কাঁচা রাস্তা আর পাকা হয় না

আপডেট: মে ২৪, ২০২১, ৯:৩৭ অপরাহ্ণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :


চলাচলের গুরুত্ব মাধ্যম হচ্ছে রাস্তা। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই গ্রামীণ জনপদকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তার বিন্দুমাত্র চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরবেষ্টিত নারায়ণপুর ইউনিয়নে এর কোনো ছোঁয়া লাগেনি। বৃষ্টি হলে কাদা মাড়িয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ গ্রামবাসীকে এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে এসব রাস্তার পাশের মানুষের এ করুণ অবস্থা দেখার কেউ আছে বলে মনে হয়না। অথচ দীর্ঘদিন ধরে পাকা রাস্তা নির্মাণে আজও কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছেনা বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
জানা গেছে, সদর উপজেলার দুর্গম চর নারায়ণপুর ইউনিয়ন ১৬ টি গ্রাম নিয়ে ১৭ হাজার ১১৩ মানুষের বসবাস। পদ্মা নদী বেষ্টিত এ ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ গবাদি পালন ও কৃষির উপর নির্ভরশীল। দুর্গম চরবেষ্টিত ইউনিয়ন হওয়ায় কাঁচা রাস্তাগুলো আজও পাকা হয়নি। বৃষ্টি হলে এ রাস্তায় চলাচলকারী মানুষকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। রাস্তাগুলো আদৌতে পাকা হবে কিনা তা এ অঞ্চলের মানুষের সন্দিহান। এছাড়া উৎপাদিত ফসলসহ অন্যান্য পণ্য নিয়ে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁচা রাস্তা পারি দিতে এক ঘণ্টা সময় লাগে পদ্মা পাড়ে আসতে। তারপর কী বর্ষা কী খরা মৌসুম নদী পার হতে দীর্ঘ ২ ঘণ্টা সময়, এরপর আশপাশের ইউনিয়নসহ জেলা শহরে আসতে সময়ের হিসেব আর থাকে না। এই হলো দূর্গম চরের নিত্যদিনের দৃশ্য। বত্রিশরশিয়া গ্রাম হয়ে জাওনিয়া, কালুপুর, মাঝচর, দেবীপুর, জোহরপুর বিওপির পশ্চিম পাড়ের মানুষকে চলাচলে বেগ পেতে হচ্ছে। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেবীপুর যাবার রাস্তাটি পাকা করলে চলাচলে কিছুটা লাঘব হতো। এ রাস্তাগুলো পাকা করার দাবি দীর্ঘ ৩০ বছরের। ২০১৪ সালে তৎকালীন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ও বর্তমানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদসহ তৎকালিন জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর কবির এ অবহেলিত ইউনিয়ন পরিদর্শন করেন। এলাকার মানুষ হয়তো ভেবেছিলেন এবার হয়তো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগবে। তাদের সে স্বপ্ন তিমিরেই রয়ে গেছে।
নারায়ণপুরের বাসিন্দা শরিয়তুল্লাহ লাহু জানান, বৃষ্টি হলেই কাঁচা রাস্তায় কাদাপানি জমে পুরোপুরি চলাচলে অনুপযোগি হয়ে পড়ে। তখন মোটরসাইকেল দূরের কথা সাইকেল চলতে পারে না, এমনকি হেঁটে চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে। শুনেছিলাম বিগত কয়েক বছর আগে পাকা রাস্তার জন্য টাকা বরাদ্দ হয়েছিল, পরবর্তীতে টাকাটা ফেরত গেছে। তিনি আরো জানান, অনেক কর্তা ব্যক্তি এ অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু যে অবস্থা ছিল, সেরকমই রয়ে গেছে। এলাকার কয়েকজন শিক্ষক জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা করতে গ্রামের ছেলেমেয়েরা কাঁচা রাস্তা ব্যবহার করে মাহমুদা মতি উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়, নারায়ণপুর আদর্শ কলেজ, নারায়ণপুর দারুল হোদা আলিম মাদরাসায় যাতায়াত করে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের চরম অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয়। কৃষক সোহবুল হক জানান, অসুস্থ রোগী দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এছাড়াও রাস্তা খারাপের কারণে চাষাবাদের সময় সার, আলু বীজসহ যেকোনো কৃষি উপকরণ আনা নেয়ার ক্ষেত্রেও তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। চরাঞ্চল হওয়ায় কর্তৃপক্ষের নজরে পড়ছে না। রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করেন স্থানীয়রা।
নারায়ণপুর ইউপি’র প্যানেল চেয়ারম্যান মোমিন শরীফ জানান, কয়েকবছর ধরে এ ইউনিয়নে নদী ভাঙ্গন অনেকাংশে কমে এসেছে। এ গ্রামের বাসিন্দারা পাকা রাস্তার অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এ ইউনিয়নে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা পরিদর্শন করেন। জেলা প্রশাসকের নিকট পাকা রাস্তা নির্মাণের জন্য স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপ-পরিচালক এ কে এম তাজকির-উজ-জামান জানান, এলজিএসপি প্রকল্পে যোগাযোগের খাত রয়েছে, সেখান থেকে যতটুকু পারেন উঠান বৈঠক ও সভা করে চেয়ারম্যান প্রকল্প তৈরি করে দিলে তা অনুমোদন দেয়া হয়। পাকা রাস্তার বিষয়ে জেলা প্রশাসককে যদি আবেদন দিয়ে থাকেন তাহলে এ বিষয়টি নিয়ে দেখা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ