করোনাভাইরাস: শতকোটি ডোজ টিকা দিয়ে ‘ইতিহাস’ ভারতের

আপডেট: অক্টোবর ২১, ২০২১, ২:৩১ অপরাহ্ণ

মুম্বাই শহরে অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড টিকার ডোজ গ্রহণ করছেন একজন নারী। ছবি: রয়টার্স

সোনার দেশ ডেস্ক


ভারত বৃহস্পতিবারের সকালের মধ্যেই করোনাভাইরাস টিকার ১০০ কোটি ডোজ প্রদান সম্পন্ন করেছে।
জানুয়ারির মাঝামাঝি ধীর গতিতে টিকা কর্মসূচী শুরু করার পর এর মধ্য দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক পার করল দেশটি। উৎসবের মধ্য দিয়ে ‘মহান’ এই অর্জন উদযাপন করার পরিকল্পনা করেছে দেশটির সরকার।
মাইলফলক অর্জিত হওয়ার পর টুইটারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “ইতিহাস রচনা করল ভারত। আমরা ভারতীয় বিজ্ঞানের জয়, উদ্যম ও (১৩০ কোটি) ভারতীয়র সম্মিলিত উদ্দীপনা প্রত্যক্ষ করলাম।”

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই উপলক্ষ্যের ক্ষণটিতে মোদী নয়া দিল্লির একটি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে সঙ্গীতানুষ্ঠান ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভগুলোতে আলোকসজ্জার আয়োজনও করা হয়েছে।
এ উপলক্ষ্যে দিল্লির স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে লাল কেল্লায় একটি গান ও একটি অডিও-ভিজ্যুয়াল ফিল্মের প্রদর্শনী উদ্বোধন করার কথা রয়েছে ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানসুখ মানদাভিয়ার।

বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, এদিন লাল কেল্লায় ১৪০০ কেজি ওজনের বৃহত্তম জাতীয় পতাকাও ওড়ানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
করোনাভাইরাস টিকা কর্মসূচী শুরু করার পর নয় মাসের মধ্যে দেশটি ১০০ কোটি ডোজ দেওয়া সম্পন্ন করল। এসব ডোজের প্রায় ৯০ শতাংশের ক্ষেত্রে সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার উৎপাদিত অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকা ব্যবহার করা হয়েছে।
“আমি টিকা না নেওয়া সব ভারতীয়দের দ্রুত তাদের ডোজ গ্রহণ করার এবং আমাদের ঐতিহাসিক স্বর্ণালি টিকা যাত্রায় অবদান রাখার আবেদন জানাচ্ছি,” টুইটারে বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানদাভিয়া।

চলতি বছরের মধ্যে ভারতের ৯৪ কোটি ৪০ লাখ প্রাপ্তবয়স্কের সবাইকে টিকার আওতায় আনতে চায় মোদী সরকার। ইতোমধ্যে তাদের ৭৫ শতাংশ টিকার অন্তত একটি ডোজ এবং ৩১ শতাংশ দুটি ডোজ পেয়েছেন।
ভারতে এ পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা তিন কোটি ৪১ লাখেরও বেশি আর মৃত্যু হয়েছে চার লাখ ৫২ হাজার ৬৫১ জনের। এপ্রিল ও মে-তে মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সংক্রমণেই আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল।
টিকার পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও ‘উল্লেখযোগ্য সংখ্যক’ লোক নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে তাদের দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেননি বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মার্চের শুরুর দিক থেকে নতুন রোগীর সংখ্যা কমতে শুরু করার পর থেকে এ প্রবণতা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ