কলেজছাত্রকে আটকে রেখে ইউপি সদস্যের চাঁদা দাবির অভিযোগ || ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পর থানায় ধর্ষণ মামলা

আপডেট: জুন ৯, ২০১৭, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

দুর্গাপুর প্রতিনিধি


দুর্গাপুর উপজেলার তেঘর গ্রামে এক কলেজছাত্রকে ঘরে আটকে রেখে চাঁদা দাবির অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের ইন্ধনে ওই যুবককে আটকে রেখে চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন আটককৃত যুবকের বাবা। পরে দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরে ওই যুবকের বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়।
গত বুধবার রাতে মামলা দায়েরের পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আটককৃত যুবক জিল্লুর রহমানকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। এছাড়া ভুক্তভোগী ছাত্রীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে পরীক্ষা করায় পুলিশ।
জানা গেছে, উপজেলার বাজু খলসী গ্রামের বাবর আলীর ছেলে কলেজ পড়–য়া ছাত্র জিল্লুর রহমান (২৬) মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার তেঘর গ্রামে চাচা আনারুল ইসলামের বাড়িতে বেড়াতে যায়। সন্ধ্যার দিকে চাচার বাড়ির পাশেই ভ্যানচালক জাবেদ আলীর স্ত্রী ও মেয়ে পিংকী জিল্লুর রহমানকে কৌশলে তাদের বাড়িতে ডেকে নেয়। পরে তাকে ঘরে আটকে রেখে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে পিংকীকে বিয়ের জন্য জিল্লুরকে চাপ প্রয়োগ করা হয়। তবে এ ঘটনার পুরোটা জুড়েই জড়িত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ছলিম উদ্দিন ও মাসুদ নামের যুবক। পরে জিল্লুরের বাবা বাবর আলীকে মোবাইল ফোনে ঘটনাটি জানায় ইউপি সদস্য ছলিম উদ্দিন। এমনকি ছেলেকে ছাড়িয়ে নিতে চাইলে এক লাখ টাকা লাগবে বলেও জানায় ইউপি সদস্য ছলিম উদ্দিন।
জিল্লুর রহমানের বাবা বাবর আলী জানান, তিনি তার ছেলেকে ছেড়ে দিতে বললে ইউপি সদস্য ছলিম উদ্দিন ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা এক লাখ টাকা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে না চাইলে তার ছেলেকে মারধর করেন তারা। এভাবে এক দিন এক রাত পার করে শেষ পর্যন্ত বুধবার বিকেলে তার ছেলেকে থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়।
বাবর আলী অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে আটকে রাখা হয়েছে এ বিষয়ে থানার ওসিকে জানানো হলে ওসি টাকা পয়সা দিয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করে নিতে বলেন। ছেলেকে উদ্ধারে বারবার ওসিকে বলা হলেও ওসি বারবার একই কথা বলেন।
ইউপি সদস্য ছলিম উদ্দিনের সঙ্গে আঁতাত করে ওসি বুধবার রাতে জাবেদ আলীর মেয়েকে থানায় নিয়ে এসে তার ছেলের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ মামলা দায়ের করায়। পরেরদিন বৃহস্পতিবার তার ছেলেকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ব্যাপারে মিথ্যা মামলা থেকে ছেলেকে বাঁচাতে পুলিশের ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন বাবর আলী। ইউপি সদস্য ছলিম উদ্দিনের সাথে এ ব্যপারে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয় নি।
জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মনিরুজ্জামান জানান, ধর্ষণের অভিযোগ এনে ভুক্তভোগী নিজেই জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। বৃহস্পতিবার জিল্লুরকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়। অপরদিকে ভুক্তভোগীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ডাক্তারি প্রতিবেদন পাওয়া গেলে ধর্ষণ সম্পর্কে নিশ্চত হওয়া যাবে।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ওসি রুহুল আলমের সাথে কথা বলা হলে তিনি বাবর আলীর অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, ভুক্তভোগী নিজেই যখন থানায় এসে মামলা দায়ের করেছে। এক্ষেত্রে পুলিশের কিছু করার থাকে না।