কর্মচারীদের তালায় অচল রাসিক

আপডেট: জুলাই ১০, ২০১৭, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


প্রধান ফটকে তালা দিয়ে রাসিক কর্মচারিদের বিক্ষোভ-সোনার দেশ

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রধান ফটকে তালা দিয়ে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেছেন কর্মচারীরা। গতকাল রোববার সকাল থেকেই ১১ দফা দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করছে রাসিক কর্মচারী ইউনিয়ন। এ কর্মসূচি চলে দিনব্যাপি।
সকালে নগর ভবনের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে মানববন্ধন করেন আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীরা। এসময় সেখানে সমাবেশও করেন। ফলে প্রধান ফটক পেরিয়ে নগর ভবনে প্রবেশ করেতে পারেন নি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এর ফলে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে নগর ভবন। বন্ধ রয়েছে সকল কার্যক্রম।
তালা দেয়া হয়েছে রাসিকের পরিবহন শাখায়। নগরীর শালবাগান এলাকার রাসিক গ্যারেজে এ তালা দেয়া হয়। এর ফলে গড়েনি গাড়ির চাকা। ফলে রাসিকের বর্জ্য অপসারণ কাজ থমকে আছে। এছাড়া তালা পড়েছে রাসিক পরিচালিত শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানাতেও। এতে ফিরে গেছেন দর্শনার্থীরা। প্রতিদিন এ উদ্যান থেকে অর্ধলক্ষাধিক টাকা রাজস্ব আয় করে রাসিক। আন্দোলন চলাকালে নিরাপত্তায় সতর্ক অবস্থানে ছিলো পুলিশ। তবে এনিয়ে এখনো কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর মেলেনি।
আন্দোলনের অংশ হিসেবে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নগর ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন সিটি করপোরেশনের দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিকরা। এরপর তারা নগরভবনের সামনের সড়কে বসে বিক্ষোভ করছেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিলো। তবে সিটি মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল গতকাল নগর ভবনে ছিলেন না। দাফতরিক কাজে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন।
রাসিক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি দুলাল শেখ বলেন, গেল বছরের ২৪ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রে সিটি করপোরেশনের দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত দক্ষ নিয়মিত কর্মচারিদের দৈনিক ৫০০ টাকা এবং অদক্ষ অনিয়মিত কর্মচারীদের প্রতিদিন ৪৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু গেল এক বছরেও করপোরেশন কর্মচারিদের দৈনিক মজুরি বাড়ায়নি।
অন্য সিটি করপোরেশনে সরকারি নিয়মে বেতন দেয়া হলেও রাসিকে ৩৩০ টাকা করে দেয়া হয়। এতে রাসিকের ২ হাজার ২০০ জন কর্মচারি সরকারি নিয়মে তাদের মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাই ১১ দাফা দাবিতে কর্মসূচি শুরু করেছেন তারা। দাবি মানা না হলে আগামিতেও আন্দোলন চলবে বলে জানান তিনি।
আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবি, দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিক-কর্মচারীদের মজুরি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের পরিপত্র রয়েছে। সেটি মেনে অবিলম্বে মজুরি বৃদ্ধি করতে হবে। তাদের ১১ দফা দাবির এটিই মূল দাবি।
এছাড়া স্থায়ী কর্মচারীদের জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি দিতে হবে। স্থায়ী কর্মচারীদের গৃহ নির্মাণ ঋণ, মৃত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের পোষ্যদের চাকরি এবং মৃত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের অবসরকালীন ভাতা প্রদান করতে হবে। স্থায়ী কর্মচারীদের বদলি, শোকজ ও বরখাস্ত বন্ধ এবং বরখাস্তকৃতদের চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে।
সাংগঠনিক কাঠামো সংশোধন করে নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। মজুরিভিত্তিক কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ী, কল্যাণ তহবিল বাস্তবায়নে চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে হবে। স্থায়ী কর্মচারীদের পোশাক, জুতা ও ছাতা সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ করতে হবে। দাবি আদায়ে গত ১২জুন থেকে মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘটসহ নানান কর্মসূচি পালন করছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোনলনকারীরা।
রাসিক শ্রমিক ইউনিঢনের সাধারণ সম্পাদক আজমীর আহম্মেদ মামুন বলেন, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের বেতন অনয়িমিত। রাসিকের কাছে পাওনা ৪০ লাখ টাকা। তা এখনো পরিশোধ করেনি কর্তৃপক্ষ। ৫০ কোটি টাকা গৃহ নির্মাণ ঋণ দেয়ার কথা থাকলেও তা দিতে গড়িমসি করছে।
এছাড়া গত বাজেটে শ্রমিকদের জন্য যা বরাদ্দ ছিলো সেটিও বাস্তবায়ন হয়নি। উল্টো সম্প্রতি দেড়শতাধিক অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারী ছাঁটাই হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে আন্দোলনে নেমেছেন তারা। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে।
এদিকে রাসিকের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, গত ৫ এপ্রিল নতুনভাবে দায়িত্ব নেন মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। এরপর থেকে বেতন বকেয়া রেখেই বিভিন্ন বিভাগের ১৫৪ দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিক ও কর্মচারী ছাঁটাই হয়। এসব শ্রমিক-কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছিলেন কাউন্সিলর ও তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র নিযাম উল আযীম।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ