কলেজগুলোকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দূর্গ বানাতে চাই : বাদশা

আপডেট: জুলাই ১৬, ২০১৭, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


বঙ্গবন্ধু কলেজের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা-সোনার দেশ

রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ ও বঙ্গবন্ধু কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জননেতা ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, দেশের কলেজগুলোকে আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দুর্গ বানাতে চাই। এই চেতনা ছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে কোনো অবদান রাখা সম্ভব না। তাই শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জানতে হবে, বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তুলতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই ৭২-এর সংবিধানে ফিরে যেতে হবে। আমরা যে ৭২-এর সংবিধান প্রতিষ্ঠার পথ ধরে এগুচ্ছি, এ পথ থেকে কেউ আমাদের টলাতে পারবে না।
জনাব বাদশা বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন। এই আইনের মধ্যেই রাষ্ট্রের সমস্ত প্রতিষ্ঠান কাজ করবেÑ এই আইনের বাইরে কেউ যেতে পারে না।
গতকাল শনিবার রাজশাহী বঙ্গবন্ধু কলেজে এইচএসসি শিক্ষার্থীদের রিসিপশন এবং ওরিয়েন্টেশন অনুৃষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বঙ্গবন্ধু কলেজের অধ্যক্ষ নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওরিয়েন্টেশনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পারভেজ রায়হান। স্বাগত বক্তব্য দেন, কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. কামরুজ্জামান। অভিভাবকদের মধ্যে বক্তব্য দেন, আব্বাস উদ্দিন মোল্লা ও আব্দুস সোবহান।
বাদশা বলেন, বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু কলেজে যারা পড়বে, তাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কী এবং সংবিধানের চার মূলনীতি কী- তা জানতে হবে। তরুণরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কী জানবে না, তারা কেউ জঙ্গি হবে, কেউ মৌলবাদী হবে আবার কেউ পাকিস্তানের স্বপ্ন দেখবে তা হবে না। তাই কলেজগুলোকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দূর্গ হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। চার মূলনীতি বাস্তবায়ন করতে হবে। আর চার মূলনীতি এমনভাবে আত্মস্থ করাতে হবে যাতে ভবিষ্যতে যদি আবার মুক্তিযুদ্ধের প্রয়োজন পড়ে তাতে যেন তারা ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুর নামে এ কলেজ। এটি যদি একটি প্রতিষ্ঠিত কলেজ না হয়, তাহলে অনেকে রাজশাহীর মানুষকে অকৃতজ্ঞ ভাববে। কিন্তু রাজশাহীর মানুষ এতো অকৃতজ্ঞ নয় যে বঙ্গবন্ধুকে সম্মান দেখাবে না। বঙ্গবন্ধু কলেজ সঠিক পথে এগিয়ে চলেছে। কিছু দিনের মধ্যে এ কলেজ রাজশাহীর এক নম্বর কলেজে পরিণত হবে। ভবিষ্যতে এমন একদিন আসবে যে বঙ্গবন্ধু কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে পরিণত হবে। আর অচিরেই যেন এ কলেজটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে পরিণত হয় এর জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে একটি প্রস্তাবনা পৌঁছে দেবো।
তিনি বলেন, আমি আরডিএর চেয়ারম্যানকে বলেছি এ কলেজের জায়গা সংকুলান হচ্ছে না। এর জন্য জায়গা দিতে হবে। জায়গা হয়ে গেলেই কলেজের নতুন ভবন হবে। এর ফলে যারা নতুন ছাত্রছাত্রী আসছে তারা আশ্বস্ত হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য আকবারুল হাসান মিল্লাত, শিক্ষক নেতা বাবু রাজকুমার সরকার, কলেজের এইচএসসি কোর্স কোঅর্ডিনেটর শাহানার আখতার, কলেজের সহকারী অধ্যাপক মিয়াজ উদ্দিন, আব্দুল্লাহিল সাফি, লুৎফর রহমান, লাইলুন নাহার, আব্দুস সালাম, ওয়াহেদা সুলতানা বাবলী, ইকবাল হোসেন, শেলিমা ইয়াসমিন, অসীম কুমার দাস, মাসহুদুর রহমার বাপ্পী, শহীদুল ইসলামসহ শিক্ষকমণ্ডলী।
পরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন, ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক মাসুদ রানা। সঞ্চালনায় ছিলেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক রেবেকা সুলতানা ও শিক্ষার্থী সাইদ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ