করোনাভাইরাসের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা হতদ্যোম যাতে না হই

আপডেট: মার্চ ২৪, ২০২০, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ

করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপি উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়েছে ব্যাপকভাবে- এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। উদ্ভুত পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা সম্ভব- সম্ভাব্য সব প্রচেষ্টাও চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। সারা দেশময় এখন করোনাভাইরাস নিয়েই আলোচনা-উদ্বেগ। ইতোমধ্যেই সরকার নভেল করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ ঠেকাতে পাঁচ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে, ফলে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি থাকবে দেশের সব অফিস-আদালতে। দাবি উঠেছে সারা দেশ লকডাউনের। একটা ভীতিকর অবস্থা চারদিকে। এই পরিস্থিতি হতদ্যোম পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে কি? যদি সেটি হয় তা হলে আমরা সমূহ বিপদের মুখে আছি। গা বাঁচিয়ে আর যা হোক করোনাভাইরাস মোকাবিলা অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। যার যা দায়িত্ব সেটা পালন করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। ধৈর্য এবং সাহস ছাড়া এই মহাবিপদ থেকে উত্তরণের কোনো সুযোগ নেই। সেই দৃষ্টান্ত আমাদের সামনে তৈরি হয়েছে। চিন যে ভাবে করোনাভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করে পরিস্থিতি সামাল দিতে পেরেছে সেটা অন্য দেশের জন্যও অনুকরণীয়। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সাহস ও ধৈর্যের পরীক্ষায় এখনো শতভাগে পৌঁছতে পারিনি। সচেতনতামূলক কার্যক্রমে সমন্বয় ও সিদ্ধান্তহীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত সেবা সংশ্লিষ্টদের জন্য ভাইরাস প্রতিরোধী ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায় নি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা- বিশেষ করে বস্তি এলাকায় মানুষের কাছে করণীয় সম্পর্কিত তথ্য খুব কমই পৌঁছাচ্ছে। এ দিকটাই বিশেষ নজর দেয়া আবশ্যক।
সরকার সমাবেশ নিরুৎসাহিত করলেও কোনো কোনোভাবে সমাবেশ হচ্ছে। ইতোমধ্যে মুসলমানদের পবিত্র স্থান মক্কা- মদিনায় নামাজ স্থগিত করা হয়েছে। সৌদিআরব লকডউন করে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে এ ব্যাপারে এখনো কোনো রকমের সিদ্ধান্ত হয় নি। মসজিদের এই সমাবেশও মারাত্মক হুমকির কারণ হতে পারে। দেশের ইসলামী চিন্তাবিদ যারা আছেন তাদেরই এ ব্যপারে দ্রুত এগিয়ে আসা বাঞ্ছনীয় হবে। কেননা ভাইরাস মোকাবিলার জন্য এ মুহূর্তে যা যা করার দরকার সেটা করতে হবে। এখানে আবেগকে প্রশ্রয় দেয়ার কোনো সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। এক চরম বাস্তবতার মুখোমুখি দেশ, দেশের মানুষ। বাস্তবতার নিরিখেই ব্যবস্থা নিতে হবে। বিষয়টি জীবন-মরণের প্রশ্ন। এ ব্যাপারে সরকারকে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে।
এখনো রেল যোগাযোগ অব্যাহত আছে। এটা কেন বন্ধ হচ্ছে সেটা মোটেও বোধগম্য নয়। পার্শ্ববর্তী দেশের ৮০ শহরকে ইতোমধ্যে লকডাউন করা হয়েছে। সেখানেও দূরবর্তী রেল যোগাযোগ বন্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও বিষয়টি খুবই প্রযোজ্য। একটি ভয়ের যথার্থ কারণ এই যে, বাংলাদেশ খুবই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এ অবস্থায় করোনাভাইরাস সংক্রমিত হতে থাকলে বিষয়টি নাগালের মধ্যে রাখা সহজ হবে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ