কর্মসৃজন কর্মসূচিসহ ১০ প্রকল্পের টাকা ভাগবাটোয়ারার অভিযোগ

আপডেট: মার্চ ২৩, ২০১৭, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি


গোদাগাড়ির মানিকচক স্কুল মোড় থেকে পাঞ্জাব চেয়ারম্যানের বাড়ি পর্যন্ত সংস্কার রাস্তার দৃশ্য- সোনার দেশ

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নে অতিদরিদ্র কর্মসৃজন কর্মসূচিসহ ১০টি প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা, চেয়ারম্যান ও কমিটির সদস্যরা প্রকল্পের ৮০ শতাংশ টাকা ভাগবাটোয়ারা করে বাকী ২০ শতাংশ টাকার কাজ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান ফৌজদার বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কাবিখা কর্মসূচির আওতায় ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৯টি প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পগুলি হচ্ছে চরআষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের দিয়াড়মানিক চক মৃত এরফান আলী মেম্বারের বাড়ি থেকে ডিএমসি বিওপি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, দিয়াড় মানিকচক স্কুল মোড় থেকে ভুবনপাড়া পাঞ্জাব চেয়ারম্যানের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, হুনমন্তনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ইসমাইলের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, দিয়াড়মানিক চক মৃত মুন্তাজ আলীর বাড়ি থেকে মোজাম্মেলের জমি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, দিয়াড়মানিক চক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (পশ্চিমপাড়া) মাঠ ভরাট, দিয়াড়মানিক চক শরিফুল মেম্বারের বাড়ি থেকে পাজারাপাড়া জামে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, চর বয়ারমারী সৈবুরের বাড়ি থেকে তোজাম্মেলের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, ভুবনপাড়া ঈদগাহ থেকে ঢ্যাবের মাঠের জামে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ও দিয়াড়মানিক চক আলাউদ্দীনের বাড়ি থেকে সব্দর হাজীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার। প্রতিটি প্রকল্পে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। ইতোমধ্যে দুই দফায় প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে অর্ধেক টাকা উত্তোলন করে নিয়েছে প্রকল্পের সভাপতি।
স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেন, প্রতিটি প্রকল্পে মাটি ভরাট করে রাস্তা ও মাঠ সংস্কার করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এসব প্রকল্পগুলিতে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করে রোটার দিয়ে লেভেল করে দেয়া হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় অতি দরিদ্র কর্মসৃজন কর্মসূচি (৪০ দিনের) প্রকল্পের শ্রমিক দিয়ে বিশেষ প্রকল্পগুলির কিছু মাটি উত্তোলন করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রকল্পের সভাপতি বলেন, বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতাকে ৩৫ শতাংশ, চেয়ারম্যানকে ৩৫ শতাংশ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস ম্যানেজসহ কমিটির সদস্যদেরকে ১০ শতাংশ টাকা দিতে হবে। আর প্রকল্পের মধ্যে থেকে ২০ শতাংশ টাকার যতটুক কাজ করা যায় তা করা হয়েছে।
চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্ বলেন, প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সঠিক নয়। প্রকল্পগুলি চলমান রয়েছে। জমিতে ফসল থাকার কারণে মাটি না পাওয়ায় প্রকল্পের কাজে নিয়ম অনুযায়ী মাটি দেয়া হয় নি। তবে সঠিকভাবেই প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ নেওয়াজ বলেন, প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে ৩য় কিস্তির টাকা বন্ধ করে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।