করোনা সংক্রমণ লাগামহীন তবুও মানুষ বাজারে ঝাঁপিয়ে পড়ে ?

আপডেট: এপ্রিল ১২, ২০২১, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

করোনা সংক্রমণ লাগামহীন হয়ে উঠছে। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ভর করেছে প্রতিটি সচেতন মানুষকে। এই দুর্যোগের পরিণতি কী- তা নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। যতই দিন যাচ্ছে ততই করোনা সংক্রমণ জেঁকে বসছে। রোববার সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী দেশে করোনাভাইরাসে একদিনে ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা ১৩ মাসের মধ্যে সর্বাধিক। এ নিয়ে টানা ২ দিন দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যায় রেকর্ড হল। শনিবার একদিনে ৭৭ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ওইদিন পর্যন্ত সেটিই ছিল একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। গত এক দিনে ৭৮ জনের মৃত্যুতে দেশে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৭৩৯ জন। গত ৩১ মার্চ ৫২ জনের মৃত্যুর খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর থেকে দৈনিক মৃত্যু কখনোই ৫০ এর নিচে নামেনি। রোগি শনাক্তের হারও বেড়েছে। রোববারে দেয়া তথ্য মতে, ২৪ ঘণ্টায় ৫ হাজার ৮১৯ জন নতুন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৬ জন।
ভয়ঙ্কর এই পরিস্থিতিতে সরকার ১৪ এপ্রিল থেকে কঠোর লকডাউনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইতোমধ্যেই। পরিস্থিতি বিচারে এ ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প আছে বলেও মনে হয় না। যদিও জীবিকার প্রশ্নটি বারবার সামনে আসছে। কিন্তু এটাও ভুললে চলবে না যে, জীবনের প্রয়োজনেই জীবিকা। জীবন রক্ষা করার ব্রতটাই সর্বাগ্রে। এর অন্যথা হলে কড়া মাশুল দিতে হতে পারে দেশের মানুষকে। মাঝে আরো দুদিন দেশের দোকানপাট খোলা থাকবে। যদিও ইতোমধ্যেই দাবি উঠেছে সীমিতভাবে যাতে দোকানপাট খোলা রাখা যায় হয়। কিন্তু পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে তাতে দোকানপাট খোলা রেখে করোনা সংক্রমণ মোকাবিলা প্রায় অসম্ভবই। বাজারগুলোতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মানার কোনো আগ্রহই লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। গত দুদিন থেকে রাজশাহীর মার্কেটে লোকে-লোকারণ্য। কঠোর লকডাউনের ঘোষণা জেনে বাজারে হামলে পড়েছে। জাতির জন্য যখন দুর্যোগ জেঁকে বসেছে তখন এক শ্রেণির মানুষ বাজারকে ইদের কেনাকাটায় রূপান্তরিত করেছে। সেখানে নেই কোনো স্বাস্থ্য সুরক্ষার বালাই। আর এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বজায় রাখা মোটেও সহজসাধ্য নয় ব্যবসায়ীরা যতই স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলুক না কেন। ব্যবসাটাই মুখ্য কিষয় হয়ে উঠবে- এটাই স্বাভাবিক।
জীবন রক্ষা হলে ইদ-উৎসবের অনেক সময় পাওয়া যাবে কিন্তু জীবনটাই চলে গেলে ইদের আর কী গুরুত্ব থাকবে। করোনা সংক্রমণ থেকে মুক্তির জন্য অবশ্যই কঠোর লগডাউনের ব্রত সবাইকেই গ্রহণ করে নিতে হবে। এতে অনেকের সমস্যায় পড়তে হবে। সে বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রাখাও বাঞ্ছনীয় হবে। কিন্তু কোনোভাবেই কোভিড-১৯ এর কাছে আত্মসমর্পণ মেনে নেয়া যাবে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ