করোনা সংক্রমণ উর্ধ্বমুখি স্বাস্থ্য সুরক্ষা মানার বিকল্প নেই

আপডেট: জানুয়ারি ৭, ২০২২, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ

ডিসেম্বরের প্রথম কয়েক সপ্তাহ ধরে করোনা শনাক্ত ১ শতাংশের ঘরেই ছিল। কিন্তু নতুন বছরের অনেক সম্ভাবনার শুরুটা হলেও করোনা সংক্রমণের হার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। জানুয়ারির প্রথম চার দিনে যথাক্রমে শনাক্ত হয়েছেন ৩৭০, ৫৫৭, ৬৭৪ ও ৭৭৫। শনাক্তের হার ৪ দশমিক ২০ শতাংশ। আর শনাক্তের হার ছিল ২ দশমিক ৪৩, ২ দশমিক ৯১, ৩ দশমিক ৩৭ ও ৩ দশমিক ৯১ শতাংশ। ৫ জানুয়ারি শনাক্তের হার ৪ দশমিক ২০ শতাংশ ছিল। ৬ জানুয়ারি শনাক্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ। অর্থাৎ দিনের সাথে পাল্লা দিয়ে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আবারো উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার পরিবেশ। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় উদ্বেগের তেমন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এরই মধ্যে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। বলা হচ্ছে এই ধরনটি খুবই দ্রুত ছড়ায়। এর সত্যতা লক্ষ্য করা যায় ইউরোপের দেশগুলোতে। ইউরোপে পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। দু’একটি দেশে শর্ত দিয়ে লোকডাউন দেয়া হচ্ছে। নাগরিকদের জন্য বাধ্যবাধকতা জারি করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে ওমিক্রন সংক্রমণ পরিস্থিতি এখনো সূচনা পর্যায়ে আছে। কিন্তু প্রতিবেশী দেশ ভারতে পরিস্থিতি দিনের সাথে পাল্লা দিয়ে খারাপের দিকে যাচ্ছে। যেহেতু বাংলাদেশের প্রায় পুরোটাই ভারতের সীমান্ত রয়েছে। এসব সীমান্তপথে বৈধ-অবৈধভাবে উভয় দেশের মানুষ যাতায়াত করে থাকেÑ আশংকা এখানেই। যে কোনো মুহূর্তে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি ভারতের মত হতে পারে। ভারতে বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারি) দিন ৯০ হাজারের অধিক করোনা শনাক্ত হয়েছে। লাফিয়ে লাফিয়ে এই সংখ্যায় এসে পৌঁছেছে। অতএব বাংলাদেশের জন্য সতর্কতা কতটা প্রয়োজন তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের বিস্তার ঠেকাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশব্যাপি ১৫টি নির্দেশনা দিয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের বন্দরগুলোতে ওমিক্রন আক্রান্ত দেশ থেকে আসা যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্ক্রিনিং জোরদার করা : সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় জনসমাগম নিরুৎসাহিত করা; বাড়ির বাইরে সব সময় সঠিকভাবে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরাসহ সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করা ; রেস্তোরাঁয় ধারণ ক্ষমতার অর্ধেক বা তার কম লোক বসে খেতে পারবে ইত্যাদি।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ওমিক্রনের বিস্তার ঠেকাতে হোটেল, রেস্তোরাঁ বা শপিংমলে প্রবেশ করতে এবং ট্রেন, প্লেন লঞ্চে চড়তে কোভিড টিকার সনদ বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
ওমিক্রন ঠেকাতে অনেকগুলো পরিকল্পনা নিয়ে এগাচ্ছে সরকার। ভ্যাকসিনেশনে গুরত্বরোপ করা হয়েছে। স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের টিকাদানে জোর দেয়া হয়েছে। রেস্টুরেন্ট, শপিংমল, প্লেন, ট্রেন ও লঞ্চে যারা উঠবে তাদের একটা টাইম দিয়ে ডাবল ভ্যাকসিনেশন সার্টিফিকেট ছাড়া কেউ যাতে না ওঠে, সেরকম একটা চিন্তা-ভাবনার দিকে যাচ্ছে সরকার। স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাদের বয়স ১২ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে, করোনাভাইরাসের টিকার অন্তত এক ডোজ নেয়া না থাকলে তাদেরও স্কুলে যেতে নিষেধ করা হবে।
ওমিক্রন মেকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি প্রশংসনীয়। পরিস্থিতি যাতে বিগড়ে না যায় সেটাই প্রত্যাশিত। আর এটা নিশ্চিত করতে হলে টিকাকরণের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতি অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। মাস্ক পরার ব্যাপারে আবারো বাধ্যবাধকতা আরোপ করার সময় এসেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ