করোনা ভাইরাস: চাঁপাইনবাবগঞ্জে চালসহ নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি

আপডেট: মার্চ ২২, ২০২০, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি


করোনা ভাইরাসকে পুঁজি করে চাঁপাইনবাবগঞ্জে চালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। ভোক্তারা বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাইছেন। এদিকে, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারিদের ধরতে গতকাল শুক্রবার সকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে এক দোকানিকে ৩০ হাজার জরিমানা করেছে।
জানা গেছে, করোনাভাইরাসকে পূঁজি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জিনিষপত্রের দাম বাড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে হঠাৎ করে চালের দামও বাড়িয়ে দিয়েছে। যে মোটা চাল গত সপ্তাহে বস্তা প্রতি (৫০ কেজি) ১৪’শ টাকা ছিল, তা বেড়ে ১৮’শ টাকা এবং চিকন চাল অর্থাৎ মিনিকেট চাল নামে পরিচিত সেটি ২ হাজার ৩’শ থেকে বেড়ে ২ হাজার ৫’শ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। চিনির দাম কেজি প্রতি ৬২ টাকা, দেশি মশুরের ডাল কেজি ১’শ ৫ টাকা ও বিদেশি ডাল ৬০ টাকা, তেল লিটার প্রতি ৯৬ টাকা, দেশি পেঁয়াজ কেজি প্রতি ৫০ টাকা, যা ৩দিন আগে কেজি প্রতি ২৮/৩০ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৪৪ টাকা, যা ৩ দিন আগে ছিল ২৪ টাকা, আলু কেজি প্রতি ১৪ টাকা থেকে বেড়ে ১৮ টাকা, আদা বর্তমানে কেজি প্রতি ১’শ ৬০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১’শ টাকা এবং দেশি রসুন গত সপ্তাহে দাম ছিল কেজি প্রতি ৭০ টাকা, বর্তমানে ১’শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে, বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মুরগীর দামও বেড়ে গেছে। বর্তমানে কেজিতে ২’শ ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ১’শ ৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গিয়েছিল।
যেখানে বাজারে কোন নিত্যপণ্যের অভাব নেই। গুজব ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে বাজারকে অস্থিতিশীল করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে অসাধূ চক্র। এখনই প্রশাসন তাদের লাগাম টেনে না ধরলে, নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। ভোক্তারা বলছেন, করোনাভাইরাসকে পূঁজি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জিনিষপত্রের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
তহাবাজারে বাজার করতে আসা শফিকুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা জানান, গত সপ্তাহে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষের দাম স্বাভাবিক ছিল, তা হঠাৎ করে এক লাফে বেড়ে যাওয়ায় তাদেরকে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে, তাদেরকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক এজেডএম নূরুল হক বলেন, করোনা ভাইরাসের সুযোগ নিয়ে কিছু সুযোগ সন্ধানী অসাধু ব্যবসায়ীরা দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, তাদের নিবৃত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেন সহনীয় পর্যায়েই থাকে, সেজন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত মনিটরিং করছে। নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে যারা বাজারকে অস্থির করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। যেসব ব্যবসায়ীরা জড়িত থাকবে তাদেরকে নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ভোক্তাদের চাহিদার কথা ভেবে ইতোমধ্যে টিসিবি তেল, চিনি, ডাল ও পেঁয়াজ বিক্রি করা শুরু করেছে। যা পুরো রমজান মাস ধরে চলমান থাকবে। দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ চালসহ নিত্যপণ্য মজুদ রয়েছে।
এদিকে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১০ টা থেকে পৌনে ১২ টা পর্যন্ত জেলা শহরের পুরাতনবাজারে অভিযান চালিয়ে কদমতলাঘাট এলাকার মেসার্স একতা শষ্য ভান্ডারে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি ও বিক্রয়কৃত রশিদে অসামঞ্জস্য থাকার দায়ে ভোক্তা অধিকার আইনের ২০০৯ সালের ৪০ ধারায় দোকানিকে ৩০ হাজার জরিমানা এবং জব্দকৃত রশিদগুলোতে নম্বর না থাকায় তা পুড়িয়ে ফেলা হয়। এসময় তিনি ব্যবসায়ীদের বলেন, কোন ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মূল্য বৃদ্ধি করা যাবে না। যেসব অসাধৃু ব্যবসায়ী বেশী দামে পণ্য বিক্রি করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।