করোনা সংক্রমণের গতি বাড়ছেই স্বাস্থ্য সুরক্ষার দায় নেই!

আপডেট: জুন ২৪, ২০২২, ১:০০ পূর্বাহ্ণ

করোনাভাইরাস ভীষণ চোখ রাঙাচ্ছে। বাড়িয়ে তুলছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। দিনের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সংক্রমণের হার। করোনার চতুর্থ দফার ঝাঁপটা এ মাসের শুরু থেকেই শুরু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু যেভাবে দ্রুতগতিতে সংক্রমণ বাড়িয়ে চলেছে তাতে স্বাস্থ্য সুরক্ষার গুরুত্ব প্রবল হয়ে উঠেছে। সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগও উদ্বিগ্ন। মাস্ক পরিধান ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার ওপর গুরুত্বরোপ করা হয়েছে।
করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ধরনের দাপট কমে আসার পর শনাক্তের হার ১ শতাংশের নিচে ছিল বেশ কিছু দিন। দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দশের নিচে নেমেছিল। মাঝে ২০ দিন কোভিডে কারো মৃত্যু হয়নি। কিন্তু চারদিন ধরে মৃত্যুর ঘটনাও থেমে নেই।
সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৯ হাজার ২১৪টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৩১৯ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। ১৩ ফেব্রুয়ারির পর প্রথমবারের মত দৈনিক শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৩২ শতাংশে পৌঁছেছে। আগের দিন বুধবারে এই হার ছিল ১৩ দশমিক ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে ১ দশমিক ০২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা উদ্বেগেরই কারণ বটে।
অন্যদিকে দেশে ওমিক্রনের নতুন একটি উপধরন শনাক্ত হয়েছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে দুই বাংলাদেশির শরীরে করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ধরনের নতুন এই উপধরন শনাক্ত হয়েছে। এটি আগের ধরনগুলোর চেয়ে বেশি সংক্রমণ ছড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
সংবাদ মাধ্যমের তথ্যে জানা যায়, ওমিক্রনের এই দুটি উপধরন জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত হয়। গত মে মাসের শেষের দিকে দক্ষিণ ভারতে শনাক্ত হয়। এই উপ-ধরনটি দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনা সংক্রমণের পঞ্চম ঢেউ এবং সাম্প্রতিককালে ভারতে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের জন্য দায়ী বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। ভ্যাকসিন নেয়া ব্যক্তিরাও এই উপধরনে আক্রান্ত হচ্ছেন। আগামী দিনে এই উপধরন বর্তমানে সংক্রমণশীল অন্যান্য উপধরনের তুলনায় বেশি সংক্রমণ ছড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
পরিস্থিতি ভাল বলা যায় না। সরকার মাস্ক পরার নির্দেশনা দিয়েছে ইতোমধ্যে। কিন্তু খুবই কম লোক মাস্ক ব্যবহার করছেন। উদ্বিগ্ন পরিস্থিতিতেও মানুষ স্বাভাবিক। সামনে ইদুল আজহা। পশহাটগুলোতে জনসমাবেশ বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। কয়েক দিন ইদ পালনে অসংখ্য মানুষ ঘরমুখি হবেন। গণপরিবহণে তিল ধারণের ঠাঁই থাকবে না। সেই পরিস্থিতিতে করোনা সংক্রমণের ব্যাপক ঝুঁকি থেকেই যায়। তাই সময় থাকতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জরুরি হয়ে হয়ে পড়েছেÑ যা এই মুহূর্তে নেই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ