করোনায় আম পরিবহনে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন’

আপডেট: জুন ২১, ২০২১, ২:০৭ অপরাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা (রাজশাহী)


আড়ানী স্টেশন থেকে আম পরিবহন করছে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন।

রাজশাহীর বাঘায় আমের চাষ হয়েছে ৮ হাজার ৫৭৫ হেক্টর জমিতে। আমের পুরো মৌসুম শুরু হয়েছে দেড় মাস আগে থেকে। এরমধ্যে গোপাল ভোগ আম প্রায় শেষ হয়ে গেছে। ভরা মৌসুমে ট্রেনের মাধ্যমে আম পরিবহনে সরকারি উদ্যোগ আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উজ্জীবিত করেছে। করোনাকালীন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ উদ্যোগ আম পরিবহনের ক্ষেত্রে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী স্টেশন থেকে ঢাকায় যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির আম।
আড়ানী স্টেশনের তথ্যমতে ‘ম্যাংগো স্পেশাল’ ট্রেনের উদ্বোধনের ২৭ দিন অতিবাহিত হতে যাচ্ছে। এই ট্রেনের উদ্বোধন করা হয় ২৭ মে। এই ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনে আম ছাড়াও কৃষিজাত পণ্য ও অন্যান্য মালামালও পরিবহন করা যাচ্ছে। চালুর পর থেকে ট্রেনটি আম পরিবহনে আগ্রহ বাড়ছে। ২৭ দিনে আড়ানী স্টেশন থেকে সোমবার (২১ জুন) পর্যন্ত ঢাকায় আম গেছে মোট ৩ লাখ ১১ হাজার ৭৫০ কেজি।
এরমধ্যে আড়ানী স্টেশন থেকে প্রথম সপ্তাহে ট্রেনটি আম পরিবহন করে ১ লাখ ৩০ হাজার ২০ কেজি। দ্বিতীয় সপ্তাহে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫০ কেজি। এছাড়া তৃতীয় সপ্তাহে ১ লাখ ৫১ হাজার ৮০ কেজি।
‘ম্যাংগো স্পেশাল’ ট্রেনটিতে আড়ানী স্টেশন থেকে এক কেজি আম ঢাকায় পৌঁছেেত খরচ পড়ছে ১ টাকা ১৮ পয়সা। অল্প মূল্যে আম পরিবহনের বিষয়টি সবার মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। নিরাপদে আম পরিবহনের জন্য ট্রেনটি ইতিমধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় আম ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, সোমবার আমার ৩৮০ কেজি আম ১ টাকা ১৮ পয়সা হিসেবে বুক করেছি। ২৫ কেজি ওজনের ১২টি ক্যারেট বুক করা হয়েছে। এছাড়া ক্যারেট প্রতি ১০ টাকা লেবার খরচ দিয়েছি। ঢাকা স্টেশনে নামাতে লাগবে আরো ১০ টাকা। তবে সড়কের চেয়ে টাকা সাশ্রয় হচ্ছে।
আড়ানী খয়েরমিল নুরনগর গ্রামের আম ব্যবসায়ী আবু হানিফ বলেন, আমি চলতি সপ্তাহে ট্রেনে ২ হাজার ৫০০ কেজি আম ঢাকায় দিয়েছি। আগামী কাল আরো বেশি পাঠাবো। অন্য যান বাহনের চেয়ে খরচ কম হচ্ছে।
আড়ানী স্টেশেনের কুলির সরদার হোসেন আলী বলেন, এই স্টেশনে আমরা ১১ জন কুলি রয়েছি। এই করোনার কারনে আমরা দীর্ঘ দিন থেকে বসে ছিলাম। এই ট্রেনটি চালু হওয়ায় কুলিদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা দিয়েছে।
আড়ানী স্টেশন মাস্টার সদরুল হোসেন বলেন, চলতি প্রায় সপ্তাহে ১ লাখ ৫১ হাজার ৮০ কেজি আম বুক করা হয়েছে। সড়কের চেয়ে পরিবহন খরচ অনেক কম হচ্ছে বলে আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। এই করোনাকালীন আম পরিবহনের চাহিদা ও পরিমাণ আস্তে আস্ত বাড়ছে। ট্রেনটি ঢাকায় পৌঁছাচ্ছে রাত ১টায়। ঢাকা থেকে ট্রেনটি রাত ২টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে আসছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, ‘ম্যাংগো স্পেশাল’ ট্রেনটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপির আন্তরিক প্রচেষ্টায় চালু হওয়ায় এই অঞ্চলের আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা সরাসরি সুফল পাচ্ছেন। তবে আম পরিবহনের জন্য অল্প সময়ে মধ্যে চাষি ও ব্যবসায়ীদের কাছে জনপ্রিয়তা হয়ে উঠেছে ‘ম্যাংগো স্পেশাল’ ট্রেন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ