করোনায় ঘরে বসে অফিসের কাজ সফলভাবে করার পাঁচ উপায়

আপডেট: মার্চ ২২, ২০২০, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ভাইরাসের প্রকোপে বিশ্বজুড়ে বন্ধ হয়েছে অনেক অফিস-আদালত। এর মাঝেও অবশ্য কর্মচাঞ্চল্য একেবারেই থেমে নেই। ফলে বিশ্বজুড়ে চলতি সপ্তাহে আরও কয়েক লাখ মানুষ ঘরে থেকে কাজ করা কর্মীদের তালিকায় নাম লেখাতে চলেছেন।
করোনা ভাইরাসের প্রকোপে বিশ্বজুড়ে বন্ধ হয়েছে অনেক অফিস-আদালত। তবে এর মাঝেও একেবারেই থেমে নেই কর্মচাঞ্চল্য। ফলে বিশ্বজুড়ে চলতি সপ্তাহে আরও কয়েক লাখ মানুষ ঘরে থেকে কাজ করা কর্মীদের তালিকায় নাম লেখাতে চলেছেন।
সাধারণত যুক্তরাজ্যে ১৫ লাখ মানুষ ঘরে বসে কাজ করেন। কিন্তু করোনা ভাইরাস বিস্তারের এই সময়ে বাসস্থান থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালনের এই প্রবণতা অনেক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
এ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামতসহ একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি।
আপনি যদি নিতান্তই ঘরকুনে এবং অন্তর্মুখী না হন, তাহলে ঘরে বসে কাজ করাটা আপনার জন্য নতুন এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে উপস্থিত হতেই পারে। এই পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার সহজ কিছু উপায় বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
উপযোগী পোশাক পরুন : ঘরে বসে কাজ করা মানেই অনেকের কাছে নিজের ইচ্ছেমতো পোশাক পরার সুযোগ। অনেকে স্রেফ পাজামা পরেই পেশাগত কাজে লেগে যান। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুম থেকে উঠে নিজেকে তৈরি করে সঠিক পোশাক পরার মধ্য দিয়ে আপনি কাজ করার বাড়তি অনুপ্রেরণা পাবেন।
শুধু তাই নয়, এটা আপনাকে এই ভীতিকর পরিবেশে ঘরে বসে কাজ করার অস্বস্তি কাটিয়ে ওঠাসহ বাড়তি মানসিক শক্তি যোগাবে। অফিস উপযোগী পোশাক পরার আগে পরিচ্ছন্ন হওয়ার মাধ্যমে আপনি বাড়তি সতেজতাও লাভ করবেন।
এক্ষেত্রে বাড়তি কোনো বাহুল্যের দরকার নেই। আপনার নিজ পেশা অনুসারে যে ধরনের পোশাক পরতেন, সেটা পরেই কম্পিউটারের সামনে বসুন, মনে হবে যেন দপ্তরে নিজের টেবিলেই বসেছেন। সঠিক পোশাক পরিধানের মাধ্যমে ঘরে বসে ভিডিও কলের সাহায্যে অফিসের বস বা কলিগদের সঙ্গে কথা বলার সময়েও এর ফলে আপনি কোনো জড়তা অনুভব করবেন না।
পোশাক পরার কাজটিকে আপনার মস্তিষ্কে এখন বাড়ি থেকে বের হয়ে কাজে যাওয়ার সময় হয়েছে বলেই ভাবতে অভ্যস্ত। আপনি যখন দিনের কাজ শেষে পোশাক পরিবর্তন করবেন, তখন মস্তিষ্ক একটি কর্মদিবস শেষ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া শুরু করবে। এতে সে সহজে শরীরকে বিশ্রাম নেওয়ার সংকেতও পাঠাবে।
এক টুইট বার্তায় এসব পরামর্শ দিয়েছেন ফ্রিল্যান্সার বিশেষজ্ঞ মেল হান্টার।
সীমানা নির্ধারণ করুন : আপনি যদি কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কর্মী হন, তাহলে অবশ্যই একটি নির্ধারিত কর্মঘণ্টা অনুসারে কাজ করেন। বাড়িতে বসে কাজ করার সময়েও নিজ কর্মঘণ্টার এই সীমানা নির্ধারণের বিষয়টি খুব জরুরি।
নিজ অফিসের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠুন এবং নিজেকে প্রস্তুত করুন। এরপর দিনের কাজ শেষ করবেন ওই একই নিয়ম মেনে। এম শেলডন নামের একজন ব্লগার এবং ফ্রিল্যান্স লেখক জানান, তিনি বাড়ি থেকে কাজ করার সময় একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলেন। এ ব্যাপারে তার উপদেশ হলো, ‘নির্ধারিত সময়ে বিছানায় যাওয়া খুব দরকারি। এতে আপনি পর্যাপ্ত ঘুমের সুযোগ পাবেন। এরপর পরদিন সঠিক সময় ঘড়ির কাঁটা ধরে ওঠার অভ্যাস গড়াটাও বাঞ্ছনীয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে প্রতিদিন সকালে উঠে হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়াম করাটাও ঘরে বসে কাজ করার সময় মেনে চলুন। ধীরে ধীরে এসব আপনার অভ্যাসে পরিণত হবে।’
ঘরে বসে কাজ করার সময় অন্যদিকে মনঃসংযোগ এড়ানোও জরুরি। এজন্য আপনাকে পরিবারের কোনো সদস্য বিরক্ত করবে না- এমন একটি নিরিবিলি স্থান কাজের জন্য বেছে নিন।
ঘরে থেকে কাজ করার সময় অনেকে ই-মেইলে বা চ্যাটে সহকর্মীদের সঙ্গে নির্জনতা কাটাতে বাড়তি কথা বলেন। এটা কোনো বড় সমস্যা নয়। শারীরিক উপস্থিতি না থাকায় অনলাইনে অফিস নেটওয়ার্কিংয়ে অনেকেই এতে আপনি যা করছেন, তা জানতে পারবে। তবে বেশি বিরক্ত করবেন না। এক্ষেত্রেও আপনাকে একটি সীমারেখা টানতে হবে।
ঘরের বাইরে থেকে ঘুরে আসুন : ঘরে বসে কাজ করা মানে সারাদিন মুরগির খোপের মতো খাঁচায় আবদ্ধ হয়ে থাকা নয়। অফিসে যাওয়ার দৈনন্দিন রুটিন অবশ্য মিস করবেন। তবে দিনে একবার অন্তত বাইরে যাওয়ার অভ্যাস রাখুন।
ঘরের বাইরের মুক্ত খোলা পরিবেশে, কোনো পার্কে সাইকেল চালাতে পারেন; হাঁটতেও পারেন পছন্দের কোনো সড়কে। খোলা বাতাস আপনার ফুসফুসে অক্সিজেনের বাড়তি চালান যোগাবে।
মানসিক দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ কাটাতে সাহায্য করবে এমন ঘোরাফেরা। খুলে যাবে বুদ্ধিজট। তার মানে, ঘরের বাইরে বের হয়ে নিজেকে আরও উদ্ভাবনী চিন্তার অধিকারী করার সুযোগটা আপনি ধরে রাখতে পারবেন। এসব পরামর্শ দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের ফ্রিল্যান্সার পরামর্শক গ্রুপ লিপার্সের প্রতিষ্ঠাতা ম্যাথিউ নাইট।
ঘোরা-ফেরার মানসিক প্রভাব ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর একেক জনের মনে একেক ধরনের অনুভূতি তৈরি হয়। তবে এটা আপনাকে স্বাভাবিকভাবে কাজের মধ্যে থাকার একটি অনুভূতি দেবে। হেঁটে হেঁটে নিজের কর্মস্থলে যাচ্ছেন বা সেখান থেকে ফিরছেন- এমনটাই ভাবেন এই নিয়ম মানা অধিকাংশ মানুষ।
ফোন ধরুন এবং পরিচিতদের সঙ্গে আলাপ করুন : ঘরে বসে কাজ করার মানেই আপনি বেশ একাকীত্বে ভুগবেন। সহকর্মীদের সঙ্গে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে কাজের ফাঁকে ফাঁকে মজা করা বা অন্য কিছু নিয়ে আলাপ করার সুযোগটা এ ক্ষেত্রে আপনি খুব একটা পাবেন না। এই অবস্থায় কারও সঙ্গে আলাপ ছাড়াই সারাদিন কেটে যেতে পারে।
তাই নিজের জন্য একটু সময় বের করুন। কেউ ফোন করলে কথা বলুন বা কাছের কাউকে ফোন দিন এবং গঠনমূলক কিছু আলোচনা করুন।
এ ব্যাপারে স্পেনের ফ্রিল্যান্স জনসংযোগ পরামর্শক হুগো মর্টিমার হার্ভে বলেন, ‘অধিকাংশ লোক বাড়ি থেকে কাজ করার সময় ই-মেইল চালাচালির মাধ্যমে সহকর্মীদের সঙ্গে আলাপ চালান। এটা তাদের মানসিক অবসাদ বাড়ায়। তাই সত্যিকার অর্থে ফোনালাপ এই ছকবাঁধা মৌনতা ও অবসাদ থেকে আপনাকে অনেকটাই মুক্তি দিতে পারে।’
নিয়মিত ছোট ছোট বিরতি নিন : বাড়ি থেকে কাজ করার রুটিন নিয়ে অনেক আলোচনা হলো। কিন্ত একটানা কোনো কিছুই করা উচিত নয়। এতে বরং কাজকেই বিরক্তিকর বা একঘেঁয়ে লাগবে এক সময়।
সারাদিন কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকাও বিরক্তিকর। তাই নিয়মিত বিরতি নিতে হবে। বেশি কিছু নয়, অফিসে যেমন মাঝে মধ্যে নিজের ডেস্ক থেকে উঠে একটু হেঁটে আসেন, বাড়িতেও সেই একই চর্চা করে দেখুন।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, ছোট ছোট বিরতি নেওয়া আসলে সারাদিনে দীর্ঘসময় পর নেওয়া কোনো লম্বা বিরতির চাইতে অনেক বেশি উপকারি। ভার্চুয়াল দপ্তর পরিসেবা পরামর্শক এলি উইলসন এমনটাই পরামর্শ দিয়েছেন।