করোনাভাইরাস: উহান থেকে ফিরলেন ৩১৪ জন

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২০, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


নতুন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে চীনের অবরুদ্ধ নগরী উহান থেকে ৩১৪ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন।
শনিবার বেলা ১১টা ৫৩ মিনিটে তাদের বহনকারী বিশেষ বিমান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় বলে জানিয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক তাহেরা খন্দকার।
উহানের তিয়ানহি ইন্টারন্যাশনাল বিমানবন্দরে রাতভর অপেক্ষার পর স্থানীয় সময় শনিবার ভোর পৌনে ১০টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল পৌনে ৮টায়) তাদের নিয়ে বিমানের ওই বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ ঢাকার পথে উড়াল দেয়।
চীনফেরত এই বাংলাশিদের এখন আশকোনো হজ ক্যাম্পে ১৪ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন পুলিশ ও সেনা সদস্যরা। কারও মধ্যে সংক্রমণের লক্ষণ দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে স্থানান্তর করা হবে হাসপাতালে।
পর্যবেক্ষণের এই সময় তাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য স্বজনরা যেন ব্যাকুল না হয়ে পড়েন সেজন্য তাদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
আশকোনোয় কোয়ারেন্টাইনে রেখে পর্যবেক্ষণের এই পুরো বিষয়টিতে আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুশতাক হোসেনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাচ্ছে সরকার।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “ফ্লাইটে ৩১৪ জন এসেছেন। তাদের কোয়ারেন্টাইন স্টেশন আশকোনার হাজী ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। আরও দুজনের আসার কথা থাকলেও শরীরে জ্বর থাকায় তারা চিনে রয়ে গেছেন।”
শাহজালাল বিমানবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, ফিরে আসা বাংলাদেশিদের আশকোনা হজক্যাম্পের নিতে আনা হয়েছে বিআরটিসির আটটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস, রাখা হয়েছে কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স। তাদের মালামাল নিয়ে যেতে আনা হয়েছে চারটি ট্রাক।
মধ্য চীনের উহান শহরে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়। এ ভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায় এর লক্ষণগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত।
নভেল করোনাভাইরাস এর কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন এখনো তৈরি হয়নি। ফলে এমন কোনো চিকিৎসা এখনও মানুষের জানা নেই, যা এ রোগ ঠেকাতে পারে। আপাতত একমাত্র উপায় হল, যারা ইতোমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন বা এ ভাইরাস বহন করছেন- তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং কিছু স্বাস্থ্য বিধি ও পরিচ্ছন্নতার নিয়ম মেনে চলা।
গত এক মাসে কেবল চিনেই ১১ হাজারের বেশি মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে ২৫৯ জনের।
চিনের বাইরে বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় এবং কয়েক জায়গায় মানুষ থেকে মানুষে ছড়ানোর খবর আসায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নতুন করোনাভাইরাসের এ প্রাদুর্ভাবকে ‘বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ