কলেজছাত্রীকে নেশাদ্রব্য খাইয়ে তিন বন্ধু মিলে ধর্ষণের অভিযোগ

আপডেট: আগস্ট ২৬, ২০১৭, ১:৩৩ পূর্বাহ্ণ

বাগাতিপাড়া প্রতিনিধি


নাটোরের বাগাতিপাড়ার কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট স্যাপার কলেজের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে নেশাদ্রব্য খাইয়ে তিন বন্ধু মিলে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার ওই ছাত্রীর মা বাদি হয়ে চার জনকে অভিযুক্ত করে বাগাতিপাড়া থানায় মামলা করেছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে দুই জনকে আটক করে গতকাল শুক্রবার জেলহাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট স্যাপার কলেজে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ভর্তি হয় ওই ছাত্রী। এরপর থেকেই একই কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র পার্শ্ববর্তী লালপুর উপজেলার দাঙ্গাপাড়া গ্রামের মহরম আলীর ছেলে তুষার আলী ওই ছাত্রীকে প্রায়ই প্রেমের প্রস্তাব দিতো। তাতে সাড়া না দেয়ায় গত ১২ জুলাই ছাত্রীকে তার বান্ধবী মেঘলা খাতুনের সহযোগিতায় নেশাদ্রব্য খাইয়ে কলেজের গেট থেকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তুষার এবং তার অপর দুই বন্ধু ইমন ও তুষার ইমরান মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। তুষারের ওই দুই বন্ধুও একই কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। ইমন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার শ্রীবতীপাড়া গ্রামের ওবাইদুর রহমানের ছেলে এবং তুষার ইমরান নাটোরের নলডাঙ্গা থানার পূর্বমাধনগর গ্রামের সালামের ছেলে।
অভিযোগে আরো বলা হয়, ধর্ষণের সময় ওই দৃশ্য বান্ধবী মেঘলা খাতুন মোবাইল ফোনে ভিডিও করে রাখে। এরপর ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে একাধিকবার ওই তিন বন্ধু ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে ছাত্রীর শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে দয়ারামপুর সিএমএস হাসপাতালে ২০ জুলাই তাকে ভর্তি করা হয়। সেখানে ২৪ জুলাই পর্যন্ত চিকিৎসা নেয় সে। অভিযুক্তদের এসব পাশবিক অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ৬ আগস্ট হারপিক পানে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে ওইদিন তাকে বগুড়া সিএমএস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত চিকিৎসা নেয় ওই ছাত্রী। পরে বৃহস্পতিবার বাগাতিপাড়া থানায় চার জনকে অভিযুক্ত করে ওই ছাত্রীর মা মামলা করেন।
এদিকে অভিযুক্তদের প্রধান আসামি তুষার আলীকে ওইদিন দয়ারামপুরের একটি ছাত্রাবাস থেকে বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন ও তিন রাউন্ড গুলিসহ র‌্যাব-৫’র একটি দল আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। তুষার আলীর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনেও অপর একটি মামলা হয়েছে। এদিকে একইদিনে ছাত্রীর বান্ধবী সহযোগী মেঘলা খাতুনকে একই এলাকার অপর এক ছাত্রীনিবাস থেকে আটক করে পরদিন শুক্রবার দুই জনকেই জেলহাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
এ ব্যাপারে বাগাতিপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রধান আসামিসহ সহযোগিকে আটক করা হয়েছে। এরসঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আটকের চেষ্টা অব্যাহত আছে।