কাঁদোরে বাঙালি

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৭, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

গিয়াস উদ্দীন দেওয়ান


আমি লক্ষ বাঙালির অধিকার নিয়ে
সর্ব প্রথম প্রতিবাদ করি।
আমি পাকি শাসকদের অন্যায়ের কাছে
আপোষ নাহি করি।
আমি এই বাংলার দুঃখী মানুষের পাশে
আপদে-বিপদে থাকি।
আমি তোমাদের লাগি কারা ভোগ করেছি
মাসের পর মাস ধরে।
আমি শত নির্যাতন সহ্য করেছি
তবুও সিদ্ধান্তে ছিলাম অটল।
আমি ৭ই মার্চ গর্জে উঠে বলেছি
এই বাংলা স্বাধীন করবো।
আমি রেসকোর্স ময়দানে লক্ষ জনতার মাঝে
বলেছি জয় বাংলার কথা।
আমি তোমাদের বলেছি অস্ত্র তুলে নিতে
“যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করো”।
আমি যাকে পেয়েছি বুকে জড়িয়ে ধরেছি
সবাই আমার ভাই।
আমি যেদিকে তাকাই সেদিকেই আমার ভাই
কার বিচার করে যাই।
আমি স্বাধীনতার জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছি
শুধু চেয়েছি দুঃখী মানুষের হাসি দেখতে
আমি আগরতলা ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়েছি
আইয়ুব খান দিতো যদি ফাঁসি।
আমি মৃত্যুকে কখনো করিনি ভয়
শুধু তোমাদের কথা ভেবে।
আমি বার-বার বলেছি তোমরা আমার ভাই
ইতিহাস স্বাক্ষী দিবে।
১৫ই আগস্টে হত্যা করা হলো আমায়
কি দোষ ছিলো আমার?
আমার কোলের শিশু রাসেলকেও হত্যা করা হলো
কি অপরাধ ছিলো তার?
আমি ফারুক, রশীদ ও ডালিমকে বলেছিলাম
কে গুলি করবি আমায়?
বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে চাস
কোথায় পেলি সাহস?
ফারুকের হাতে বন্দুক ছিল
সে গুলি মেরে দিলো আমায়।
আমি বুলেটের আঘাতে ধরাশয়ী হয়ে
মাটিতে ছিটকে পড়ে যাই।
আমার সমস্ত শরীর রক্তাক্ত হয়েছিলো
শুধু দেখেছিল ঐ বিধাতা।
এ আকাশ বাতাস স্বাক্ষী দিবে
কাল কিয়ামতে যাবি কোথায়?
আমার আত্মা শুধু বলেছিল ওদের
আর মেরোনা আমার পরিবার।
চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী
সকলকে পাঠালো যমের দ্বার।
ভয়ে রাসেল জড়ো সড়ো হয়ে
লুকিয়ে ছিল খাটের চিপায়
ঘাতকের নজর না পারিল এড়াতে
কে বাঁচাবে এবার তোমায়?
অনেক কান্না কাটি করলো রাসেল
মা-মা ডেকেছিল বার বার।
কাকুতি মিনুতি করেছিল অনেক-
আর মেরোনা আমায়।
ঘাতকের দল বলেছিল তাকে
মাকে দেখবি তবে আয়
নিষ্পাপ শিশুকে বুলেট মেরে
পাঠিয়ে দিল যমের দ্বার।
আমার আত্মা বলেছিল তখন
আর মেরোনা আমার সোনা
বিন্দু পরিমাণ হলোনা দয়া
চির নিদ্রায় পাঠালো তাহায়।
আমি নির্বাক আমি নিস্তব্ধ
আমার চোখের সম্মুখে
সকলকে করে দিল স্তব্ধ।