কমেছে মুরগি ও শাক-সবজির দাম

আপডেট: এপ্রিল ২৩, ২০২১, ৯:২৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


সপ্তাহ না ঘুরতেই পাল্টে গেছে কাঁচাবাজারে অবস্থান। কমেছে মুরগি ও শাক-সবজির দাম। নগরীর কাঁচাবাজার গুলোতে উপস্থিতি কম ক্রেতাদের। করোনার দ্বিতীয় ধাপে কঠোর লকডাউনের ঘোষণা আর পবিত্র রমজান মাসের শুরুটা ছিল একই দিনে। এ দুই কারণে গত সপ্তাহে আতঙ্কের কেনাকাটা করতে বাজারে ব্যাস্ত হয়ে পরেছিলেন ক্রেতারা। হঠাৎ চাহিদা বাড়ার সুযোগে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য ও সবজির দামও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা।
শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) কাঁচাবাজার গুলোতে দেখা যায়, ক্রেতাস্বল্পতায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আর সবজির দামও আগের তুলনায় কম কিংবা অর্ধেকে নেমে এসেছে। এছাড়াও ব্রয়লার মুরগি ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ সপ্তাহ মুরগির দাম কম দাম।
সবজির ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সবজি আমদানির উপর নির্ভর করে সবজির দাম প্রতি দিনে কম বেশি হয়। বাজারে সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় আজ কম। বিক্রেতা জামাল জানান, সবজির দাম কমছে এটা আমদানির ওপর ভিত্তি করে দামের কম বেশি হয়। আমদানি বেশি হলে দাম কমে যায় আবার আমদানি কম হলে দাম বেড়ে যায়। এতে আমাদের কোন হাত নেয়। সবজির দাম আর বাড়বে না বলে জানাছেন তারা।
ক্রেতা হাসিব জানান, সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনা কম। কিন্তু বিক্রেতারা লকডাউনের আগে বলেছিলো সকল পণ্যের দাম বাড়লেও সবজির দাম বাড়বেনা। অথচ রোজা শুরুতেই সবজির দামে চড়া। কোনো পণ্যের দাম বাড়তি দেখলেই সব পণ্যের দাম বাড়াতে শুরু করে ব্যবসায়ীরা ।
এদিন সবজির বাজারে দেখা গেছে, আলু ১৫ টাকা কেজি, বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, ঢেড়স ২৫ থেকে ৩০ টাকা, করলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ধনেপাতা ১০০ টাকা কেজি, সজনে ডাটা ৯০ টাকা কেজি, পেঁপে ২০ থেকে ৩০ টাকা, গাজর ১৫ থেকে ৩০ টাকা, শসা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, ডুমুর ৩০ থেকে ৪০ টাকা, টমেটো ২০ থেকে ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকা, লাউ ২৫ টাকা পিচ, কাঁচাকলা ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা হালি,
শাকের মধ্যে প্রতি আটি লাল শাক, সবুজ শাক ও কাঠুয়া শাক বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা। পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, রসুন ৪০ থেকে ৬০ টাকা, আদা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, কাঁচামরিচ ৪০ টাকা।
রাজশাহীর সাহেববাজার মোদি দোকানি ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি খোলা সোয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১১৮ টাকা থেকে ১২০ টাকা। প্যাকেটজাত সোয়াবিন তেল ১৩০ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা।
অপরদিকে চালের দোকান ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি আটাশ চাল ৫৬ টাকা থেকে ৫৮ টাকা এবং মিনিকেট চাল ৬২ টাকা থেকে ৬৫ টাকা। এছাড়া গুটি স্বর্ণা ৪৬ টাকা থেকে ৪৮ টাকা, চিনিগুড়া চাল ৯৫ টাকা থেকে ১০০ টাকা, বাসমতি ও নাজিশাল চাল ৭০ টাকা, কালোজিরা চাল ৬৫, রাধুনি ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে চাল ব্যাবসায়ীরা বলছেন, বোরো ধান কাটা হচ্ছে আমদানি বেশি হবে। চালের দাম কমে আসবে।
ডালের মধ্যে মসুরের ডাল ৭০ টাকা থেকে ১০০ টাকা, মুগের ডাল ১৩০ টাকা, কালায়ের ডাল ১২০ টাকা, বুটের ডাল ৭৫ টাকা থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের মধ্যে গরুর মাংস ৫৫০ টাকা, খাসির মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি ১২৫ টাকা থেকে ১৩০ টাকা, দেশ্যি দেশি মুরগি ৩৯০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা, সোনালি মুরগি ২২০ টাকা থেকে ২২৫ টাকা, লেয়ার মুরগি ১৯০ টাকা থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, রাজহাঁস ৪৫০ টাকা ও পাতিহাঁস ২৭৫ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
অন্যদিকে মাছ মাংসের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি ইলিশ মাছ ৮০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা, চিংড়ি মাছ ৬০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রুই মাছ ওজন ভিত্তিতে ১২০ টাকা থেকে ২০০ টাকা, কাতল মাছ ২৮০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা, অইড় মাছ ১২০ টাকা, ময়া মাছ ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা মাছ ৩০০ টাকা, সিং মাছ ৩০০ টাকা, সিলভর মাছ ১৮০ টাকা, মিরকা মাছ ১২০ টাকা থেকে ২০০ টাকা, পাঙ্গাস মাছ ৪০০ টাকা বিভিন্ন দামের, বোয়াল মাছ ৩০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা, কৈ মাছ ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা, শৈল মাছ ৩০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ