করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়েছে ফাঁকা নেই আইসিইউ বেড

আপডেট: মে ১৭, ২০২১, ১০:২১ অপরাহ্ণ

তারেক মাহমুদ :


গত ৫ দিন থেকে রাজশাহীতে বেড়েছে করোনার সংক্রমণ। সেই সাথে বৃদ্ধি পেয়েছে করোনা শনাক্ত ও উপসর্গ রোগীর সংখ্যা। রোববার ও সোমবার (১৭ মে) দুইদিনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনায় ও উপসর্গে চিকিৎসারত ৯ রোগী মারা গেছেন। সোমবার রামেক হাসপাতালে নতুন করে ৬১ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে।
সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে রামেক হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, ইদের কয়েকদিন আগে থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ রাজশাহীতে এসে চলাচল করেছে। ইদের দুইদিন আগে থেকে এখন পর্যন্ত ৩০ ভাগ মানুষ মাস্ক না পরে বাইরে বের হচ্ছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পরাতে আগ্রহ লক্ষ্য করা যায় নি। এই অসচেতনতা কারেণে করোনা শনাক্তের সংখ্যা বেড়েছে। সাথে বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যাও।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এক সপ্তাহ আগে যেখানে রামেক হাসপাতালের আইসিইউ বেডে রোগী থাকতো ৮ থেকে ৬ জন। কিন্তু গত রোববার থেকে আইসিইউতে বেড আর ফাঁকা নেই। এখন স্বাস্থ্যবিধি না মানায় মাশুল দেয়া লাগতে পারে।
নিয়মিত মাস্ক না পরা, স্বাস্থবিধি না মানা, বড় পরিসরে বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিদেশগামী মানুষদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত না হওয়া, বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মানুষের থার্মমিটার দিয়ে তাপমাত্রা পরীক্ষার বিষয়টি যথাযথ হচ্ছে না। আর স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ইদে হাট-বাজারে ও শপিংমলে ইচ্ছে মতো ঘোরাফেরায় সংক্রমণ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে নতুন নতুন ভাবে পদক্ষেপ ও কঠোর হওয়া ও বর্ডার এলাকায় শক্ত অবস্থান নিতে হবে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে এক রাতে সোমবার ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে একজনের করোনা পজেটিভ ছিল। বাকি ২ জন মারা গেছেন করোনা উপসর্গ নিয়ে। গত রোববার মারা গেছে মোট ৬ জন। উপসর্গ নিয়ে যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
তিনি জানান, বর্তমানে করোনা ওয়ার্ডে ১০৭ জন ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ৩৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। বাকি ৭৩ জন করোনা উপসর্গ রয়েছে। তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। করোনা আক্রান্তদের মধ্যে আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন মোট ১৪ জন। মৃতদের মধ্যে হাসপাতালের ২২ নম্বর ওয়ার্ডে দুইজন, ও আইসিইউতে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান ডা. সাইফুল ফেরদৌস।
এদিকে রাজশাহী বিভাগে করোনাভাইরাসে ২৪ ঘণ্টায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৬ মে) বিভাগের বগুড়া ও পাবনায় একজন করে এ দুইজনের মৃত্যু হয়। সোমবার বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভাগের আট জেলায় এ পর্যন্ত ৫১৫ জনের মৃত্যু হলো করোনায়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বগুড়ায়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭৬ জন মারা গেছেন রাজশাহীতে। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২২ জন, নওগাঁয় ৩৬ জন, নাটোরে ২০ জন, জয়পুরহাটে ১১ জন, সিরাজগঞ্জে ২৩ জন এবং পাবনায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিভাগে নতুন ৮২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
এ দিন বিভাগের ৮১ জন করোনা রোগী সুস্থ হয়েছেন। বিভাগে এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩ হাজার ১৭ জন। এদের মধ্যে ৩০ হাজার ২৫ জন সুস্থ হয়েছেন। বিভাগে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিন হাজার ৭২৩ জন কোভিড-১৯ রোগী।
গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী জেলায় আরও ১৭ জন কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন। জেলায় এ পর্যন্ত মোট ৮০২৬ জন প্রাণঘাতী এ রোগে আক্রান্ত হলেন। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নিয়মিত প্রতিবেদনে আজ এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩ জনসহ এ পর্যন্ত মোট ৭২০৪ জন সুস্থ হয়েছেন। জেলায় এ পর্যন্ত মোট ৭৬ জন মৃত্যুবরণ করেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭৪৬ জন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মাহবুবুর রহমান বাদশা জানান, ইদে যেমন ভাবে যানবাহনে মানুষ যাতায়াত করেছে সেটা আমাদের কাম্য ছিলো না। ভারতের দিকে তাকিয়ে দেখতে হবে জীবন আগে না আনন্দ আগে! সেখানে কিন্তু চিকিৎসক স্বাস্থ্যকর্মীরা সেবা দিতে হিমসিম খাচ্ছে। আমাদের দেশে গত সপ্তাহে শনাক্ত ও মারা যাওয়ার সংখ্যা কমেছিলো। কিন্তু এই সংখ্যা আবারো বেড়েছে। মানুষ স্বাস্থ্যবিধি না মানায় এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, করোনার সংক্রমণ গত সপ্তাহের চেয়ে এখন বেশি। গত সপ্তাহে হাসপাতালে শনাক্ত ও উপসর্গ নিয়ে ৭০ জনের নিচে ভর্তি ছিলো। কিন্তু গত চারদিন থেকে এই সংখ্যা এখন ১০০ জনের উপরে। মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েছে। আইসিইউতে বেড ফাঁকা নেই! এই সপ্তাহে নতুন করে আরো ১০ টি আইসিইউ বেড বাড়ানো হচ্ছে। রোববার নতুন করে রামেক ল্যাবে মোট ৬১ জনের করোনা শনাক্তের রিপোর্ট এসেছে।