হবে সেটি বিশ্ব নেতারা নির্ধারণ করেননি। তবে এ সমালোচনা মোটেও অযৌক্তিক ব্যাপার নয়। নিশ্চয় তহবিল ব্যবস্থাপনায় এ ষিয়টি স্পষ্ট করা উচিৎ হবে।