করোনাভাইরাস: রাণীনগরে বিভিন্ন স্থানে লোকসমাগম অব্যাহত

আপডেট: মার্চ ২৭, ২০২০, ১২:০৭ অপরাহ্ণ

নওগাঁ প্রতিনিধি


রাণীনগরে সবজির দোকানে এভাবে ভীড় করে কেনাকাটা করতে দেখা যায় ক্রেতাদের। ছবি আজ শুক্রবার সকালে তোলা- সোনার দেশ

নওগাঁর রাণীনগরে প্রশাসন তৎপর থাকার পরেও উপজেলার বিভিন্ন মোড়ে ও বাজারে জনসমাবেশ কমছে না। রাণীনগর উপজেলা বর্তমানে লকআপ। এখনো স্বাভাবিক জীবন-যাপনের মতো মানুষদের চলাফেরা রয়েই গেছে। এছাড়া সামাজিক দূরত্বও কেউ মানছে না। নিজেদের ইচ্ছে মাফিক চলাফেরা অব্যাহত রেখেছে।
উপজেলার কালীবাড়ি হাট, বিজয়ের মোড়, চৌরাস্তার মোড়, উপজেলা গোলচত্বরসহ কয়েকটি স্থানে গিয়ে দেখা যায় গোপনে কিছু চা-স্টলগুলো দোকান খুলে রেখে চাসহ অন্যান্য জিনিস বিক্রি করছে। আর সেই সুবাদে দোকানগুলোতে ভীড় লেগেই আছে। এছাড়াও কাঁচা বাজার, মাছবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে এতো পরিমান লোক সমাগম দেখে মনে হবে যেন মেলা বসেছে। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক যে দূরত্ব নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। সে বিষয়ে কেউ সচেতন নয় কিংবা বিষয়টি জেনেও তা মেনে চলার কোন মানসিকতা নেই বললেই চলে। বিশেষ করে প্রতিদিন বিকেল করে এই সব স্থানে লোকসমাগম চলেই আসছে। কিছু কিছু দোকানে বেচাকেনা স্বাভাবিক ও পাঁচ জনের বেশি লোকজন রয়েছে।
অপরদিকে উপজেলায় বিদেশ থেকে আসা কিছু প্রবাসীদের কোন হদিস না পাওয়ায় এলাকার মানুষদের মাঝে এক আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় অনেকেই জানান প্রশাসনের সঠিক নজরদারীর অভাবে এই অনিয়মগুলো চলছে। কেউই সঠিক ভাবে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সরকারের বেঁধে দেওয়া নিয়ম-কানুনগুলো পালন করছে না। তাছাড়া ঢাকা থেকে যারা এলাকায় এসেছে তাদেরকে নিয়ে দুঃশ্চিন্তার বিষয় আরো অনেক বেশি। কারণ তারা এলাকায় এসে কোন নিয়ম-কানুন ছাড়াই নিজেরে ইচ্ছে মাফিক চলাফেরা করছেন। অথচ তাদেরকেই প্রথমে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা উচিত। প্রশাসন শুধু কিছু প্রচার ছাড়া কোন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।
এছাড়াও উপজেলার সাপ্তাহিক হাটগুলোতেও তাদের কার্যক্রম চালাতে দেখা গিয়েছে। উপজেলার সব বড় ও ঐতিহ্যবাহি হাট আবাদপুকুর হাট গত বুধবার বসলে স্বাভাবিক চলছিলো তার কার্যক্রম। পরে উপজেলা প্রশাসন হাটে লোক পাঠিয়ে কিছুটা লোকসমাগম কমাতে সক্ষম হলেও শেষ পর্যন্ত হাটের কার্যক্রম চালানো হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, জনসচেতনয় বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। অনিয়মের অভিযোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমও অব্যাহত রাখা হয়েছে। এরপরও যদি কোথাও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জারি করা নিয়ম-কানুনগুলো সঠিক ভাবে মেনে চলা না হয় তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ