করোনা সংক্রমণ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে জনসম্পৃক্তি নিশ্চিত হচ্ছে না কেন?

আপডেট: এপ্রিল ২০, ২০২১, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

করোনা সংক্রমণের দ্রুত উর্ধগতি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। দিনের সাথে পাল্লা দিয়ে করোনায় মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত বছরও এমন পরিস্থিতি ছিল না। ১৯ এপ্রিল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যমতে ২৪ ঘণ্টায় অর্থাৎ একদিনে ১১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটাই এ পর্যন্ত দেশে সর্বোচ্চ মৃত্যু সংখ্যা। ১৬ এপ্রিল থেকে করেনায় প্রতিদিন মৃত্যূ বিন সংখ্যায় উঠেছে। তারপর থেকে নিচের দিকে নামার লক্ষণ নেই। বরং বাড়ছেই। গত ৩১ মার্চ ৫২ জনের মৃত্যুর খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর থেকে দৈনিক মৃত্যু কখনই ৫০ এর নিচে নামেনি। ১৯ এপ্রিল সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১১২ জন নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৪৯৭ জনে। এর আগে শনি ও শুক্রবার ১০১ জন করে মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, রোববার এক লাফে মৃত্যু হয়েছে ১০২ জনের।
প্রতিবেশি দেশ ভারতের করোনা পরিস্থিতি ভয়ঙ্করূপে দেখা দিয়েছে। সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী সেখানে করোনা পরিস্থিতি দিনকে দিন ভয়াবহ হয়ে ওঠছে। দেশটিতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে একদিনে রেকর্ড ২ লাখ ৭৩ হাজার ৮১০ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এতে মৃত্যু হয়েছে ১৬১৯ জনের। বাংলাদেশের সাথে ভারতের দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা-উদ্বেগের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। অবৈধ উপায়ে উভয় দেশের মানুষের যাতায়াত আছে। সেটা করোনা ঝুঁকিতে সহায়ক হতে পারে। সীমান্ত এলাকায় পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধিরও প্রয়োজন আছে ।
করোনায় উদ্ভুত পরিস্থিতিতে চিকিৎসেবা ইতোমধ্যেই কঠিন হয়ে উঠেছে। যে হারে করোনা রোগি বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে করে চিকিৎসাসেবায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এখনই হাসপাতালে আইসিইউ- অক্সিজেন ঘাটতির খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। করোনা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সঙ্কট সৃষ্টি হওয়া অসম্ভব কিছু নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে এ থেকে উত্তরণের যুৎসই উপায় হলÑ মাস্ক পরা শতভাগ নিশ্চিত করা, সর্বত্র স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। সেই সাথে টিকাকরণ প্রক্রিয়া তো আছেই। কিন্তু মানুষ ও যানবাহন চলাচলে মাস্কবিহীন মানুষের সংখ্যা মোটেও কম নয়। প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ তাদের মত করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বটে কিন্তু সাধারণের মধ্যে মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যাপারে গুরুত্ব সৃষ্টি করা যাচ্ছে না। এটার প্রতিই এই মুহূর্তে গুরুত্বরোপ করতে হবে। এ ব্যাপারে কৌশল ও পরিকল্পনা নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার সময় এসেছে। এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় যে, করোনা প্রতিরোধে জনসম্পৃক্তি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ