করোনাভাইরাস: মোদীর ডাকে ভারতে ‘জনতা কারফিউ’ শুরু

আপডেট: মার্চ ২৩, ২০২০, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


দ্রুত ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের বিস্তার ঠেকাতে ভারতজুড়ে ১৪ ঘণ্টার ‘জনতা কারফিউ’ শুরু হয়েছে।
রোববার দেশটির স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া এ কারফিউ রাত ৯টা পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।
এ দিন সকাল পর্যন্ত দেশটিতে মোট ৩৩২ জন ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ও এ পর্যন্ত চার জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া পরিসংখ্যানে দেখা গেছে।
গত বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া এক ভাষণে ১৪ ঘণ্টার জনতা কারফিউ পালনের ডাক দিয়ে এ সময় নাগরিকদের ঘরে অবস্থান করার আর্জি জানিয়েছিলেন।
এই কারফিউ পালনের মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের সক্ষমতা যাচাই হয়ে যাবে বলে মনে করছেন তিনি।
তিনি বলেছেন, “বহু মানুষকে আইসোলেশনে রেখে পরিস্থিতির মোকাবেলা করা হচ্ছে। আমাদের সবার উচিত সতর্ক থাকা, আপনারা এ দিক সে দিক ঘুরে বেড়াবেন, আর করোনা থেকে বাঁচবেন, এটি সম্ভব নয়।”
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কারফিউ শুরু হওয়ার কয়েক মিনিট আগে এক টুইটে মোদী বলেন, “আসুন আমরা সবাই এই কারফিউয়ে অংশ নেই, এটি কভিড-১৯ এর ভয়াবহ বিপদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অপরিমেয় শক্তি যোগ করবে। যে পদক্ষেপ এখন আমরা নিয়েছি তা আসছে সময়ে কাজে লাগবে।”
এ দিন বিকাল ৫ টায় কারফিউ পালনরত নাগরিকদের নিজেদের দরজায়, জানালায় অথবা বারান্দায় দাঁড়িয়ে অন্যের সেবা যারা করছেন তাদের জন্য ৫ মিনিট হাততালি, থালা, ঘণ্টা বাজিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করারও আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।
কারফিউ চলাকালীন রুটিন চেকআপের জন্য হাসপাতালে যেতেও মানা করেছেন তিনি। যে সমস্ত সার্জারি একান্ত জরুরি নয়, সেগুলোর তারিখ পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
এনডিটিভি জানিয়েছে, এ ১৪ ঘণ্টা জরুরি পণ্য ও সেবার সঙ্গে জড়িত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থাগুলো বাদে দেশজুড়ে অন্য সব কিছুই বন্ধ থাকবে।
এ সময় ভারতজুড়ে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও আগে থেকেই চলতে থাকা ট্রেনগুলো বন্ধ করা হবে না এবং সেগুলোর চলা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে দেশটির রেলওয়ে বিভাগ। এর পাশাপাশি দেশজুড়ে জরুরি সেবা ছাড়া অন্যান্য সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কয়েকটি এয়ারলাইন্স সীমিত ফ্লাইট চালাবে বা বাতিল করবে বলে জানিয়েছে।
শনিবার পশ্চিমবঙ্গ ও পুনেতে একজন পুরুষ ও একজন নারীর করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে। তাদের দুজনের কারোই বিদেশ ভ্রমণের কোনো ইতিহাস না থাকায় ভারতে কভিড-১৯ রোগটি সামাজিকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ