করোনা আতঙ্ক: ঘরে মজুদ রাখায় দাম বাড়ল চালের

আপডেট: মার্চ ২১, ২০২০, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


করোনা-আতঙ্কে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের বিক্রি বেড়ে গেছে। আতঙ্কে ক্রেতারা ব্যবহার্য নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কিনছে। বর্তমানে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিক্রেতারাও সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে।
এদিকে বাজারগুলোতেও মানুষের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। চালের চাহিদাও আগের চেয়ে বেড়েছে কয়েখগুন। বাসার জন্য যারা এক বস্তা চাল কিনছিলেন তারাই গতকাল তিন থেকে দশ বস্তা চাল কিনে আগে থেকেই ঘরে মজুদ রাখছে এমটাই জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা। তাই পাইকারী ভাবে বস্তা প্রতি চালের দাম বেড়েছে ২০০ টাকা ও কেজি প্রতি বেড়েছে দুই থেকে তিন টাকা।
গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর সাহেব বাজারে গিয়ে দেখা যায়, অনেকে একাধিক বস্তা চাল কিনছেন। চাল বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, নিয়মিত যারা কাস্টমার ছিলো তারা চাহিদার তুলনায় চার পাঁচ গুণ বেশি চাল কিনছেন। অনেক পরিবার যাদের ৩০ কেজি চাল লাগে তারা চাল কিনছেন ৮০ থেকে ১০০ কেজি। এই প্রতিবেদক যখন চালের দোকানে ছিলো এক নারী এসে চার বস্তা চাল চায়! বিক্রেতা জানায়, আপা আপনার তো এক বস্তা চাল লাগতো- এখন চার বস্তা চাল কিনছেন কেন? এমন চিত্র প্রায় চালের দোকানে। আটাশ চালের কেজি ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা, কিন্তু কয়েক দিন আগেও এই চালের দাম ছিলো ৪২ থেকে ৪৬ টাকা।
মিনিকেট ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। যা কেজি প্রতি দুই টাকা কম ছিলো। অন্যদিকে চালের বাজারে বাসমতি চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, পায়জাম ৬০ টাকা, নাজিরশাল ৬০ টাকা, কাটারিভোগ সিদ্ধ ৭৫ টাকা, কাজল লতা ৬৫ টাকা, শরনা ৩৮ টাকা, গুটিশরনা ৩২ টাকা, কালজিরা ৯০ টাকা, চিনিগুড়া ৯৫ টাকা, কাটারি আতপ ৭০ টাকা, পায়জাম আতপ ৬০ টাকা, মোটা আতপ ৫০ টাকা, পারিজা ৩৮ টাকা আউশ ৪০ টাকা, বালাম ৬০ টাকা রনজিত চিক্রি হচ্ছে ৩৮ টাকা।
চাল ব্যাবসায়ী অশোক প্রসাদ জানান, আমাদের এখানে আগের চাল ছিলো। বাজারে কয়েকদিন চাহিদা অনেক বেশি থাকায় কেজি প্রতি দুই তিন টাকা বেড়েছে চালের দাম। তবে আড়তে চালের দাম বেড়েছে বস্তা প্রতি ২০০ টাকা।
চাল ব্যবসায়ী করিম জানান, আমার নিয়মিত যারা কাস্টামার তাদের মাসে এক দুই বস্তা চাল লাগতো। এখন তারা তিন থেকে পাঁচ বস্তা চাল কিনছেন। বর্তমানে চাহিদার অনেক বেশি চাল বিক্রি হচ্ছে তাই কেজি প্রতি দুই তিন টাকা বাড়তি। তিনি বলেন, এভাবে সবাই বেশি বেশি চাল কিনছে। কিছু দিন পরে কম কেনার সম্ভাবনা থাকবে।
এপি চাউল ভান্ডারের মালিক প্রকাশ রায় জানান, পাইকারিভাবে আড়তে বস্তা প্রতি দাম বাড়তি। কিন্তু খুচরা বাজারে এখন তেমন প্রভাব বাড়েনি। গত কয়েকদিন থেকে ক্রেতাদের চাহিদা অনেক বেশি। এভাবে চাল কিনলে কয়েকদিন পরে বাসায় আর চাল লাগবে না। তখন দাম কমার সম্ভাবনা থাকবে।
বাজারের কয়েকজন ক্রেতাদের সাথে কথা বললে সকলেই জানান, করোনার কারণে জিসিনপত্রের সংকট তৈরি হতে পারে। দাম বেড়ে যেতে পারে তাই আগে থেকেই বেশি করে চাল কিনছেন সবাই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ