করেনায় আক্রান্ত প্রতি ৯ জনে একজন শিশু শিশুদের প্রতি উদাসীনতা মোটেও না

আপডেট: November 22, 2020, 12:13 am

করোনাভাইরাস সম্পর্কিত ধারণা এখনো যে খুব স্পষ্ট তা বলা যায় না। তবে ক্রমশ উন্নত হচ্ছে। করোনার সূচনাকালে ‘ নানা মুনির নানা মত’ বিশ্বের মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। খোদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এমন কিছু সিদ্ধান্তে বা ধারণার কথা বলেছে  যা পরবর্তী সময় তারাই সে ধারণা খ-ন করেছে। প্রথম দিকে এমন ধারণাও করা হচ্ছিল যে, করোনাভাইরাস শিশুদের কাছে অধিক প্রতিরোধযোগ্য। অর্থাৎ শিশুদের কাবু করা করোনাভাইরাসের জন্য কঠিন কিছু। কিন্তু এ ধারণা হালে পানি পায়নি। করোনাভাইরাস এখনো পরাক্রম সব মানুষের জন্যই ভয়ঙ্করি। হোক সে শিশু, যুবা কিংবা বৃদ্ধ- কারোরই রেহায় নেই করোনাভাইরাস থেকে। যদি না সে ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা না যায়।
বিশ্ব শিশু দিবসকে সামনে রেখে ১৯ নভেম্বর নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত ‘অ্যাভারটিং এ লস্ট কোভিড জেনারেশন’ শীর্ষক ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রতি ৯ জনের মধ্যে একজন শিশু ও কিশোর-কিশোরী রয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের মাঝে হালকা উপসর্গ দেখা গেলেও সংক্রমণের হার বাড়ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে শিশু ও তরুণদের পুরো একটি প্রজন্মের শিক্ষা, পুষ্টি ও সামগ্রিক কল্যাণের ওপর এর প্রভাব জীবন বদলে দিতে পারে।
ওই প্রতিবেদনেও শিশুদের সম্পর্কে ভুল ধারণার বিষয়টি উদ্ধৃত হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির এ পুরো সময় জুড়ে অব্যাহতভাবে একটি ধারণা চলে আসছে যে, এতে শিশুদের তেমন ক্ষতি হয় না। এটা মোটেও সত্য নয়। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গত ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ৮৭টি দেশের বয়সভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, করোনা আক্রান্ত প্রতি ৯ জনের মধ্যে ১ জন ২০ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোর-কিশোরী, যা এই দেশগুলোতে মোট আক্রান্ত ২ কোটি ৫৭ লাখ মানুষের ১১ শতাংশ এই সংকট কীভাবে সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে থাকা শিশুদের জীবনকে প্রভাবিত করে এবং এটি মোকাবিলার উপায় কী তা আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য সংক্রমণ, মৃত্যু ও শনাক্তকরণ পরীক্ষার আরও নির্ভরযোগ্য বয়সভিত্তিক তথ্য প্রয়োজন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শিশুদের ব্যাপারে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা এই যে, সাম্প্রতিক হিসাব বলছে, সময় হয়েছে আরও সাবধানতার। ঢাকা শিশু হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ৩৯৫ জন শিশুর করোনা শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষা হয়েছিল তিন হাজার ২০০ জনের। বহির্বিভাগে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছিল ৮৩৩ শিশুর। শনাক্ত হয়েছে ১৭০ জন। ২০ নভেম্বর একদিনে পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে ১০ শিশুর। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে শিশু হাসপাতালের করোনা আক্রান্ত রোগী ছিল ১০। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সেটা হয়েছে ১৬। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ছিল পাঁচ আর নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ২৩ জন। অর্থাৎ সংক্রমণের প্রবণতা ক্রম-বৃদ্ধির দিকে। এই পরিস্থিতি মোটেও সহনশীল নয়। সচেতনতা খুবই জরুরি যাতে প্রতিরোধের উপায়গুলো মানুষ উদ্ধুদ্ধ করে। শিশুরা যেন কোনোভাবেই উদাসীনতার শিকার হয়। কেননা শিশুদের ব্যাপারে পরিবারের বড়রা অনেক ক্ষেত্রেই উদাসীনতা দেখাচ্ছেন। তারা যখন বাড়ির বাইরে আসছেন- বড়রা মাস্ক পরিধান করে থাকলেও শিশুদের ক্ষেত্রে সেটা সমানভাবে প্রযোজ্য হচ্ছে না। এখানেই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রকট হয়ে উঠছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সূচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে শিশুদের প্রতি বেশি যতœবান হওয়ার প্রতি অগ্রাধিকার দিতে হবে। এটা শুধু পরিবার থেকেই নয় রাষ্ট্রকেও বিষয়টির প্রতি অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ