করোনাভাইরাস কতটা মারাত্মক! সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ

আপডেট: এপ্রিল ৭, ২০২০, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

দেশের নাগরিকদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে কি? এ প্রশ্নের উত্তর একেবারে সরাসরি দেয়াও সম্ভব নয়। কত শতাংশ মানুষ এই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছেÑ সে সংখ্যা দিয়ে পরিস্থিতিকে মোটেও মূল্যায়ন করা যাবে না। এক শতাংশের অংশবিশেষও যদি এর বাইরে থাকে সেটা আশংকার মাত্রাকে কম করে দেখায় না। এটা বিবেচনায় নিলে দেশে করোনাভাইরাসে পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক। সামনের দিনগুলো কেমন ভয়াবহ হবেÑ জাতি হিসেবে আমরা প্রাণঘাতী এই ভারইসকে রুখে দিতে পারবো, তার উত্তর এখন সময়ের হাতেই ছেড়ে দিতে হচ্ছে। কেননা করোনা ভাইরাসের পরবর্তী ধাপ কেমন হবে, তার চরিত্র-বৈশিষ্ট্য কেমন হবেÑ তা পৃথিবীর মানুষের কাছে জানা নেই। যে সময়টা অতীত হচ্ছে শুধু ও ই সময়টুকুই নতুন অভিজ্ঞতা ও করণীয় সম্পর্কে জানান দিচ্ছে। ততক্ষণে করোনাভাইরাসের পরবর্তী ধাপের যাত্রা শুরু হয়ে যাচ্ছে। এটা জটিল ধাধার মত একটা অবস্থা। পৃথিবীর মানুষকে যচ্ছেতাইভাবে বোকা বানিয়ে ছেড়েছে। তারপরেও মানুষের প্রাণান্তক প্রচেষ্টা ও উদ্যোগের কোনো অভাব নেই।
দেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার এখন কমিউনিটি ট্রান্সমিশন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার জন্য এই ভাইরাস মোকাবেলার কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো মহামারির কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের মানে হলো রোগটি সমাজের ভেতরে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ছে যাতে এর উৎস খুঁজে পাওয়া আর সম্ভব হয় না। ফলে রোগকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘ইনিশিয়াল স্টেজ (প্রাথমিক স্তর) পার হয়ে আমরা এখন কমিউনিটি সংক্রমণের মধ্যে রয়েছি।’ অর্থাৎ আমরা যে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যে পৌছে গেছি তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
ইতোমধ্যেই করোনাভাইরাস বিস্তার পরিস্থিতি সেই জানান দিয়েছে। গতকাল সোমবার সরকারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন জন মারা গেছেন। এটি হলো বাংলাদেশে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ মৃত্যুসংবাদ। এ নিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন ১২ জন। আর নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৫ জন। ভাইরাসে আক্রান্তের প্রবণতাও জাম্প করেছে। ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর এটাই প্রথম সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত করা হলো। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ১২৩ জন।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই পরিস্থিতিতে ভাইরাস মোকাবেলার চেষ্টা ও পরিকল্পনা কতখানি ক্ষতিগ্রস্ত হবেÑ তার ওপরই অবনতির মাত্রা নির্ভর করছে। বিশ্বজুড়ে চিকিৎসক, গবেষকরা বলছেন, করোনা থেকে বাঁচার একমাত্র উপযোগী উপায় হল পরস্পরের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা। কিন্তু এই দূরত্ব বজায় থাকছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। খুব কড়াকড়ি করেও যে বিষয়টিকে বাগে আনা যাবে বলে মনে হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে সামাজিক উদ্যোগেরও ক্ষেত্রে বোধ করি কিছু ঘাটতি থেকেই গেছে। তুঙ্গ মুহূর্তে সেটা পূরণ করা যায় কি না- সেটার চর্চা করা যেতেই পারে। জনপ্রতিনিধিদের একটা বড় অংশ বিষয়টিকে সিরিয়াসভাবে নিয়েছেন বলে মনে হয় না। ক্ষমতাসীন রাজনীতিকদের অনেকেই নিজেদের রক্ষা করতেই ব্যস্ত। অর্থাৎ এই দুঃসময়ে সাধারণ মানুষকে স্থানীয়ভাবে নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে একটা বড় শূণ্যতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা এখনো শেষ হয়ে যায় নি। তৃণমূল পর্যায়ের কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মি এবং আনসার-ভিডিপির সদস্যদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে কাজে লাগানো যেতে পারে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং জনপ্রতিনিধিদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চিন্তার বাইরে এসে মানুষ রক্ষার ব্রত নিয়ে মাঠে নামলেই পরিস্থিতি সামলে ওঠা যেতে পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ