করের অর্থে ধর্ম নয়: সুপ্রিম কোর্ট

আপডেট: আগস্ট ৩১, ২০১৭, ১:২০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র-সংগ্রহীত

গুজরাত হাইকোর্ট বলেছিল, দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত ধর্মস্থান রাজ্য সরকারকে মেরামত করিয়ে দিতে হবে। কোনও পক্ষ নিজেদের উদ্যোগে সারিয়ে নিলে জোগাতে হবে সেই খরচও। সেই আদেশ আজ খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র ও বিচারপতি প্রফুল্ল সি পন্থের বেঞ্চ আজ জানিয়ে দিয়েছে, অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির মতোই এককালীন সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার যে সিদ্ধান্ত গুজরাত সরকার নিয়েছে, তাতে কোনও সমস্যা নেই।
শীর্ষ আদালতের বক্তব্য, জনগণের করের টাকা কোনও ধর্মের প্রচার-প্রসার, ধর্মস্থলের নির্মাণ বা মেরামতির কাজে খরচ করা যায় না। সংবিধানের ২৫, ২৬, ২৭ ও ২৮ নম্বর অনুচ্ছেদে ‘ধর্মাচরণের স্বাধীনতা’ অংশে যেমন কিছু অধিকার দেয়া হয়েছে, তেমনই কিছু অধিকার নিষিদ্ধও করা হয়েছে। এ-ও বলা আছে যে, কোনও নাগরিককে কোনও ধর্মের প্রচার বা ধর্মীয় খরচ বহনের জন্য কর দিতে বাধ্য করা যায় না।
এই মামলার সূত্রপাত ‘ইসলামিক রিলিফ কমিটি অব গুজরাত’ নামে একটি সংগঠনের দাবির সূত্রে। গুজরাত হাইকোর্টে তারা আর্জি জানিয়েছিল, ২০০২ সালের দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত ধর্মস্থানগুলি কোর্টের নজরদারিতে মেরামত করে দিক রাজ্য। যে সব ট্রাস্ট বা প্রতিষ্ঠান সেগুলি চালায় তাদের ‘উপযুক্ত’ ক্ষতিপূরণ দিতে রাজ্যকে নির্দেশ দেয়া হোক। এই সূত্রে গুজরাত হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, ওই দাঙ্গায় সব ক্ষতিগ্রস্ত ধর্মস্থানের মেরামতির জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। ধর্মস্থানের পরিচালকেরা ইতোমধ্যেই যেগুলি নিজেদের উদ্যোগে সারিয়ে নিয়েছেন, তার খরচও রাজ্য সরকারকে দিতে হবে। এর জন্য আবেদন জানাতে হবে দু’মাসের মধ্যে।
এই নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যায় গুজরাতের বিজেপি সরকার। শীর্ষ আদালতে রাজ্য সরকারের আইনজীবী তুষার মেটা জানান, সরকারের কোষাগার থেকে কোনও ধর্মস্থানের মেরামতি বা নির্মাণের জন্য টাকা দেয়ার নির্দেশ দিতে পারে না হাইকোর্ট। গুজরাত সরকারের এই যুক্তি মেনে নেয় শীর্ষ আদালত। একই সঙ্গে দীপক মিশ্রের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানায়, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি রক্ষার দায়িত্বও সরকারের। এর আগে ওডিশার একটি মামলায় দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। এ ক্ষেত্রেও ক্ষতিপূরণের জন্য প্রকল্প তৈরির নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। গুজরাত সরকার সেই প্রকল্প তৈরি করে জানায়, অন্য ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির মতোই ধর্মস্থানের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা এককালীন ক্ষতিপূরণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গুজরাতের এই প্রকল্প মেনে নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
আইনজীবী বিশ্বজিৎ দেবের মতে, ‘‘ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ, সব করই বাধ্যতামূলক। তাই ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র কোনও বিশেষ ধর্মের প্রচার বা ধর্মীয় খরচের জন্য করের অর্থ খরচ করতে পারে না। কোনও রাজ্যে এমন খাতে সরকারি টাকা খরচ হলে, তার উপরেও এই রায়ের প্রভাব পড়তে পারে।’’
তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ