করোনা: সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে

আপডেট: মার্চ ২২, ২০২০, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

অদ্ভুত আমাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। জাতির কোনো দুর্যোগ মুহূর্তে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী আছেন যারা ওই নাজুক পরিস্থিতি তাদের অর্থ কামাইয়ের উদগ্র বাসনা চরিতার্থ করতে উঠেপড়ে লেগে যায়। এই নিষ্ঠুরতার সাথে অন্য কোনো নিষ্ঠুরতার তুলনা করা যায় কী? জাতির দুর্যোগে কোথায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিবে তা না করে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বাড়িয়ে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে ফায়দা লুটে। এরা মানুষকে জিম্মি করে যে নিষ্ঠুরতা দেখায় তার নজির সত্যিই পাওয়া দুষ্কর।
করোনাভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আজ শুধু বাংলাদেশের ব্যাপার নয়Ñ সারা বিশ্ব আজ আতঙ্কিত- অসহায়। ইউরোপ ও আমেরিকার দেশসমূহে করোনা ভাইরাস বাংলাদেশের চেয়েও ভয়াবহÑ কোনো কোনো দেশ চতুর্থ স্টেজ অতিবাহিত করছেÑ সেই সব দেশের ব্যবসায়ীরা বরং ভোক্তাদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বাড়ানো তো দূরের কথাÑ মূল্য কমিয়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় সহযোগিতা করছেন। বাংলাদেশ এর সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে পরিস্থিতিকে আরো ভয়াবহ করে তোলার অপ্রয়াস চালাচ্ছে।
মুনাফালোভী এই ব্যবসায়ীরা সরকারের নির্দেশ-উপদেশও মানছে না। যেকোনো উপায়েই তাদের অর্থ আয় করতেই হবে- হোকনা সেটা দেশের মানুষের সর্বনাশ করে। সরকার সিদ্ধান্ত দিচ্ছে- কোনো পরিস্থিতিইে সবাবেশ করা যাবে না। এই নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সমাবেশ অব্যাহত রাখছে। দৈনিক সোনর দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত এক খবরে উল্লেখ করা হয়েছে কতিপয় কমিউনিটি সেন্টার সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে লোক সমাগম করছে।
করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি প্রতিরোধে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রাইভেট, কোচিং বন্ধ ঘোষণাসহ জনসমাগম ঘটে এমন সকল সামাজিক অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করেছে সরকার। তবে এই নির্দেশনাকে উপেক্ষা করেই নগরীর কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে চলছে সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান। এক্ষেত্রে অবলম্বন করছেন কৌশল। কমিউনিটি সেন্টারের মূল গেট তালাবদ্ধ রেখে ভেতরে চলছে অনুষ্ঠান। আবার কেউ বলছেন এখনো আমরা কোনো নির্দেশনা পাইনি। কমিউনিটি সেন্টার সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, তাদের আগের কনট্রাক্ট থাকায় তারা অনুষ্ঠান আয়োজন করতে বাধ্য হয়েছেন। প্রথমত তারা সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করছেন, দ্বিতীয়ত তারা মানুষেকে মৃত্যুঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। জীবনের চেয়ে নিশ্চয় কন্ট্রাক্ট রক্ষা করা কোনো দায়িত্বশীল আচরণ নয়। গোটা জাতি যখন বিপদাপন্ন তখন এ এ ধরনের দায়িত্বহীনতা মারাত্মক অপরাধ হিসেবেই গন্য করা যায়। জাতীয় সমস্যা সেটা নিজেরও সমস্যা। কেউ যদি সেটা লোভের বশীভুত হয়ে না মানেন- তা হলে সেটা দেশের মানুষের সাথে তামাসা করারই নামান্তর। এই শ্রেণির মানুষেরা দেশের শত্রু, মানুষের শত্রু।
এই অশুভচক্রের বিরুদ্ধে সরকার হার্ডলাইনে থাকবে বলেই আমরা মনে করি। জনগণকে জিম্মি করছে যারা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাব দেখাতে হবে। এদের প্রতি নমনীয় হলেই এরা যেকোনো সর্বনাশ করতে পিছ পা হবে না। কেননা এরা লোভী, এদের অন্য কোনো পরিচয় নাই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ