করোনা সংক্রমণে উর্দ্ধমুখি ঝোঁক! সর্বস্তরে সতর্কাবস্থা এখনো জরুরি

আপডেট: মার্চ ৫, ২০২১, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

মাঝে আর মাত্র দু’দিন, বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের বছরপূর্তি হবে। শুরুর দিকের সেই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আর নেই। কেননা করোনা ভাইরাসের প্রকোপ ইতোমধ্যেই কমে এসেছে এবং সেই সাথে করোনা ভ্যাকসিনের প্রয়োগও চলছে। দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া আর্থ- সামাজিক বন্দোবস্তের যা কিছু আছে সবতেই স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। সামাজিক সুরক্ষার বাধ্যবাধকতা বহাল থাকলে এই মুহূর্তে তার কোনো বালাই লক্ষ্য করা যায় না। এখন খুব কম মানুষই আছেন যারা বাড়ির বাইরে মাস্ক ব্যবহার করছেন।
কিন্তু করোনা ভাইরাসের চরিত্র-বৈশিষ্টের বহুমুখিতার কারণে এখনো আশ্বস্ত হওয়া যাচ্ছে না। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সতর্কাভাস থেকেই যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসের ভেক-বদলের কারণেই এই দুশ্চিন্তা দেখা দিচ্ছে।
সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের ঝোঁকটা হঠাৎ করেই উর্দ্ধমুখি হয়েছে। বুধবার দেশে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬১৪ জন। ২ মার্চ সকাল ৮টা থেকে ৩ মার্চ সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় (১ মার্চ সকাল ৮টা থেকে ২ মার্চ সকাল ৮টা) পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছিলেন ৫১৫ জন। শুধু এই দুদিনেই নয়, এদিনের শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা গত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত প্রায় পাঁচ সপ্তাহ ধরে দৈনিক রোগী শনাক্ত হচ্ছিলো ৬০০ জনের নিচে।
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বিশ্বে শনাক্তের দিক থেকে এখন ৩৩তম স্থানে আছে বাংলাদেশ, আর মৃতের সংখ্যায় রয়েছে ৩৯তম অবস্থানে।
ভারতের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি উদ্বেগ ছড়াচ্ছে। সেখানের সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুয়ায়ী বুধবার (৩ মার্চ) সকাল পর্যন্ত কোভিড আক্রান্তের মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হল ১ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৬। এবং নতুন করে ১৪ হাজার ৯৮৯ জনের দেহে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। অর্থাৎ করোনায় মৃত্যু ও শনাক্ত দুই বেড়েছে।
বলা হচ্ছে দেশে গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া করোনাভাইরাসের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকেই মানুষের মধ্যে ‘গা-ছাড়া’ ভাব তৈরি হয়েছে। অনেকেই ভাবছেন টিকা এসে গেছে, সুতরাং স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে না। সেই সঙ্গে যারা টিকা নিয়েছেন তারাও অসচেতন হয়েছেন। যার কারণে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ভারতের ক্ষেত্রেও এমনটি বলা যেতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাস্ক পরাসহ নানা স্বাস্থ্যবিধি মানতে আবারও সরকারকে কঠোর অবস্থানে যেতে হবে। এখনও আমরা অনেক ভালো অবস্থানে আছি। এটাকে ধরে রাখতে না পারলে আবার কঠিন পরিস্থিতির ভেতরে দিয়ে যেতে হবে আমাদের।
ব্যাপারটি সে রকমই। বর্তমান পরিস্থিতি দেশের জন্য একটি অর্জন। তারমানে এই নয় যে, সমস্যাটির অবসান হয়েছে। নির্বিচার শৈথিল্য এ যাবতকালের অর্জনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সেটা গুরুত্বের সাথেই ভাবতে হবে। ঝুঁকি যখন আছে-তা অবহেলা করা মোটেই সমীচীন নয়। সর্বস্তরে সচেতনতার ব্যাপারে আবারো সতর্ক-অবস্থা জারি রাখাই বাঞ্ছনীয় হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ