করোনা মহামারি থেকে মুক্তি চেয়ে রাজশাহীতে ইদুল আজহার জামাতে দোয়া

আপডেট: জুলাই ২৩, ২০২১, ৯:২৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


নগরীতে পবিত্র ইদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে বুধবার (২১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭ টায় হজরত শাহ মখদুম (রহ.) কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে। এখানে ইমামতি করেন মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব মুফতি হাফেজ মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় সরকারি দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতাসহ সাধারণ মুসল্লিরা নগরীর সবচেয়ে বড় জামাত এই মসজিদে ইদের নামাজ আদায় করেন।
এদিকে বুধবার সকাল পৌনে ৮ টায় নগরীর কাদিরগঞ্জে বায়তুল আমান আহলে হাদিস জামে মসজিদে পবিত্র ইদুল আজহার নামাজ আদায় করে সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। নামাজ শেষে নগরবাসীসহ দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে করোনা মহামারি থেকেও বিশ্ববাসীর মুক্তি কামনা করা হয়। ইদের নামাজ শেষে তিনি কাদিরগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে তার পিতা মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান ও মাতা মরহুমা জাহানারা জামানের কবর জিয়ারত করেন।
অন্যদিকে সকাল সাড়ে সাতটায় নগরীর কালেক্টর জামে মসজিদে ইদের নামাজ আদায় করেন বিভাগীয় কমিশনার হুমায়ুন কবীর ও জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল। সকাল আটটায় পুলিশ লাইন জামে মসজিদে নামাজ পড়েন পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক।
এদিকে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে নগরীর ২৩৯টি মসজিদে ও জেলার নয়টি উপজেলার শতাধিকের বেশি মসজিদে ও ইদগাহে ইদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সবাই বাড়ি থেকে ওজু করে মুখে মাস্ক পড়ে নিজ নিজ জায়নামাজ নিয়ে মসজিদে গিয়ে ইদের জামাতে অংশগ্রহণ করেন। করোনার কারণে ইদের নামাজ শেষে কোলাকুলি ও হাত মেলোনা থেকে বিরত থাকেন মুসল্লিরা। জেলা ও নগরীতে ইদের প্রধান জামাতে দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে দেশ ও জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ-শান্তি, অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় দেশ ও জাতির স্বার্থে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য রক্ষার ডাক দেওয়া হয়। এছাড়া ইদুল আজহার প্রধান জামাতে বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বে চলমান করোনা মহামারি থেকে সবাইকে পরিত্রাণের জন্য দোয়া করা হয়। ইদের নামাজ শেষে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা প্রয়াত পিতা-মাতা ও স্বজনদের রুহের মাগফেরাত কামনার জন্য বিভিন্ন কবরস্তানে যান এবং কবর জিয়ারত করেন। শেষে নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে পশু কোরবানি করেন মুসল্লিরা।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (সদর) গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, ইদের জামাতকে ঘিরে এবার কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কাউকে জায়নামাজ ছাড়া কোনো ব্যাগ, ভারী বস্তু বা অন্য কোনো দ্রব্যাদি বহন করতে দেওয়া হয়নি। এছাড়া ইদুল আজহার নামাজকে ঘিরে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। সঙ্গে মসজিদগুলোর আশপাশের এলাকায় সকাল থেকেই পুলিশি টহল বাড়ানো হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। নগরীতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ইদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।