করোনার মিশ্র ডোজ নিয়ে সতর্কতা সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে !

আপডেট: জুলাই ১৬, ২০২১, ৮:২৭ পূর্বাহ্ণ

করোনাভাইরাস নিয়ে স্বস্তির অন্বেষা শেষ হচ্ছে না। যেন সম্ভাবনা দূর আরো দূরে সরে যাচ্ছে। এটা কী এই যে এখনো বিশেষজ্ঞগণ করোনা সম্পর্কে পূর্ণরূপে জানতে বা জানাতে পারছেন না? করোনাভাইরাস ধরন পাল্টাতেই আছে- নিজের মত করে কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান এখনো নিজের মত করে করোনাভাইরাসকে চেপে ধরতে পারছে না। তাই বুঝি করোনার ধরন ও বৈশিষ্ট্যের নিরিখেই বিশেষজ্ঞদের একেক সময় একেক রকম মত আসছে। এসব কিছু দ্বান্দ্বিক পরিস্থিতি তৈরি করছে যেমন, তেমনি তা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তও করছে।
এই তো কিছুদিন আগে মিশ্র টিকার ব্যাপারে সাপাই গাওয়া হয়েছেÑ ১২ জুলাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বিজ্ঞানী এখন বলেছেন, এটা ভয়ঙ্কর বিপদ ডেকে আনতে পারে।
সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী মিশ্র টিকা করোনার বিরুদ্ধে কতটা কার্যকরি তা নিয়ে সারাবিশ্বেই গবেষণা চলছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, দু’বার দু’রকমের টিকা নিলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। জার্মানি এবং ইউরোপের একাধিক দেশে ইতোমধ্যেই দু’রকমের টিকা নেয়ার নিয়ম চালু হয়েছে। ভারতে বর্তমানে কোভিশিল্ড, কোভ্যাক্সিন এবং স্পুটনিক-ভি টিকার ব্যবহার হচ্ছে। আর এ কার্যক্রমে নাগরিকদের উদ্বুদ্ধ করতে জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেল দুই রকমের টিকা নিয়েছেন। থাইল্যান্ডও তাদের গণটিকাদান কর্মসূচির নীতি পরিবর্তন করে দুই রকম টিকা মিলিয়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তা হলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কবাণী কতটুকু গ্রহণযোগ্য? তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছেও এর কোনো প্রমাণ-ভিত্তি নেই যে, ভিন্ন রকমের দুই টিকা নিলে শরীরে কোন্ ধরনের প্রভাব পড়বে। কিন্তু উন্নত দেশ যারা মিশ্র টিকায় উৎসাহিত করছে- তারা কোনো ধরনের স্বাস্থ্য প্রতিক্রিয়া বিবেচনা না করেই কি সে কাজটি করছে, এটা কীভাবে মেনে নেয়া যায়? তবে স্বাস্থ্য সংস্থা এটা মানছে যে, মিশ্র টিকা নিয়ে কোনো তথ্যপ্রমাণ হাতে নেই। এ ক্ষেত্রে মিশ্র পদ্ধতির টিকা নিয়ে যেসব দেশ কার্যকর করছেÑ বরং তারা কোন্ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মিশ্র টিকাকে উৎসাহিত করছে, সেটা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুসন্ধান করাই বাঞ্ছনীয় ছিল। এটা ভুলে গেলে চলবে না যে, জার্মানির মত দেশও মিশ্র টিকা উৎসাহিত করছে। পক্ষান্তরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা জারি বিশ্বের মানুষকেই বিভ্রান্ত করবে। এ ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উচিৎ হবে তথ্য-প্রমাণ নিয়ে এসে বিষয়টি সম্পর্কে মন্তব্য করা।
একেই তো পৃথিবী করোনাভাইরাস নিয়ে বিপর্যস্থ। এই পরিস্থিতিতে স্পষ্টিকরণ ব্যতিরেকে কোনো দায়িত্বশীল আন্তর্জাতিক সংস্থার মন্তব্য করা কতটুকু সমীচীন সেটা ভেবে দেখা দরকার।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ