করোনা আতঙ্কে দুর্ভোগে খেটেখাওয়া মানুষ

আপডেট: মার্চ ২৩, ২০২০, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


করোনা আতঙ্কে নগরী এখন ফাঁকা হতে শুরু করেছে। ক্রেতা না থাকায় বিপনী-বিতানগুলোও বন্ধের উপক্রম। রাজশাহীতে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত রোগি শনাক্ত না হলেও কোয়ারেন্টাইনে আছে শতাধিক মানুষ। আবার অনেকেই মানছেন না কোয়ারেন্টইন। এতে বাড়তি সতর্কতায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দূরপাল্লার বাস চলাচলও। ফলে থমকে গেছে জনজীবন। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ।
অটোচালক আলমগীর বলেন, করোনার কারণে নগরীর রাস্তাঘাট এখন অনেকটায় ফাঁকা। এতে একবেলা অটো চালিয়ে জমার টাকায় উঠছে না। আমার প্রতি সপ্তাহে কিস্তি লাগে ১ হাজার টাকা। এমন অবস্থা চলতে থাকলে ঘরে ভাতও জুটবে না।
নগরীর ইলেকট্রনিক্স দোকানের কর্মী আজাদ বলেন, করোনার কারণে কয়েকদিন থেকে লোকজন নেই। সারাদিন বসে আছি। আগে রাত ১০টা পর্যন্ত ব্যবসা হতো। আর এখন সন্ধ্যার পরপরই মার্কেট বন্ধ করে দিতে হচ্ছে।
নগরীর এক খেলনা বিক্রেতা জানান, নগরীতে খেলনা বিক্রি করেই আমার সংসার চলে। করোনার কারণে এখন নগরীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ। নগরীও ফাঁকা। জরুরি পণ্য ছাড়া এসব পণ্য কেউ নিচ্ছেনা। এতে চরম বিপাকে পড়েছি।
নগরীর সাহেববাজারের ব্যবসায়ী রাসেল বলছিলেন, আমাদের শহরের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি শিক্ষার্থীরা। কিন্তু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও রুয়েটসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি। তাই শিক্ষার্থীরা শহর ছেড়ে নিজ নিজ গ্রামে চলে গেছে। ফলে বাজারে আর তেমন ক্রেতা নেই।
রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি জামাত খান বলেন, করোনা ভাইরাস এখন আমাদের জন্যে একটি জাতীয় দুর্যোগ। এতে সাধারণ মানুষের বিশেষ করে খেটেখাওয়া মানুষদের কষ্ট হবে। সরকার করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তবে এ জাতীয় দুর্যোগে সমাজের বিত্তশালী মানুষদের এগিয়ে আসা উচিত। করোনা মোকাবিলায় আমাদেরকে আরো সচেতন থাকতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ