করোনা তাড়াতে অস্ত্র গোবর! সাবধান, ভয়ংকর রোগে ভুগতে পারেন, সতর্ক করলেন চিকিৎসকরা

আপডেট: মে ১১, ২০২১, ৮:০৫ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


গায়ে গোবর মাখলেই দূরে পালাবে করোনা! এমন বিশ্বাসে অনেকেই সংক্রমণ থেকে দূরে থাকতে বেছে নিচ্ছেন এই পথ। কিন্তু এমন ধারণার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। বরং তা থেকে অন্য ধরনের অসুখ হতে পারে। সকলকে সতর্ক করতে এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
দেশে আছড়ে পড়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। দৈনিক সংক্রমণের হার আতঙ্কিত করে রেখেছে সকলকে। সেই সঙ্গে হাসপাতালগুলিতে বেডের অভাব, অক্সিজেনের ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে সংক্রমণ থেকে দূরে থাকতে কোভিড বিধি মেনে চলতে বারবার বলছেন ডাক্তাররা। কিন্তু এরই সঙ্গে নানা টোটকার প্রয়োগ চলছেই। যার অন্যতম গোবরের প্রলেপ গায়ে মাখা। শোনা যাচ্ছে, এমনকী চিকিৎসকরাও এমন কা- করছেন। গুজরাটে বহু বিশ্বাসীকেই দেখা যাচ্ছে যাঁরা সপ্তাহে একদিন করে বিভিন্ন গোশালায় গিয়ে গায়ে গোবর ও গোমূত্র মাখছেন। তারপর তা দ্রুত শুকিয়ে নিতে গরুকেই আলিঙ্গন করছেন। সেই সঙ্গে চলছে যোগাসন। পরে গায়ে গোবরের প্রলেপ শুকিয়ে গেলে দুধ দিয়ে স্নান। রীতিমতো নিয়ম মেনে এভাবেই করোনাকে দূরে সরাতে এমন অভিনব পন্থা অবলম্বন করছেন অনেকেই। বিশ্বাস, এতে নাকি শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়ে যাবে।
তেমনই একজন গৌতম মণিলাল বরিশা। নিজে একজন ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার অ্যাসোসিয়েট ম্যানেজার হয়েও এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের কাছে তাঁর দাবি, গত বছর করোনা আক্রান্ত অবস্থায় গোবর মেখেই তিনি সুস্থ হয়েছিলেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা দেখেছি, ডাক্তাররাও এখানে আসেন। ওঁদের সকলেরই বিশ্বাস এই থেরাপি রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়। ফলে নির্ভয়ে করোনা রোগীদের চিকিৎসা করতে পারেন তাঁরা।’’
কিন্তু সত্যিই কি এমন পদ্ধতির কোনও মূল্য আছে? সেই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি নাকচ করে দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। ‘ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন’-এর জাতীয় সভাপতি ডা. জেএ জয়ালালের কথায়, ‘‘গরুর মূত্র বা গোবর থেকে করোনার বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে, এই দাবির সপক্ষে কোনও অকাট্য প্রমাণ মেলেনি। এটা একেবারেই বিশ্বাসের ব্যাপার। বরং এইগুলি গায়ে মাখলে তা থেকে অন্য অসুখ হতে পারে। পশুর শরীর থেকে বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ে মানুষের দেহে।’’ শুধু তাই নয়, এই ধরনের বিশ্বাসের ফলে বহু লোক যেভাবে দল বেঁধে গোবর মাখা শুরু করেছেন তা নিয়েও উদ্বিগ্ন চিকিৎসকরা। তাঁদের মতে, এর ফলে সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। কাজেই সংক্রমণ ছড়াতে পারে।
তথ্যসূত্র: সংবাদ প্রতিদিন