কবি কামিনী রায়ের মৃত্যু দিন আজ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


কবি কামিনী রায়ের ৮৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন বরিশাল জেলার বাসন্ডা গ্রামে। বাঙালি নারী সমাজের ঘোর অন্ধকার যুগে বাংলা কাব্যভুবনে তাঁর আবির্ভাব নিঃসন্দেহে এক বিস্ময়কর ঘটনা। তৎকালীন বৃটিশ ভারতে প্রথম স্নাতকডিগ্রিধারী নারী কামিনী রায় ছিলেন গুণি পিতার যোগ্য কন্যা। বাবা ছিলেন বিচারক এবং ইতিহাস সন্ধানী মানুষ। ভ্রাক্ষ্মধর্মাবল্বী চন্ডিচরণ সেন কন্যা কামিনী এবং স্ত্রীকে ব্রাম্ম ধর্মে দীক্ষিত করেন। চন্ডিচরণের বোন যামিনী সেন ছিলেন সেই সময়ে নামকরা চিকিৎসক। শৈশবেই লেখক ও সমাজসেবক বাবার উৎসাহে কামিনী রায় সাহিত্যের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেন। বাবার ব্যক্তিগত পাঠাগারে কলকাতার সেরা পত্রপত্রিকা নিয়মিত আসতো। এসব পড়তে পড়তেই লেখালেখিতে তাঁর হাতেখড়ি। মাত্র ৮ বছর বয়সে প্রথম কবিতা লিখে বাবাকে অবাক করে দেন। বাবা তাকে আবৃত্তি শেখাতেন। আবৃত্তি শিখতে শিখতে ছন্দ ও তাল সম্পর্কে ধারণা অর্জন করেন। পাশাপাশি পড়াশোনাতেও মেধার পরিচয় দিতে থাকেন। ১৫ বছর বয়সে প্রথম প্রকাশিত হয় কবিতার বই ‘ আলো ও ছায়া’। মহাকবি হেমচন্দ্রের ভূমিকা সংবলিত বইটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে কামিনী রায়ের কবি প্রতিভা ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো: আলো ও ছায়া, নির্মাল্য, পৌরণিকী, মাল্য ও নির্মাল্য, অশোক-সঙ্গীত। (সনেট সংগ্রহ), আম্বা (কাব্যনাট্য), দীপ ও ধূপ, জীবনপথে, একলবা ইত্যাদি। ওই সময় একজন নারী কবির এতো গ্রন্থের কথা ভাবাই যায় না।
১৮৯৪ সালে বিয়ে করেন সিভিলিয়ান কেদারনাথ রায়কে। ১৯০৯ সালে স্বামীর অপঘাতে মৃত্যু তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্থ করে তোলে। নারীর ক্ষমতায়নে যে আধুনিক ধারণা তা শত বছর আগের কামিনী রায়ের সৃষ্টিভাবনায় অনুরণিত হয়েছিলো। তিনি একাধারে নারীবাদী সমাজ-সংস্কারক, কবি ও আদর্শ শিক্ষক ছিলেন। ১৮৮৬ সালে প্রথমে বেথুন কলেজের স্কুল শাখার শিক্ষক এবং পরে অধ্যাপক পদে নিয়োগ পান। তিনি সুফিয়া কামালকে লেখালেখিতে অনুপ্রাণিত করেন। এই মহিয়সী কবি ৬৯ বছর বয়সে পরলোক গমন করেন।