কাঁঠালবাড়ীয়া শহিদ আবুল কাশেম স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ আমিনুলকে সাময়িক বরখাস্ত

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২২, ৯:৫৫ অপরাহ্ণ

দুর্গাপুর প্রতিনিধি:


রাজশাহীর দুর্গাপুর কাঁঠালবাড়ীয়া শহিদ আবুল কাশেম স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎ, অনিয়ম, দুর্নীতি ও শিক্ষক-র্কমচারীদের সাথে স্বেচ্ছাচারিতা ও অমানবিক আচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি।

শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) কাঁঠালবাড়ীয়া শহিদ আবুল কাশেম স্কুল ও কলেজের সভাপতি আশরাফ আলীর স্বাক্ষরিত এ সাময়িক বরখাস্তের এক চিঠিতে জানা যায়। এসময় প্রতিষ্ঠানের কর্মরত ৫২ জন শিক্ষক-কর্মচারী অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিচালনা কমিটির কাছে ন্যায় বিচার দাবিও করেন।

জানা গেছে,গত ২২ জুন ২০১৯ সালে কাঁঠালবাড়ীয়া শহিদ আবুল কাশমে স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করনে আমিনুল ইসলাম। যোগদানের পর থেকেই তিনি একের পর এক অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। সেই সাথে প্রতিষ্ঠানের কর্মরত সকল শিক্ষক কর্মচারীদের সাথে করতে থাকেন স্বেচ্ছাচারিতা ও অমানবিক আচরণ।

এমন অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতামূলক আচরণের অভিযোগ তুলে ওই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের ৪৪জন শিক্ষিক-কর্মচারীদের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ উপজেলা মাধ্যমিক অফিস, ইউএনও অফিস, জেলা শিক্ষা অফিস, উপপরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহী অঞ্চল, চেয়ারম্যান/ সচিব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড বরাবর প্রদান করেন। অভিযোগে উঠেছে অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম নিজের ব্যক্তিগত কাজেও করেছেন একাধিক টাকার বিল ভাউচার। তিনি গত এক বছরে খরচ করেছেন ২ লাখ ২৩৮ টাকা।

তিনি প্রকৌশল অধিদফতরে গিয়েছেন ২০ দিন, যার বিল করেছেন ৪৩ হাজার ৬১০ টাকা, এমপির বাড়িতে গিয়েছেন গিয়েছেন ৪৮ দিন, বোর্ড অফিসে গিয়েছেন ৩৭ দিন-বিল করেছেন ১৭ হাজার ৪২০টাকা, ডিও অফিসে গিয়েছেন ৯ দিন, বিল করেছেন ৬ হাজার ৫৯০ টাকা, ইউএনও অফিসে গিয়ছেন ১৪ দিন, যার বিল করেছেন ৩ হাজার ৯২০ টাকা, তার ব্যক্তিগত মোবাইল বিলের

বিল করেছেন ১৬ হাজার ৫৪৪ টাকা, সমিতি ও অন্যান্য বাবদ বিল করেছেন ১৯ হাজার ৬৫৯ টাকা, গাছ ও টয়লেটবাবদ বিল করেছেন ২ হাজার ৪৩৫ টাকা, মাধ্যমিক অফিস বাবদ ১৭ হাজার ৪৮০ টাকা, পূর্বের সভাপতি বাবদ ৩ হাজার ৭০০ টাকা, সম্মাননা বাবদ ২০ হাজার ৯০ টাকা, চাঁদা বাবদ ১ হাজার ৩৪০ টাকা, ইউনিয়েন খরচ বাবদ ৫৬০ টাকা ও বিটল ভাই ৮ হাজার ৭৫০ টাকা।

এদিকে,২০২১ সালের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন প্রকার হিসাব প্রকাশ দিতে অস্বীকার করেছেন পরিচালনা কমিটির কাছে অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম। প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি হিসাব চাইলেই সে প্রতিষ্ঠানে আসা বন্ধ করে দেন। এমনকি কোন প্রকার অজুহাত ছাড়াই সে হিসাব দিতে অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ তুলেছেন পরিচালনা কমিটি।

এদিকে, কাঁঠালবাড়ীয়া শহিদ আবুল কাশেম স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরাও অভিযোগ করেন যে ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার প্রশংসা পত্রের জন্য ৫শত টাকা করে জোরপূর্বক আদায় করেন।

কাঁঠালবাড়িয়া শহিদ আবুল কাশেম স্কুল ও কলেজের শিক্ষক ফরহাদ হোসেন, আব্দুর রকিব, আবু বক্কর সিদ্দিক, আব্দুল মতিন জানান, অধ্যক্ষ স্যার প্রায় প্রতিটি কাজেই অনিয়ম করে থাকেন। এবিষেয় তাকে কিছু বলতে গেলেই হুমকি দেন। একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান তিনি তাঁর আচার আচরণ হবে একজন অভিভাবকের মত। অথচ তাঁর আচরণে পুরো স্টাফ বির্মষ। প্রতিটি শিক্ষক কর্মচারীদের সাথে তিনি খুব খারাপ আচরণ করেন। তাঁরা যে সকল দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তাদের নিকটে তদন্তপূর্বক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি অস্বীকার করেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন। তবে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি তাকে দুইবার কারণ দর্শানোর নোটিশ করে। এতে আমি দ্বিতীয়বারের লিখিত জŸাব দিয়েছি। তিনি আরো বলেন, এটা আমার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করে আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ