করোনা আতঙ্কের প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্যে

আপডেট: মার্চ ২১, ২০২০, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


করোনা ভাইরাসকে কেন্দ্র করে নগরীতে বিরাজ করছে এক ধরনের আতঙ্ক অবস্থা। যার প্রভাব পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারে। ক্রেতারা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পণ্য ক্রয় করায় বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম। এতে প্রতিদিনই বাজার মনিটরিং করে বাজার স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে প্রশাসন। কিন্তু ক্রেতারা বেশি পণ্য ক্রয় করায় বাড়ছে কিছু কিছু দ্রব্যের দাম। আবার এটিকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাচ্ছেন কিছু অসাধু ব্যাবসায়ী। বাজারে অভিযান চলাকালিন পণ্যের দাম কমলেও প্রশাসন চলে গেলেই দাম বেড়ে যায় এমন অভিযোগও করেন কিছু ক্রেতা। গতকাল শুক্রবার নগরীর সাহেববাজার ও মাস্টারপাড়া ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া যায়।
ক্রেতা শরিফুল বলেন, আমরা মধ্যবিত্ত। দাম বেড়ে গেলে বড়লোকেরা খেতে পাবে। কিন্তু আমাদেরকে না খেয়ে থাকতে হবে। আর যতই বাজার স্বাভাবিক বলা হোক গরিবের কেউ নাই। দ্যাখেন সকালে ম্যাজিস্টেট যখন ছিল তখন পেঁয়াজের দাম শুনলাম ৪০ টাকা কেজি এখন ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি। চালের দামও বাড়তি। কিছুদিন পর দাম যে আর বাড়বে না এর তো কোনো নিশ্চয়তা নায়। তাই আগেই চিন্তা করে ব্যবস্থা নিচ্ছি।
খুচরা ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন বলেন, বাজার আসলে এভাবে নিয়ন্ত্রণ করা কি সম্ভব? প্রশাসন থেকে যদি আমাদেরকে একটা নির্দিষ্ট চার্ট দিয়ে দেয়া হয় তাহলে আমরাও এর বেশি দামে কোনো কিছু কিনবো না। আর আমরা যখন বেশি দামে কোনো দ্রব্য কিনবো তখন আমাদের বেশি দামে বিক্রি করবো। তবে এটা ঠিক যে, কিছু ব্যবসায়ী থাকে যারা এই সংকটগুলো তৈরি করে। তাদেরকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, আমি আজ ৫২ টাকা কেজি পাইকারি পেঁয়াজ কিনেছি। সেখানে আমাকে প্রশাসন থেকে ৪০ টাকা বিক্রি করতে বললো। এতে আমার মতো ছোট ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হলো কিন্তু পাইকাররাতো পার পেয়ে গেলো। এ কারণে অনেকেই প্রশাসনের লোক মাঠে থাকা পর্যন্ত দাম কম রাখেন, তারা চলে গেলে বাড়িয়ে দেন।
গতকাল সকালে প্রশাসন থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানান খুচরা ব্যবসায়ীরা। অভিযানের পরও বাজার ঘুরে দেখা গেছে অনেক মুদি দোকানে নেই পণ্যমূল্যের চাট। এতে চালসহ মুদি পণ্যের দাম কিছু কিছু ব্যবসায়ী বেশি নিচ্ছে। ক্রেতা পরিচয়ে বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ খুচরা ব্যবসায়ী বেশি দামে পণ্য বিক্রি করছেন। তবে রিপোর্টার বুঝতে পারলে কখনো মিথ্যা তথ্য দেন, আবার কেউ কেউ কথাও বলতে চাননা।
এদিন, পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। চাইনা রসুন প্রতিকেজি ১০০ টাকা ও দেশি রসুন প্রতিকেজি ২০০ টাকা, আঁদা প্রতিকেজি ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, আলু প্রতিকেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা, মরিচ প্রতিকেজি ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, শিম ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ভেন্ডি ৭০ থেকে ১০০ টাকা, ডুমুর ৪০ থেকে ৬০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, বেগুন মানভেদে ২০ থেকে ৪৫ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২৫ থেকে ৩৫ টাকা, কচুশাক, পুঁইশাক, সবুজ শাক বিক্রি হয়েছে প্রতিকেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা।
মাংসের মধ্যে সোনালি মুরগি প্রতিকেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ২২০ টাকা, গরুর মাংস ৫৫০ টাকা, ছাগলের মাংস ৮৫০ টাকা, ব্রইলার ১২০ টাকা কেজি। মাছের মধ্যে কাতল মাছ সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি, ট্যাংরা মাছ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, ছোট ইলিশ প্রতিকেজি ৪০০ টাকা এবং ১ কেজি ওজনের ইলিশ ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা।
এদিকে, চালের মধ্যে আঠাশ চাল প্রতিকেজি ৪২ থেকে ৪৬ টাকা, মিনিকেট ৫৬ থেকে ৬০ টাকা, বাসমতি ৮৫ থেকে ১০০ টাকা এবং মোটা চাল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।