কবিতা

আপডেট: নভেম্বর ১১, ২০১৬, ১০:৫০ অপরাহ্ণ

 

 

বাবার জুতো
আমিনুল ইসলাম

বাবা, সে কতদিন হয়Ñ তোমার পা পড়ে না আমাদের এই সোনালি উঠোনেÑ
যা তুমি নিজ হাতে গড়ে তুলেÑ দূ..রে চলে গেছো ছিঁড়ে ফেলে অভিকর্ষের
যাবতীয় টান! তোমার পায়ের শব্দে চমকে উঠতো যে-সূর্যÑ‘এই বুঝি
দেরী হয়ে গেল!’,Ñ সে এখন আগের মতোই ওঠে বাতাসে ছড়িয়ে দিয়ে
অজস্র সোনার রেণুর ঢেউ; ধানের আলের ঘাসগুলোÑ মাথায় নিয়ে শুভ্র-
সৌন্দর্যের স্থাপত্যÑ অপেক্ষায় থাকে পরিচিত দুটি পবিত্র পায়ের; আহ্নিক
গতির ট্রেন যায়Ñ কিন্তু সেই সৌন্দর্য ও পবিত্রতার মহামিলন আর ঘটে না।

আল্নার নিচে পড়ে আছে বাদামি রঙের একজোড়া জুতো যেন ড্রাইভারহীন
আধপুরোনো টয়োটা! আমার ইচ্ছে করেÑ জুতোজোড়া পায়ে দিয়ে হাঁটতে
থাকিÑ জমির আইলে, নদীর কিনারে, পবিত্র স্বপ্নের বারান্দায়; কিন্তু ভয় হয়Ñ
আমার পাদুটি তোমার জুতোর মাপের হলেও তাদের বিচরণের জগৎ
অভিন্ন নয়; তারা তো সিরাতুল মুস্তাকিম চেনে নাÑ নানা অন্ধগলি ঘুরে ঘুরে
বদনেশায় বৃত্তাবদ্ধ তাদের গতি। আমি ঐ জুতোজোড়া পায়ে দিয়ে যদি
অভ্যাসবশত কোনো অন্ধগলিতে ঢুকে পড়ি, আর অমনি তারা বিদ্রোহ করে
বসেÑ ‘হে নাদান মানুষ, তুমি আমাদের উপযুক্ত নও!’ এবং এই বলে খুলে
পড়ে আমার পা থেকে, আমি নগ্নপায়ের লজ্জা নিয়ে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো!

ধাত্রী বিধানে যে
এস এম তিতুমীর

গত হয়ে গ্যাছে কত সনÑ ভোর, দুপুরের রোদ
গোধূলির রঙে আঁকা, বিকেলের ছবিগুলো
নিয়েছে যে শোধ
তবুও লিপিকা তার, ভাবনার অধিকার
ধনেশের চোখে জাগে বিস্ময় খোদ
এ বুঝি অমর চেতনার হাতে
ধানের পাতাটির মত
ধাত্রী বিধানে হৃদয়ের খোরাক
মিটিয়ে যাবে যত

 

 

ধূসর চোখ
সাজিয়া সুলতানা মিম

আঁধারের সাথে ভুল বুঝাবুঝি
সত্যের সন্ধানে মিছে খোঁজাখুঁজি,
হঠাৎ সঙ্গীহীন পথচলা
এই তো জীবনের মাতাল খেলা!

প্রশ্ন করি, জানি উত্তর নেই
বসন্তের পাতার মতো গেছ ঝড়ে,
ধূসর চোখ বলে!
এই তো তুমি সেই
নিশ্চুপ স্মৃতি কেঁদে ওঠে অতঃপর।

মনের প্রতিমূর্তির অপরাধী হাসি
সব মিলিয়ে যোগফল শূন্য,
ক্লান্ত পায়ে অজান্তে আগানো
শিরোনামহীন ভাগ্যে,
রয়ে গেলে তুমি অপূর্ণ!