করোনাভাইরাস প্রতিরোধ প্রস্তুতি কতটুকু যথার্থ, কতটা সম্ভব!

আপডেট: মার্চ ২৩, ২০২০, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

করোনাভাইরাস কমিউনিটি লেভেলে ছড়াচ্ছে? না, সরকার এখনো তেমনটি মানছে না। কিন্তু বিশ্ব পরিস্থিতি যা তাতে কমিউনিটি লেবেলে ছড়িয়ে পড়তে কতক্ষণ! পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে করোনাভাইরাস নিয়ে ব্যাপক তোড়জোর শুরু হয়েছে। রোববার থেকে ‘জনতার কারফ্যু’ ও শুরু হয়েছে। রাস্তা- বাজার সব কিছু একে এক লকডাউনে চলে যাচ্ছে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সামান্য-ত্রুটি-বিচ্যূতিতে লজ্জার কিছু নয়Ñ বরং কতটুকু সতর্কতা ও প্রতিরোধী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে- সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। সেটা বাংলাদেশে হচ্ছে কি?
সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী চিনের উহানে প্রথম করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশ তিন মাস সময় পেয়েছে। সে অনুযায়ী প্রস্তুতির যথেষ্ট সুযোগ ছিলÑ সেটা নেয়া হয়েছে বলা মনে হয় না। মাত্র হাসপাতাল প্রস্তুত করা হচ্ছে, আইসিইউ ব্যবস্থা হচ্ছে, সরঞ্জাম আনা হচ্ছে বিদেশ থেকে। অথচ শুরু থেকে দেশে কিট নেই, হাসপাতাল প্রস্তুত নয়, চিকিৎসকদের সুরক্ষা সরঞ্জাম নেই বলে সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি গুরুত্বলাভ করেছে বলে মনে হয় না।
দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের তথ্য মতে- রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাঁদের নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যাপারে শঙ্কিত। অথচ চিকিৎসকসহ জরুরি সেবা কাজে সংশ্লিষ্টদের সুরক্ষার ব্যাপারটি অনেক আগে থেকেই বিবেচনায় নিতে হতো। সেবা কাজে নিয়োজিতরা নিরাপদ না হলে পরিস্থিতির ভয়াবহতা কয়েকগুন বেড়ে যেতে পারে।
করোনাভাইরাস নিয়ে এখনো জরুরিভাবে আরো কিছু দায়িত্বশীল ভূমিকা নেয়া সুযোগ রয়েছে। হোম কোয়ারেন্টিনের সিদ্ধান্ত খুব যথার্থ হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন না। পরিবারের সাথে বসবাসটা এ ক্ষেত্রে পুরো পরিবার এবং পরিবেশ-প্রতিবেশ ঝুঁকিমুক্ত বলা যাবে না। এ ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থাটা করে গেলে সুফল আরো অনেক বেশি পাওয়া যেত। সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে দোদুল্যমানতা লক্ষ্য করা গেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নেয়া যেতে পারতো। অন্ত মাসখানেক আগে থেকেই প্রস্তুতিটা রাখা গেলে এ অবস্থার সৃষ্টি হতো না। এবং ওই সময় থেকেই আক্রান্ত দেশগুলো থেকে যারা ইতোমধ্যেই দেশে এসেছেন তাদের সকলকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা সম্ভব হলে পরিস্থিতি অনেকটাই আয়ত্তে থাকতো।
যাহোক, পরিস্থিতি যে দিকে মোড় নিতে যাচ্ছে তাতে সরকারকে আরো কঠোর ভূমিকায় থাকতে হবে। যারাই কোয়ারেন্টিনের বিষয়টিকে লঙ্ঘন করবেন কিংবা সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সমাবেশ করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কেননা বিদেশফেরতদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ কোয়ারেন্টিনের বাইরেই আছে। তারা প্রচণ্ড ঝুঁকি তৈরি করেছে।
রাজশাহীতে বেশ কিছু ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলো কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসব কর্মসূচির সমন্বয় সাধনের এখনো যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। প্রস্তুতি নেই করোনাভাইরাসে কেউ মারা গেলে তাকে কীভাবে দাফন কাফন করা যাবে এবং কারাই বা দাফনের কাজটি সম্পন্ন করবেন। কেননা এর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকতে হবে। সেটিরও প্রস্তুতি এখন থেকেই নেয়া উচিৎ হবে। গোরস্থানগুলোতে এই ভাইরাসে মৃতদের জন্য পৃথক কর্নার করা যেতে পারে এবং দাফন-কাফনে যারা থাকবেন তাদের জন্য ভাইরাস প্রতিরোধী ব্যবস্থাসহ তাদের করণীয় সম্পর্কে এখনই ধারণা দেয়া সঙ্গত হবে। পরিস্থিতির তুঙ্গ-মুহূর্তে গেলে তখন এসব বিষয় নিয়ে ভাবা সম্ভব নাও হতে পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ