করোনা আবহে অক্সিজেনের হাহাকার, প্রাণ বাঁচাতে শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কেন্দ্রের

আপডেট: এপ্রিল ১৯, ২০২১, ১:০৩ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ভারতে আছড়ে পড়েছে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ। ভোলবদলে আরও ভয়ানক গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে এই মারণ ভাইরাসটি। সম্প্রতি দৈনিক দুই থেকে আড়াই লক্ষ মানুষ সংক্রমিত হওয়ায় দেশজুড়ে হাসপাতালে শয্যা, ওষুধ ও অক্সিজেনের অভাব দেখা দিয়েছে। তাই হাসপাতালগুলিতে অক্সিজেনের ঘাটতি মেটাতে ২২ এপ্রিল থেকে শিল্পক্ষেত্রে অক্সিজেনের ব্যবহারে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করছে কেন্দ্র।
রবিবার প্রত্যেকটি রাজ্যে ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যসচিবদের চিঠি লেখেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব অজয় ভল্লা। সেখানে শিল্পক্ষেত্রে অক্সিজেনের ব্যবহারে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করার নির্দেশ তিনি। তবে, ওষুধ শিল্প, তেল, স্টিল, পরমাণু চুল্লি, খাদ্য ও জল শুদ্ধিকরণ, বর্জ্য নিষ্কাশন প্রকল্পের মতো নয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিল্পক্ষেত্রে এই নিশেষধাজ্ঞা বলবৎ হবে না। এদিকে, রাজধানী দিল্লি-সহ মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের মতো রাজ্যগুলিতে রীতিমতো অক্সিজেনের হাহাকার শুরু হয়েছে। রবিবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল টুইট করে পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্র। এতদিন অক্সিজেন মূলত সড়ক পথেই পাঠানো হত। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে অক্সিজেন আরও দ্রুত দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে কয়েকটি রাজ্য সরকারের আবেদনের পর আসরে নেমে পড়েছে ভারতীয় রেল। তৈরি করে ফেলেছে রুট ম্যাপ এবং ‘অক্সিজেন এক্সপ্রেস’। কোন পথে কী পদ্ধতিতে অক্সিজেন ট্যাঙ্কার পৌঁছে দেওয়া যায় তার পরিকল্পনাও তৈরি।
এদিকে, দেশজুড়ে লাগাতার বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। সংক্রমণের হারে এই মুহূর্তে তালিকায় সবার উপরে স্থান করে নিয়েছে ছত্তিশগড়। ওই রাজ্যে সাপ্তাহিক সংক্রমণের হার প্রায় ৩০.৩৮ শতাংশ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে গোয়া (২৪.২৪ শতাংশ) ও মহারাষ্ট্র (২৪.১৭ শতাংশ)। তবে এতো হিমশৈলের চূড়ামাত্র। আগামী এক মাসেও পরিস্থিতি উন্নতির বিশেষ সম্ভাবনা দেখছেন না স্বাস্থ্য-কর্তারা। আজ বা কালকের মধ্যেই দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা তিন লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে। ফলে ভাইরাসটিকে রুখতে লড়াই যে আরও কঠিন হতে চলেছে তা স্পষ্ট।
তথ্যসূত্র: সংবাদ প্রতিদিন