করোনার ওষুধ উৎপাদনে ফাইজারের অনুমতি সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়িত হোক

আপডেট: নভেম্বর ১৮, ২০২১, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশসহ ৯৫টি দেশের ওষুধ কোম্পানিগুলোকে নিজেদের তৈরি করোনার ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি দিয়েছে ফাইজার। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) জাতিসংঘ সমর্থিত গ্রপ মেডিসিনস প্যাটেন্ট পুলের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল জায়ান্টদের। ফলে নির্ধারিত দেশগুলোর ওষুধ নির্মাতারা ফাইজারের তৈরি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ প্যাক্সলোভিড উৎপাদনের লাইসেন্স পাচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের পাশাপাশি সাব-সাহারান অঞ্চলের কিছু উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ এবং গত পাঁচ বছরের মধ্যে নিম্ন-মধ্যম আয় থেকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে এমন ৯৫টি দেশ তাদের তৈরি করোনার ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি পাবে।
নিঃসন্দেহে এটি একটি প্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত। এখনো এই উদ্যোগের প্রয়োজন শেষ হয়ে যায় নি। তবে উদ্যোগটা আরো আগে নেয়া সম্ভব হলে হয়ত পৃথিবীর অনেক মানুষ প্রাণে রক্ষা পেত। টিকা আবিষ্কারের প্রথম দিকেই দাবিটি উঠেছিল যে, করোনা ভ্যাকসিনের অধিকার বিশ্ব মানুষের হোক- কিন্তু উন্নত দেশগুলোর উদগ্র বাণিজ্যিক স্বার্থ মানবিক স্বার্থের অনুকূল হয়নি। ফলে বাস্তব চিত্র ভয়ংকরই হয়েছে। করোনার টিকা ধনী দেশের কাছে বিক্রি করে ফাইজার, বায়োনটেক, মডার্না প্রতি সেকেন্ডে এক হাজার ডলার লাভ করছে। প্রতিদিন তাদের সম্মিলিত লাভের পরিমাণ ৯ কোটি ৩৫ লাখ ডলারের মতো। পিপলস ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স (পিভিএ) নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এই হিসাব দিয়েছে। তার পাশাপাশি তারা জানিয়েছে, ধনী দেশগুলি যখন অঢেল ভ্যাকসিন কিনে টিকা প্রস্তুতকারকদের লাভবান করছে, তখন গরিব দেশের মাত্র দুই শতাংশ মানুষ টিকা পেয়েছে। অথচ করোনা ভ্যাকসিনের ব্যবসা করে নতুন করে বিলিয়নিয়ার হয়েছেন ৯ জন। গত ২১ মে এক ক্যাম্পেইন গ্রুপ এ তথ্য জানিয়েছে। তারা বলছে, ফার্মাসিউটিক্যাল কর্পোরেশনগুলো ভ্যাকসিন প্রযুক্তিতে একছত্র আধিপত্য তৈরি করে রেখেছে।
এনডিটিভি তথ্য মতে, পিপলস ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এই ভ্যাকসিন ব্যবসায়ীদের মধ্যে ৯ নতুন বিলিয়নিয়ার সব মিলিয়ে ১৯.৩ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। এই অর্থে স্বল্প আয়ের দেশগুলোর সব নাগরিককে পুরোপুরি ভ্যাকসিনেশনের আওতায় নেয়া সম্ভব।’ এই অ্যালায়েন্স বেশ কিছু সংগঠনের সমষ্টি, যারা পেটেন্ট অধিকারের বিরোাধিতা করে আসছে। এই অ্যালায়েন্সের অংশ চ্যারেটি অক্সফামের অ্যানা ম্যারিয়ট বলেন, ‘মনোপলির কারণেই এই বিলিয়নিয়াররা বিপুল মুনাফা করছেন।’
যাহোক, বাংলাদেশসহ ৯৫টি দেশের ওষুধ কোম্পানিগুলোকে নিজেদের তৈরি করোনার ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি দিয়েছে ফাইজার এটাও কম কিছু নয়। এর ফলে গরিব দেশগুলো স্বল্পমূল্যে করোনার টিকা পেতে পারবে। তবে সিদ্ধান্ত যতশিগগিরই বাস্তবায়ন করা যায় তত দ্রুত ফল পাওয়া যাবে। এটার মধ্যেও যাতে উগ্র-বাণিজ্যে ফন্দি-ফিকির প্রবেশ না করে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ