করোনাভাইরাস নিয়ে গুজব প্রতিরোধে সচেতন মানুষদেরও এগিয়ে আসতে হবে

আপডেট: মার্চ ৩১, ২০২০, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

মহামারি করোনাভাইরাস নিয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্ব-অস্থির-আতঙ্কিত সময় পার করছে। করোনাভাইরাস নামক যমদূত কার শরীরে সওয়ার হয় এবং মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়- সেই দুশ্চিন্তা প্রতিটি মানুষকে পেয়ে বসেছে। এই ভয়াবহ বিপদের সময় কিছু মানুষ নতুন এক আপদের সৃষ্টি করে চলেছে সেটা হলো ‘গুজব’। সামাজিক মাধ্যমে এই গুজব ভাইরাসের মতই ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এমন কিছু অলস ও বিকৃত রুচির মানুষ আছেন যারা ভুল তথ্য পরিবেশন করে মানুষকে বিভ্রান্ত করে, বিপদে ফেলে এবং নিজের বিকৃত তৃপ্তি লাভ করছে। আর কিছু মানুষ আছেন যারা ওই সব বিকৃতকারীদের দেয়া তথ্য বিশ্বাস করে, তথ্য যাচাই না করেই- পরিণাম না ভেবেই তারাও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যে যে যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে মানুষ না বুঝে তা গ্রহণ করছে। শেয়ার করে এগুলো সব জায়গায় ছড়িয়ে দিচ্ছে। এরফলে মানুষ ভুলতথ্য গ্রহণ করছে এবং সঠিক তথ্যগুলোর ওপর বিশ্বাস হারাচ্ছে। এই বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে শিক্ষিত মানুষেরাও পিছিয়ে নেই। এটাও এক ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণ হতে পারে। সংবাদ মাধ্যমে এমন খবর প্রায় আসছে যে, বিদেশফেরত শুনে বাড়িতে ঢুকতে বাধা, গ্রাম থেকে বেরিয়ে যেতে চাপ দেয়া, করোনাভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির দাফনে বাধা, সম্ভাব্য রোগীকে চিকিৎসা দেয়ায় হাসপাতাল ভাঙচুর, অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরিতে বাধা-ইত্যকার নানা ঘটনা। এ ধরনের অবৈজ্ঞানিক, অযৌক্তিক এবং অমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষ নিজেদেরই ক্ষতি করে চলেছে।
তবে এসব গুজব ঠেকাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও আছে। কিন্তু তা যথেষ্ট কি না তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। কেননা যে হারে গুজব ছড়ানো হচ্ছে- সেই গতিতে প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। এসব গুজবের ডালপালা নানা মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে একেবারে তৃণমূলের মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। সংবাদ মাধ্যমে তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাস নিয়ে গুজব ও সরকারবিরোধী বিভ্রান্তি ছড়ানোর কারণে ইতোমধ্যে ২০টি ফেসবুক আইডি, পেজ বন্ধ করেছে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ছাড়া এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত আরও ৫০টি ফেসবুক আইডি, পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল শনাক্ত করা হয়েছে।
জানা গেছে, র‌্যাব, ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট এবং সিআইডিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিটি সংস্থা গুজব বন্ধে কাজ করছে। সিটিটিসির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গুজব বন্ধে বিভাগটি সাইবার পেট্রোলিং করছে। গুজব ছড়ানোর অভিযোগে এ পর্যন্ত ২০টি ফেসবুক আইডি ও পেজ বন্ধসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে এ বিভাগ।
জাতির নানা সঙ্কট-সমস্যায় লক্ষ্য করা যায়, এক শ্রেণির বিকৃতকামীরা নানা গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে। করোনাভাইরাসের মত ভয়াবহ একটি রোগ নিয়ে বিভ্রান্ত ছড়াতেই থাকলে এই রোগ প্রতিরোধ কর্মসূচিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যেসব উৎস থেকে বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে সেই সব উৎসের কুশিলবদের চিহ্নিত করা খুবই জরুরি। বিকৃতমনোবাসনা চরিতার্থকারীদের গ্রেফতার করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এবং এই ব্যক্তিদের বিকৃত চেহেরা দেশবাসীর সামনে আনতে হবে যাতে করে ওই ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে বয়কট করা যায়।
দেশের সচেতন নাগরিকদেরও এ ব্যাপারে দায়িত্ব রয়েছে। এসব গুজবের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে সবাইকে। প্রকৃত তথ্য মানুষের সামনে আনার উদ্যোগ সমাজ থেকেই আসতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠাতেই গুজবের ডালপালা ছেটে ফেলা সম্ভব হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ