করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের ঝূঁকি বাংলাদেশ কতটুকু প্রস্তুত!

আপডেট: নভেম্বর ২২, ২০২১, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

কোভিড-১৯ সংক্রমণের দুর্ভাবনা কাটছেই না। মনে করা হচ্ছিল বিশ্ব ক্রমশ করোনা ভাইরাসমুক্ত হতে চলেছে। কিন্তু নতুন করে ঝুঁকির বিষয়টি সামনে চলে আসছে বারবার। এঝুঁকি যেমন বাংলাদেশে তেমনি বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতেও। বিবিসির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউরোপে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নতুন করে আবারো বাড়তে শুরু করেছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে করোনার নতুন ঢেউয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এক বিবৃতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক ড. হ্যান্স ক্লুগ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এখনই জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আগামী বছরের মার্চের মধ্যেই ইউরোপে ৫ লাখ মানুষ করোনা সংক্রমণে প্রাণ হারাতে পারেন। নতুন করে লকডাউনে যাওয়ার ব্যাপারে ইতোমধ্যেই অস্ট্রিয়া উদ্যোগ নিয়েছে। নেদারল্যান্ডে বিধি-নিষেধের বিরুদ্ধে সহিংসতা পর্যন্ত হয়ে গেছে।
বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ কোনো ঝুঁকিতে আছে কি? বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি প্রায় দুই মাস নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এই শীতেই আবার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। যা তৃতীয় ঢেউ হিসেবে চূড়ান্ত আঘাত হানতে পারে আগামী মার্চ নাগাদ। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীরা শীতে বেড়াতে আসে। বাংলাদেশে এখনো খুব বেশি মানুষ টিকার আওতায় আসেনি। উঠে গেছে স্বাস্থ্যবিধি। শীতে বিয়েসহ নানা সামাজিক অনুষ্ঠান বেড়েছে। এসব কারণে আবারও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে করোনা পরিস্থিতি। দ্রুত টিকার কভারেজ না বাড়লে এখানে তৃতীয় ঢেউয়ের আঘাতে প্রচুর প্রাণহানিরও আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্খা বরাবরই বলে আসছে মাস্ক পরা করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে বেশ কার্যকরি। কিন্তু দেশের বর্তমান পরিস্থিতি মাস্কবিহীনই বলা যায়। কোথাও আর স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার বালাই নেই। ইউরোপে নতুন করে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পেছনে শীত মৌসুম ও কম মাত্রায় ভ্যাকসিন গ্রহণকেই দায়ী করা হচ্ছে-যা বাংলাদেশের পরিস্থিতির সাথেও মেলে। অর্থাৎ এখনো উল্লেখযোগ্য মানুষ টিকার বাইরে রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে,অতি সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের কারণেও দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
নিরাপদে থাকতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, বারবার হাত ধোয়া ও মাস্ক পরার ব্যাপারে প্রচার-প্রচারনায় এখনই গুরুত্বরোপ করা বাঞ্ছনীয়। একই সাথে টিকাকরণে গতি বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের উদাসীনতা কাম্য হবে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ