কলমের সঙ্গে বন্ধুত্ব

আপডেট: অক্টোবর ২৪, ২০১৬, ১০:৩৯ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক
বন্ধুত্ব অনেককিছুর সঙ্গেই হতে পারে। মানুষ, বই, গাছ, কলম কিংবা অন্যকিছু। বন্ধুত্বের তালিকায় কলমকে রেখেছেন নীলফামারীর মিজানুর রহমান।
তার শখ কলম সংগ্রহ করা। সংগ্রহের নেশায় কলমের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে তার।
তিনি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘প্রথমে কৌতূহলবশত আমি বিভিন্ন ধরনের কলম সংগ্রহ করতে থাকি। কিন্তু পরবর্তীতে এই সংগ্রহ আমার নেশায় পরিণত হয়। প্রথম দিকে আমি যখন কলম সংগ্রহ করতাম তখন হয়ত এর মর্মকথা বুঝতে না পারলেও আজ আমার হৃদয়ে কলম সংগ্রহ একটা তাড়নায় রূপ নিয়েছে। এখন ইচ্ছে করলেও এখন কলম সংগ্রহ থেকে নিজেকে রাখতে পারি না।’
কীভাবে কলম জোগাড় করেন? এই প্রশ্নের জবাবে মিজান বলেন, ‘দোকানদারকে ম্যানেজ করে কিংবা চড়া দাম দিয়ে সংগ্রহ করি। এভাবেই আমি বর্তমানে আমার কলম সংগ্রহশালায় যোগ করেছি প্রায় সহস্রাধিক নিত্য নতুন ধরনের কলম।’
আপনার সংগ্রহে কী কী ধরনের কলম আছে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ধরনের কলম আমার সংগ্রহশালায় আছে। বর্তমানে সংগ্রহশালায় প্রায় ১৩টি দেশের কলম রয়েছে। কিছু ব্যতিক্রমী কলম আছে যেমন, লাইটার কলম, গ্যাস ভরিয়ে আগুন জ্বালানো ও লেখা যায় এমন কলম, ছোট হারিকেনের মধ্যে কলম, আছে ক্যালেন্ডার সংবলিত কলম, ফুলের তোড়া সজ্জিত কলম। এছাড়া কিছু কলম আছে লম্বায় ২৯ থেকে ৬০ সে.মি।’
কলম সংগ্রহের উদ্দেশ্য সম্পর্কে মিজানুর রহমান বলেন, ‘কালের পরিবর্তনে বেশ কিছু কলম এখনই হারিয়ে যেতে বসেছে, যেমন দোয়াত-কলম। কালি নিয়ে নিয়ে লিখতে হত। এখন বিলুপ্ত প্রায়। সেটি এখন আমার সংগ্রহে আছে। এরকম নানা ধরনের কলম আছে যেগুলি এখন আর দেখা যায় না। এসব কলম আমি সংগ্রহ করেছি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য।’
এ সময় তিনি যেসব ব্যক্তি বিভিন্ন কলম দিয়ে সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘কলম সংগ্রহশালা দেখতে এখন অনেকেই এখানে আসছে। এছাড়া আমি ম্যাজিকও জানি। অনেকে কলম দেখতে এসে আমার ম্যাজিক দেখতে চায়। আমিও আগ্রহ ভরে তাদেরকে ম্যাজিক ও কলম দেখাই।’
তিনি দেশের মানুষের কাছে আবেদন জানান, কারো কাছে যদি কোনো ধরনের নতুন কোনো কলম থাকে তাহলে তারা যেন এই কলম সংগ্রহশালায় দান কিংবা অর্থের বিনিময় দিয়ে যান।